'ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো'
ডিসেম্বর মাস পড়ল। বাতাসে ঠান্ডার আমেজ। বাঙালির প্রিয় পৌষ। সূর্যের ওম গায়ে মেখে নিয়ে বেড়ানো, খাওয়াদাওয়া... এরই মধ্যে আমাদের পত্রিকা প্রকাশের ব্যস্ততা। যাঁরা লিখবেন তাঁদের তাগাদা দেওয়া, প্রুফ দেখা, লেখায় দেবার জন্য উপযুক্ত ছবি খুঁজে বের করা, পাঠকদের চিঠিপত্রের উত্তর দেওয়া ইত্যাদি নানা কাজ।
শীতকালে একটা সুবিধা রয়েছে, শত কাজ থাকলেও গলদঘর্ম হতে হয় না। কাজে উৎসাহ পাওয়া যায়। তার ওপর আবার পত্রিকা দ্বিতীয় বর্ষ পূর্ণ করে তৃতীয় বর্ষে পা রাখল। এই সমস্ত কাজে মগ্ন থাকার পর একটু শ্বাস নিতে আপন হতে বাহির হয়ে যেই দাঁড়িয়েছি, সম্মুখীন হলাম একের পর এক দুর্ঘটনার - বিশিষ্টজনের মৃত্যুসংবাদ, সেইসঙ্গে পড়শি দেশে অরাজকতা – যদিও তা প্রায় যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে উঠেছে...
পত্রিকা প্রকাশের সব কাজ প্রায় গুছিয়ে যখন প্রকাশের মুখে, তখনই জানা গেল উগ্র ধর্মান্ধ মুসলিম মৌলবাদী হিংসায় আবারও অশান্ত বাংলাদেশ! উন্মত্ত মৌলবাদীদের আগুনে ভস্মীভূত রবীন্দ্র-নজরুল-লালন চর্চার ঐতিহ্যমণ্ডিত প্রতিষ্ঠান 'ছায়ানট'। পুড়িয়ে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন 'উদীচী'। সংবাদ মাধ্যমও এই হিংস্র মৌলবাদীদের রোষানল থেকে রেহাই পায়নি। সেখানকার দুই প্রথম শ্রেণির দৈনিক 'প্রথম আলো' এবং 'ডেইলি স্টার' দপ্তরে অগ্নিসংযোগ করে ওই হিংসাশ্রয়ীরা। উগ্র দক্ষিণপন্থী মুসলিম মৌলবাদীদের তাণ্ডব এখানেই থেমে থাকেনি। ওরা ময়মনসিংহের ভালুকায় ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তরুণ শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে শারীরিক নিগ্রহ করে হত্যার পর তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, হিংস্র মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা জান্তব উল্লাসে ইসলামি স্লোগান দিতে দিতে এই বর্বরোচিত দৃশ্য তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে,কেউ কেউ এই বীভৎস দৃশ্যের ভিডিয়ো মোবাইল ফোনে ধারণ করছে। এই বর্বরতার আবহে খুলনায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতিকে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি পুরোপুরি মুছে দিতে এবারও হামলা চালানো হয়েছে ইতিমধ্যে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িটিতে। এই সমস্ত জঘন্য ঘটনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভারত-বিদ্বেষী জিগির।
বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনের নেতা ও পরবর্তীতে গড়ে ওঠা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছতেই শুরু হয় উগ্র মুসলিম মৌলবাদীদের হিংস্র তাণ্ডব।
ষাটের দশকে পাক সামরিক সরকারের শাসনামলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া এবং বেতার ও টেলিভিশনে সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়। এই আবহে বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কলিম শরাফী এই নিষেধাজ্ঞাকে দূরে ঠেলে আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে রবীন্দ্র সংগীত, নাটক ও নৃত্যনাট্যের প্রতিষ্ঠান 'ছায়ানট' প্রতিষ্ঠা করেন । ১৯৬১ সালে পাক শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রবীন্দ্র-জন্ম শতবার্ষিকী উদ্যাপনের অনুষঙ্গে 'ছায়ানট' প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র হিসেবে পথচলা শুরু করে। বিশিষ্ট কবি, লেখক ও নারী প্রগতি আন্দোলনের নেত্রী সুফিয়া কামাল সহ অন্যান্য বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশিষ্ট শব্দ-সৈনিক, বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান, অন্যতম সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী এক সময়ে 'ছায়ানট'-এর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের এই প্রবহমানতায় স্বনামধন্যা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সন্জীদা খাতুন-এর নিরলস প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলা সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত একটি ঐতিহ্যশালী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। ছায়ানটের উদ্যোগে সারা বছর