সম্পাদকীয়

হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী...

আজ পৃথিবীর বুকে ভয়ংকর যুদ্ধের উন্মত্ততা মানব সভ্যতার সামনে চরম বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও বিপুল সংখ্যায় প্রাণহানির সংবাদ বিশ্বের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের হৃদয়কে যেমন আহত করছে, তেমনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভেরও সঞ্চার করছে। ঘাতক ইজরায়েলের বোমার আঘাতে প্যালেস্তাইনের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত শত শত মৃত শিশুর ছবি আজ বিশ্বমানবতা ও বিবেককেই যেন দংশন করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলেছে টানা প্রায় তিন বছর। এইসব যুদ্ধ চলবে আরও দীর্ঘ সময়, তারই আবহ তৈরি হচ্ছে। এখন সংবাদ মাধ্যম জুড়ে বোমারু বিমান, যুদ্ধ জাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, ড্রোন হামলা, মৃত্যু ও ধ্বংসের বীভৎসতা ইত্যাদি নিয়ে নানা খবরের ছড়াছড়ি। কোথাও কোথাও তেজষ্ক্রিয়তা বিকিরণের মতো ভয়াবহ ঘটনাও সংবাদ মাধ্যমে ভেসে আসছে। ক্ষমতার নেশায় মদমত্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ইজরায়েল ও ইউক্রেনের মতো তাঁবেদার দেশগুলিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দিয়ে, সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সরাসরি ইরানের উপর বোমা নিক্ষেপ করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এই আপৎকালীন সময়ে আত্মরক্ষার জন্য গৃহের থেকে বাঙ্কার এখন যেন বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে যখন গোটা পৃথিবীতে শান্তিকামী মানুষ যুদ্ধের বিরুদ্ধে, যুদ্ধোন্মাদ মার্কিনি আগ্রাসী ভূমিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন ভারত সরকারের নিশ্চুপ অবস্থান এবং রাষ্ট্রসংঘের জরুরি বৈঠকে যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে ভোটদানে বিরত থাকা জোট নিরপেক্ষতার আদর্শ ও বিশ্বশান্তির পক্ষে তার চিরন্তন অবস্থানকেই নস্যাৎ করছে। বিশ্বের ৮২.৭ শতাংশ দেশ যখন যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছে, তখন অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গণ্য ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সখ্যের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে নীরবচারী হয়ে প্রকৃতপক্ষে দেশের চিরায়ত ঐতিহ্য, সম্মান ও মর্যাদাকেই বিনষ্ট করেছে। অন্যদিকে এই সরকারই সর্বনাশা হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উন্মত্ততায় মানুষে-মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ-বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে আমাদের দেশের শান্তি-সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির সুপ্রাচীন ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে।

পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ধ্বংস ও বিপন্নতার মাঝেও জারি থাকে সৃষ্টির সংগ্রাম। রচিত হয় সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা, নাটক, চলচ্চিত্র ইত্যাদি নানা অবিনাশী শিল্পসম্ভার। এই প্রয়াস কখনোই থেমে থাকতে পারেনা। এই আবহেই 'সকল দ্বন্দ্ববিরোধ-মাঝে জাগ্রত যে ভালো'-র বার্তা নিয়ে 'ডটপেন ডট ইন' ই-পত্রিকার দ্বিতীয় বর্ষ চতুর্থ সংখ্যার প্রকাশ ঘটলো...

 

১৫ জুন, ২০২৫