আমাদের কথা

ফেব্রুয়ারি মাস পড়ল। বারান্দার টবের পাতাঝরা রুগ্ন টগর গাছটায় কুঁড়ি দেখা দিয়েছে। দুটো ছোট ফুলও ফুটেছে। ঘরের পাখাটা দীর্ঘদিনের ছুটি কাটানোর পর আড়মোড়া ভেঙে কাজে যোগ দিয়েছে। তবে খানিক অনিয়মিত। বসন্ত আসছে। প্রকৃতিতে তারই কিছু বার্তা বয়ে আসছে। এ এক অদ্ভুত সময়। না-শীত না-গ্রীষ্ম। মাঝে মাঝে বয়ে আসা মৃদু বাতাস মনটাকে উৎফুল্ল করে দেয়। আবার কখনও কখনও চড়া রোদ শীতের সেই সয়ে যাওয়া আমেজটাকে মুহূর্তে সরিয়ে দিয়ে মনের কোণে গ্রীষ্মের ভয়ঙ্কর দাবদাহের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। কথায় বলে - এক মাঘে শীত যায় না... আগেকার দিনে হয়ত যেত না, কিন্তু এখন যায়। শীতের এখন ঘরে ফিরে যাবার বড় তাড়া। তার এখন অতীতকে ভুলে থাকাতেই আনন্দ।

প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনার খানিক আঁচ মানুষের মনেও পড়েছে। কোথায় যেন পড়েছিলাম প্রকৃতি পরোক্ষে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ফেব্রুয়ারির একুশেই ভাষা শহিদ দিবস। যা বাংলাদেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের দিকে দিকে পালিত হয়। উগ্র মৌলবাদ অধ্যুষিত বর্তমান বাংলাদেশে এবছর এই দিনটি কিভাবে পালিত হবে (বা আদৌ পালিত হবে কিনা) তা নিয়ে অনেকের মনেই ঘোর সংশয় রয়েছে। একথা অস্বীকার করা যায় না একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে গত ৫৪ বছরে নানা ভাবে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধীরে ধীরে খর্ব হয়েছে। আর আশ্চর্য ওখানকার মানুষেরা বার বার সেসব সয়েও নিয়েছেন। উগ্র মৌলবাদীদের রোষের হাত থেকে কবি দাউদ হায়দারকে রক্ষা করতে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তাঁকে বিমানে করে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তসলিমা নাসরিন সহ বহু মুক্তচিন্তার মানুষদের দেশত্যাগ করতে হয়েছে। প্রগতিশীল মানুষ, যাঁরা দেশে থেকে নানা মাধ্যমে মৌলবাদের প্রতিবাদ করেছেন, দুর্ভাগ্য তাঁদের বেশিরভাগকে দেশের মধ্যেই হুমকির সন্মুখীন হতে হয়েছে বা অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। তবে এতকিছুর পরও একটা বিষয় পরিষ্কার - কিছু মূর্তি ভেঙে, বাড়ি পুড়িয়ে আর মানুষ হত্যা করে ইতিহাস কখনও মোছা যায় না। ইতিহাস থাকে মানুষের হৃদয়ে। ইতিহাসের জোরের জায়গা এটাই। করুণা হয় উগ্র মৌলবাদীদের প্রতি, শত মানুষের হৃদয় থেকে ইতিহাস মোছার কৌশল তারা এখনও আয়ত্ত করে উঠতে পারেনি।

বসন্ত আসছে... আসবেই...

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