ধরে নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, তার মধ্যে রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুদিবস উপলক্ষে উৎসব, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন, লোকসংস্কৃতি ও লোকসংগীত উৎসব, নাটক ও নৃত্যানুষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বক্তৃতামালা ইত্যাদির আয়োজন হয়। সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে এই প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ জাতীয় সাংস্কৃতিক উদ্যোগে পরিণত হয়। হিংস্র মৌলবাদী দুর্বৃত্তরা উগ্র ধর্মীয় উন্মাদনায় বাংলা সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে 'ছায়ানট' প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে হারমোনিয়াম, তবলা, এসরাজ, সেতার সহ নানা বাদ্যযন্ত্র, বিভিন্ন আসবাবপত্র, শিক্ষা সরঞ্জাম, অমূল্য বইপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার ইত্যাদি সমস্ত কিছু ভেঙেচুরে আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করেছে, এমনকী রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে আগুন দিতেও ওদের হাত কাঁপেনি। এভাবেই ওরা রবীন্দ্র-নজরুল-লালনের গান ও চর্চাকে, বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও অগ্রগতিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে। এর আগেও ২০০১ সালে রমনার বটমূলে 'ছায়ানট'-এর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে মুসলিম সন্ত্রাসবাদী শক্তির টাইম বোমা বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু ও আহত হন অনেকে। কিন্তু প্রাণঘাতী সেই হামলার বিভীষিকা কাটিয়ে 'ছায়ানট' তার সৃষ্টির অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রেখেছে। এবারের ধ্বংসলীলাও 'ছায়ানট'-এর সৃজনকার্যক্রমকে এতটুকু শ্লথ করতে পারেনি। সেই প্রাণপ্রিয় সংস্থার নানা ধ্বংসচিহ্নকে সামনে রেখে ধানমন্ডিতে ভবনের সামনের রাস্তাজুড়ে বুকের গভীরে পুঞ্জিভূত বেদনা, ক্ষোভ ও অশ্রুকে সংবরণ করে এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অগণিত শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, পরিবেশকর্মী, স্থপতি, মানবাধিকার কর্মী সহ প্রগতিকামী শুভবুদ্ধিসম্পন্ন অগণিত মানুষ রবীন্দ্র সংগীত থেকে গণসংগীত - নানা ধরনের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের ভাষা বাঙ্ময় করেন - প্রতিরোধের আগুন জ্বেলে দেন।
'ছায়ানট' কার্যালয়ে ধ্বংসলীলা চালাবার পরদিন ১৯ ডিসেম্বর অগ্নিসংযোগ করা হয় বাংলাদেশের আরেক সাংস্কৃতিক সংগঠন 'উদীচী'র কার্যালয়ে। 'ছায়ানট' এবং 'উদীচী' বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দুই অগ্রণী সংগঠন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক নবজাগরণে এ দুই সংগঠনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬৮ সাল বিপ্লবী কথাশিল্পী এবং গণসংগীত রচয়িতা সত্যেন সেনের উদ্যোগে 'উদীচী' গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন ঢাকায় 'প্রগতি লেখক সংঘ' গড়ার অন্যতম সংগঠক, বিপ্লবী প্রাবন্ধিক ও কবি রণেশ দাশগুপ্ত। দুই সাম্যবাদী নেতা সত্যেন সেন এবং রণেশ দাশগুপ্ত-র নেতৃত্বে 'উদীচী' জন্মলগ্ন থেকে মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্যের সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা সংগঠিত করে। এছাড়াও এই বিপ্লবী সাংস্কৃতিক প্রবাহে সম্পৃক্ত হন বিপ্লবী সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার সহ আরো অনেকেই। এই সময় থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাপর্ব পর্যন্ত 'উদীচী' বাঙালির সার্বিক মুক্তির চেতনাকে ধারণ করে গড়ে তোলে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। এই সংগ্রাম ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম বাংলার পথে প্রান্তরে। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে 'উদীচী'র শিল্পী-যোদ্ধারা।
