'মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।'...
পশ্চিমবঙ্গের সমাজ ও রাজনীতির এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে প্রকাশিত হচ্ছে আমাদের দ্বিমাসিক ই-পত্রিকা 'ডটপেন ডট ইন'-এর নববর্ষ সংখ্যা। রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন শেষ হয়ে এখন ফলপ্রকাশের লগ্ন উপস্থিত। পত্রিকা প্রকাশের দেরি এই অনিবার্য কারণেই। আমাদের পত্রিকা সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক হলেও সমাজ, রাজ্য, রাষ্ট্র ও পৃথিবীর গতি প্রকৃতি আমাদের আলোচনার বৃত্তের বাইরে নয়। তাই এই মুহূর্তে রাজ্যবাসীর সঙ্গে আমরাও গভীর কৌতূহল নিয়ে নির্বাচনের ফলাফলের প্রতীক্ষায় রয়েছি। এরাজ্যের মানুষের একান্ত প্রত্যাশা, বিগত দীর্ঘ সময়কাল জুড়ে এরাজ্যের বুকে যে অশান্তি-হিংসা-নৈরাজ্য-বিদ্বেষ-কলুষ-অপহ্নবের ছায়া প্রলম্বিত হয়েছে এবং রাজ্যের অগ্রগতি ও মর্যাদার অবনমন ঘটেছে, এবারে জনমানুষের রায়ে এই সমস্ত কালিমা ঘুচে যাবে। এ রাজ্যের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার, মর্যাদা, সম্মান ফিরে পাবে, মাথা উঁচু করে বাঁচার রসদ পাবে এবং এ রাজ্য আবার উন্নয়ন ও প্রগতির অভিমুখী হবে। রাজ্যবাসীর এই আন্তরিক আকাঙ্ক্ষার শরিক আমরাও।
এই সংখ্যা প্রকাশের প্রস্তুতিপর্বেই আমরা হারিয়েছি প্রতিভাবান অভিনেতা, সুলেখক ও প্রখর সমাজচেতনাসম্পন্ন শিল্পী রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 'চিরদিনই তুমি যে আমার' – রাহুল অভিনীত এই প্রথম ছবিতে জনপ্রিয় গান 'পিয়া রে পিয়া রে' গেয়েছিলেন অসমের প্রাণের শিল্পী জুবিন গার্গ। কিন্তু কী অদ্ভুত সমাপতন! মাত্র ছ'মাসের ব্যবধানে এই দু'জন শিল্পীকে প্রায় একইভাবে সমুদ্র আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে! অনন্য প্রতিভার অধিকারী এই দুই শিল্পীকে অকালে হারিয়ে আমরা রিক্ত হয়েছি, এ নিঃসন্দেহে বিরাট ক্ষতি। আমাদের পত্রিকায় (ডিসেম্বর, ২০২৫) যেমন আমরা জুবিন গার্গকে স্মরণ করেছিলাম, তেমনি এবারে আমরা সীমিত সাধ্যে নিজেদের দায়বোধ থেকেই স্মরণ করেছি রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে যে সমস্ত কবি, লেখক তাঁদের রচনা দিয়ে পত্রিকাটিকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের অসীম কৃতজ্ঞতা ও অনন্ত শ্রদ্ধা। পত্রিকার ভালোমন্দ বিচারের ভার মাননীয় পাঠকদের। তাঁদের সুচিন্তিত অভিমত ও পরামর্শ আমাদের আগামী চলার পথে দিশারি হবে – এই আমাদের বিনম্র প্রত্যাশা। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