বিবিধ

কলোন ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা



ডাঃ প্রকাশ মল্লিক


উন্নয়নশীল দেশে কলোন ক্যান্সারে মৃত্যু বড় কারণ না হলেও উন্নত দেশে বিশেষ করে আমেরিকায় ক্যান্সারের মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর স্থান দ্বিতীয়। অথবা কলোরেকটাল ক্যান্সার বা মলান্দ্র-মলাশয় ক্যান্সারের স্ক্রিনিয় টেস্ট করে নিরাময়ের জন্য আগাম সনাক্ত করা গেলেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর অবস্থান ততটা নিচে নামেনি।

একটি কথা অবশ্য আছে। সম্প্রতিকালে এ ধরণের ক্যান্সারের হার কমছে, বছরে ২% হারে। বেশি বেশি স্ক্রিনিং হওয়ার জন্য তো বটেই। তবু যাদের স্ক্রিনিং হওয়ার উচিত, এদের মধ্যে অর্ধেকের কিছু কম লোক স্ক্রিনিং করাতে অনীহা প্রকাশ করেন। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলেন, এরা যদি যথাসময়ে স্ক্রিনিং করাতেন তাহলে মৃত্যুহার অর্ধেক কমে যেত।

এই ক্যান্সারকে সহজে প্রতিরোধ করা বা নিরাময় করার একটি কারণ হলো, বেশিরভাগ সময় এটি অস্ত্রের আস্তরণে একটি পলিপ হিসেবে সূচিত হয়, ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। ক্রমে সংহারী হয়ে ওঠেন কখনও কখনও। যে সব টেস্ট মলান্তকে পরীক্ষা করে, যে সব টেস্টে ধরা পড়ে পলিপ, আর এগুলো ক্যান্সার হয়ে উঠার আগেই ডাক্তাররা এই পলিপ টুক্ করে কেটে যদি বাদ দিতে পারেন। আবার টেস্টে আগাম টিউমার ধরা পড়ে যা সহজে অপসারণ করা যায়। তবে মলাশয় মলান্ত্রের ক্যান্সার-এর টেস্টগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৫০ বছর বয়স থেকে স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত (তবে পারিবারিক ইতিহাস, কিছু কিছু পেটের অসুখ বা জীন মিউটেশনের কারণে যাদের ঝুঁকি উঁচুতে, এদের স্ক্রিনিং শুরু করা উচিত রোগীরা মলের নমুনা নিয়ে যেতে দ্বিধা বোধ করেন, মলাশয়ে যন্ত্র ঢোকাতে কেউ কেউ বিব্রত বোধ করেন। যারা সময়মত স্ক্রিনিং করার জন্য পরামর্শ দেন তাদের যুক্তি হলো একটি অত্যন্ত বেদনার, ভয়ংকর রোগ এড়াতে স্ক্রিনিং-এর জন্য অসুবিধা ও অস্বস্তি হয় তা তেমন কিছুই নয়।

কলোনোস্কোপি করার সময় টেস্ট তেমন অসুবিধা করে না। অনেকে বলেন এর জন্য প্রস্তুতিটি একটু কষ্টের, সামান্যই-অস্ত্রকে খোলাসা করার জন্য একদিন লেক্সেটিভ নেওয়া - এই মাত্র। 'আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি'র ডাইরেক্টর অব স্ক্রিনিং ডাঃ রবার্ট স্মিথ বলেন, "উপাত্ত তথ্য থেকে বোঝা যায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য নির্ধারিত চিকিৎসকের কাছ থেকে স্ক্রিনি-এর জন্য জোরালো তাগিদ না পাওয়ার জন্য মানুষ স্ক্রিনিং করাতে কিছুটা অনীহা দেখান।" ডাক্তাররা ভাবেন রোগীরা স্ক্রিনিং করাবেন না, তাই সে জন্য তাগিদও দেন না। অনেক সময় দ্বিধায় থাকেন কোন টেস্টটি করাতে বলবেন। কোনও কোনও রোগী রেফারেন্স পান, ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে এর শিডিউল পাওয়া এতো জটিল ও কঠিন হয় যে আসলে টেস্টই করানো হয় না। সবাই চান ঠিক জিনিষটা করাতে, কিন্তু ব্যাপারটি ঘটে না।"

যাদের মলাশয়-মলান্ত্রের ক্যান্সার হওয়ার গড়পড়তা ঝুঁকি রয়েছে, আমেরিকান ক্যান্সার-সোসাইটির পরামর্শ তাদের জন্য, স্ক্রিনিং শুরু হওয়া উচিত পঞ্চাশ বছর বয়স থেকেই, নিচের পাঁচটি টেস্টের যে কোন একটি দিয়ে শুরুঃ

বছরে একবার মলের সুপ্তরক্তের উপস্থিতি পরীক্ষা, এর আরও আধুনিক রূপ হলো মলের 'ইমুনোকেমিক্যাল টেস্ট' যা দিয়ে মলে রক্তের উপস্থিতি সনাক্ত করা যায়। প্রতি পাঁচ বছরে একবার 'নমনীয় সিগময়েডোস্কোপি', একটি বীক্ষণী দিয়ে মলান্ত্রের নিম্নের অংশ পরীক্ষা করা। বছরে একবার মল পরীক্ষা এবং প্রতি পাঁচ বছরে একবার সিগময়োডোস্কপি। প্রতি পাঁচ বছরে একবার এনেমা ও এক্সরে। প্রতি দশ বছরে একবার কলোনোস্কোপি, মলাশয়ে একটি বীক্ষণী প্রবেশ করিয়া পুরো বৃহদান্ত পরীক্ষা করা। প্রথম চারটি টেস্টের যে কোনও একটিতে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে আর কিছু চেক করার জন্য প্রয়োজন হতে পারে কলোনোস্কোপি।

প্রথম টেস্টে মলে সুপ্তরক্তের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য দরকার হয় রোগীরা এর কয়েকদিন আগে থেকে লালা গোস্ত বা কাঁচা শাক-সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন, যাতে টেস্টে ফলস পজিটিভ না হয়। তবে নতুন উদ্ভাসিত ইমুনোকেমিক্যাল টেস্টের আগে তেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন হয় না। ডাঃ স্মিথ বলেন "টেস্টটি করা সহজ, তবে এর খরচ বেশি।"


চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।

________________________________________

[ডাঃ প্রকাশ মল্লিক, এম.ডি. (হোমিও), সিনিয়র সুপার স্পেশালিস্ট হোমিওপ্যাথ, আন্তর্জাতিক সভাপতিঃ ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ হোমিওপ্যাথি। মোবাইল: +৯১ ৯৮৩০০২৩৪৮৭]