এই বর্বর মৌলবাদীরা 'উদীচী'র মতো বাংলাদেশের অন্যতম প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপর ধ্বংসমুখী হামলা চালিয়ে এই সংগঠনের সাম্রাজ্যবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবাদ বিরোধী চেতনা ও কার্যকলাপকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। সন্ত্রাসবাদীরা চেয়েছে এই হামলার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে চলা 'উদীচী'র ধারাবাহিক গণসাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে অচল করে দিতে। এর আগে ১৯৯৯ সালে যশোরে 'উদীচী'র জাতীয় সম্মেলন চলাকালে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শককে হত্যা ও ১৫০ জনের বেশি মানুষকে ভয়ংকরভাবে আহত করে এক কট্টর ইসলামি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ২০০৫ সালে নেত্রকোনায় 'উদীচী' শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের সামনে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৮ জন। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, মুসলিম সন্ত্রাসবাদী অন্ধকারের শক্তি মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে 'উদীচী'র সাম্যের সমাজ গড়ার সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার গতি রুদ্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু এই অপশক্তি যে ব্যর্থ হয়েছে তা সুস্পষ্ট হয়েছে শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের প্রতিবাদ বিক্ষোভে। এবারের এই ধ্বংসাত্মক সন্ত্রাসবাদী হামলার পরেও ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের উদ্যোগে 'উদীচী'র প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় 'উদীচী'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল সংগঠিত হয়েছে।
এই প্রতিবাদসভাগুলিতে 'উদীচী'র শিল্পী-সেনানীরা দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, যত হামলাই আসুক অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদ মুক্ত, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে 'উদীচী'কে বিচ্যুত করা যাবে না।
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন এবং মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ, তাদের ধর্মীয় স্থানে হামলা ভাঙচুর, বাউল-ফকিরদের আখড়া ও মাজার প্রভৃতির উপর মাঝে মাঝেই হামলা ও আক্রমণের ঘটনার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। কিন্তু সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উগ্র মুসলিম মৌলবাদী ও সন্ত্রাসবাদীদের তৎপরতাও বহুগুণে বেড়েছে। এখানে বাক্ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রহরণ, বিরোধী ও মুক্তকণ্ঠের মানুষদের নির্বিচারে কারান্তরালে পাঠানো, মব সন্ত্রাস ইত্যাদি সহ মৌলবাদীদের তৎপরতা এবং পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার পরিণতিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে।
পড়শি দেশের এই অরাজকতা, অস্থিরতা, হিংসা-হানাহানির আঁচ সীমান্ত পেরিয়ে আমাদের এখানেও এসে পড়ছে। ওখানে ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান, আমাদের দেশেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ উগ্রধর্মান্ধদের হিংসাশ্রয়ী কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল ও সংকটময় করে তুলছে। বাংলাদেশের মতো এখানেও মুক্ত চিন্তা, মনন জগৎ , বিজ্ঞান চর্চা সহ সার্বিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আঘাত নামিয়ে আনা চলছে। পাল্লা দিয়ে চলছে দেশের নানা প্রান্তে সংখ্যালঘু নিধন। সাম্প্রদায়িক, জনবিরোধী দুই প্রধান দলের মধ্যে এই অস্থির পরিস্থিতিকে নির্বাচনের রাজনীতিতে যুক্ত করে সুবিধালাভের ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তাই সমাজ, সংস্কৃতি ও দেশরক্ষার প্রশ্ন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই মানুষের মনে চেতনার আলো জ্বালতে প্রগতিশীল সাহিত্য-সংস্কৃতির ভূমিকাও আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই অনুষঙ্গেই আজ রবীন্দ্রনাথ আমাদের সামনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। তিনি 'ধর্মমোহ' কবিতায় তো সেই কবেই উচ্চারণ করেছেন -
"ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে
অন্ধ সে-জন মারে আর শুধু মরে।...
...যে পূজার বেদী রক্তে গিয়েছে ভেসে
ভাঙো ভাঙো, আজি ভাঙো তারে নিঃশেষে,
ধর্মকারার প্রাচীরে বজ্র হানো,
এ অভাগা দেশে জ্ঞানের আলোক আনো।"