বিবিধ

রমনী-রতন ও সংসার



সুকোমল চন্দ্র দেব


দিনের আকাশে সূর্য ও রাতের আকাশে চাঁদ। মানুষের সংসার অঙ্গনে তেমনই রমনী-রতন।

ফুল ও পাখি - এই পৃথিবীর সুন্দরতম বিষয়। ফুল রঙে-রসে ও গন্ধে এ জগতে আকর্ষণীয়। পাখি সুর-তাল-ছন্দে ও ঢং-এ অনবদ্য। এই দুই-এ জগৎ মোহিত। কিন্তু তবুও কবি গেয়েছেন - "তুমি বিনা এ ফাগুন বিফলে যায়"। মনে হয় - "সবই আছে তবু কি যেন নাই"। রমনী-বিহীন এ সংসার - যেন তেল-লবন ও মশলা-বিহীন এক থালা খাদ্য - যার এক মুঠোও মুখে রোচে না। শুধু তুমি রমনী-রতন থাকলেই সব আনন্দময় সব পরিপূর্ণ। তুমি এক রমনী - কত রূপেই না হাজির এই সংসার অঙ্গনে - কভু কন্যা - কভু ভগিনী - কভু জননী। আবার বৃদ্ধা রমনীরূপে তুমি - শ্বেতা শুভ্রা-আশীর্বাদীকা ঠাকুমা দিদিমা। তুমি তখন কার্পাস ও শিমুল তুলোর মতোই সংসারে থেকেও বেশ ওপরে ওপরে উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াও।

যখন তুমি বালিকা কন্যা - তোমার মুখের একটু আধো আধো কথায় - জগতের সব ফুলগুলিও যেন তোমার সামনে অধোমুখে ঝরে পড়ে। কিশোরী কন্যারূপে - তুমি যেন মাঠ হতে আকাশে উড়ে যাওয়া একরাশ কাশ ফুল। তখন তোমায় দেখলেই মন আনন্দে আকাশের মত ভ'রে ওঠে। কখনও আবার রজনীগন্ধার মতো একটু বাঁকা একটু জড়োসড়ো। কত কথা বলতে চাও - কিন্তু "কভু হেসে - কভু কেঁদে - চেয়ে বসে রও"। যখন তুমি বেশ কিছুটা বড় - একটু ঢলোঢলো - তখন তুমি সরোবরে ফুটে ওঠা এক পদ্ম ঝলোমলো। সংসারে সকলে তখন - ভ্রমর ও প্রজাপতির মত শুধু- তোমাতেই মত্ত - "মধুকর গুনগুন গুন সুরে গাও - বনে উপবনে কারে খুঁজিয়া বেড়াও -"। তুমি যখন এ সংসারে - গৃহিণী-কর্ত্রী- তখন তুমি অষ্টমী পূজার মা দুর্গা। সব আলো-আল্পনা-আনন্দ-জল্পনা - সব তোমাতেই। তোমার চারপাশ তখন - জ্যোৎস্নাময় সান্ধ্য-বসুন্ধরা। সংসারের সব ফুল-পাখি ও কলকাকলি - তোমার চারপাশ - তখন শুধু তোমার মাধুর্য্য ও জৌলুস বাড়ানোয় সদাব্যস্ত। সংসার অঙ্গনে রমনী - তুমি যেন ফলে ও ফুলে ভরা একটা শ্যামল তরু। যে তোমার সান্নিধ্যে আসবে - সেই পাবে ফুলের রঙ-রূপ-রস-সৌরভ - ফলের তৃপ্তির মিষ্টতা। মিলে যায় - পাখি'র সুরের মত প্রাণ-দোলানো মন মাতানো - সঙ্গীত সুধাও। সবার উপরে - একমাত্র তুমিই দিতে পারো - শিশু'র কলকাকলি ভরা - স্নেহ-সুখ ও শান্তি'র আনন্দময় এক মধুর সংসার - আনন্দময় সমাজ।

এ সংসারের তুমিই - একমাত্র মরুদ্যান। নারী বিনে - চলতে নারি।


চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।