[শ্রী গৌতম মুখোপাধ্যায় পেশায় একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। পেশার কারণে ৮০-র দশকের শুরু থেকেই তাঁকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করতে হয়েছে, সেই সূত্রে সেই সমস্ত দেশের মিউজিয়ম-এ গিয়ে শিল্পকলা নিয়ে তিনি চর্চা চালিয়েছেন সুযোগ সুবিধে মতোন। এমন ভারতীয় খুব কম সংখ্যায় রয়েছেন যাঁরা গৌতমবাবুর মতো বিশ্বজুড়ে শিল্পের ইতিহাস নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চর্চায় রত অথচ শিল্পকলার পেশার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। তাঁর জাদুঘর পরিদর্শন নিয়ে তিনি একান্তে বিশদ আলোচনা করেছেন শুভাশীষ ঘোষ-এর সঙ্গে। কথোপকথনটি দীর্ঘ হওয়ায় আমরা এটিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করব। এবার দ্বিতীয় পর্ব।]
শুভাশীষঃ ওখানে ভ্যান গগ-এর কতগুলো ছবি ছিল?
গৌতমঃ আমার একটাই মনে আছে। সত্যি কথা বলতে কি ওখানে আরও নিশ্চয়ই ছিল। অনেকগুলোই হয়ত ছিল, আমার মনে নেই, ওখানে কিন্তু ছবিগুলো ক্লাস্টারে থাকে না। মানে এক জায়গায় ভ্যান গগ রাখলাম, এক জায়গায় বত্তিচেল্লি রাখলাম ব্যাপারটা কখনই এরকম নয়। ছড়িয়ে দেওয়া হয়। Theme based. মিউজিয়মে সবসময়ই কিন্তু তাই। হয়তো তুমি দু' চারটে ভ্যান গগ পাশাপাশি দেখতে পাবে। যেমন মেট্রোপলিটন মিউজিয়মে আমি দেখলাম সব ভ্যান গগ পরপর আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব মিউজিয়মে আর্টিস্টের সবকটা ছবি এক জায়গায় থাকবে। একজন আর্টিস্টের ছবি হয়তো মাল্টিপল রুমে আছে। তোমাকে দেখতে হলে সেই সেই ঘরে গিয়ে দেখতে হবে। বিভিন্ন মিউজিয়মের আলাদা আলাদা মাপকাঠি বা নির্ণায়ক পদ্ধতি (criteria) আছে। যেমন ক্লাসিক্যাল পিরিয়ড, টাইম ইত্যাদি। লন্ডনের ন্যাশনাল মিউজিয়ম century দিয়ে সাজায়। ১৭০০ থেকে ১৮০০। আবার ১৮০০ থেকে ১৯০০ এরকম। মাঝে মাঝে ওরা পরিবর্তন করে। সেইজন্য এখনকার সময়ে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেউ যদি এইধরণের কোনো মিউজিয়ম দেখতে যান তাহলে সময় বাঁচিয়ে দেখতে হলে তাকে জানতেই হবে তার পছন্দ মতো প্রদর্শিত বস্তুগুলো কোথায় কোথায় আছে। Organised না হলে চেনা ছবি পাওয়া কিন্তু দুস্কর। আজকে তুমি যদি মিউজিও ডেল প্রাডো যাও (Museo Nacional Del Prado, Madrid, Spain) প্রাডো মিউজিয়ম একটা বিশাল প্রাসাদ। তুমি যদি আগে থেকে না জানো তোমার প্রত্যাশিত ছবিটা তুমি হয়ত খুঁজেই পাবে না। আর তুমি যদি জানো তাহলে দেখাটা সহজ হয়ে যায়। আর ওই দেখার সময় তোমার পছন্দমতো ছবিও তুমি আশেপাশে দেখতে পাবে। সুতরাং আমি বলছি কখনওই কভারেজটা পুরো হতে পারে না। পুরো কভারেজ করতে হলে তোমায় দিনের পর দিন থাকতে হবে। সুতরাং one should not fool himself by saying যে আমি পুরো মিউজিয়ম দেখে এলাম। সব দেখা সম্ভব নয়। মিউজিয়ম গেলে তুমি তোমার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী দেখবে। আজকের দিনে সেই ধারণাটা আমার কাছে পরিষ্কার। আজ যদি আমি মিউজি দে অরসে (Musée d'Orsay)-এ যাই আমি খালি ইমপ্রেশনিস্ট আর পোস্ট-ইমপ্রেশনিস্ট দেখবো। Gothic, Renaissance দেখতে হলে ল্যুভর (Louvre) যাবো।
মিউজি দে অরসে (Musée d'Orsay), প্যারিস।
ল্যুভর (Louvre), প্যারিস, ফ্রান্স।
শুভাশীষঃ এখানে যখন আপনি ভ্যান গগ দিয়ে শুরু করলেন তারপর এলো বত্তিচেল্লির ছবি?
গৌতমঃ হ্যাঁ... তারপর বত্তিচেল্লি।
শুভাশীষঃ কিন্তু সময়টা পিছিয়ে যাচ্ছে...
গৌতমঃ তখন হয়তো আমি ঐ ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে অন্য ঘরে গেলাম। ওইটাই বলছি যে তখন আমি অত organised ভাবে তো আমি দেখিনি তাই আমাকে ঘুরতে হয়েছে বেশি। আজকাল অনেক organised ভাবে দেখি।
শুভাশীষঃ ভ্যান গগ-এর ক্ষেত্রে আপনার মনে আছে শুধু 'সানফ্লাওয়ার'?
গৌতমঃ শুধুই সানফ্লাওয়ার মনে আছে। আর তুমি তো জানোই যে ওঁনার কমপক্ষে এগারোটা 'সানফ্লাওয়ার' আছে। ভ্যান গগ-এর অনেক ছবিই মাল্টিপল আছে। তার মধ্যে দু'থেকে তিনটে ছবিই সবার সামনে প্রদর্শিত হয়। বাকিগুলো আসে না কারণ private collection-এ আছে। ভ্যান গগ-এর অনেক ছবিই কিন্তু similar composition। উনি নিজেই কপি করতেন। কপি মানে ছবির কপি নয়। কোনো একটা বিষয়কে ধরে উনি পরপর মোটামুটি একই ধরণের ছবি আঁকতেন। ফলে কয়েকটা ছবি more or less identical। আবার কয়েকটা ছবি একদম আলাদা। কিন্তু থিমটা একই। সেদিক থেকে বত্তিচেল্লি কিন্তু আলাদা। বত্তিচেল্লির বিষয়গুলো প্রত্যেকটাই আলাদা। বত্তিচেল্লি প্রচুর সময় নিয়ে আঁকতেন। ভ্যান গগ-এর আঁকার স্টাইলটাও আলাদা ছিল। Because he was a post impressionist painter. ছুরি চালাবার মতন করে উনি ওঁনার ব্রাশ আর স্প্যাচুলা চালাতেন। অসম্ভব তাড়াতাড়ি আঁকতেন। একেকটা ছবি প্রায় একদিনে শেষ করতেন। পরে আমি সেই গল্প বলবো যে ভ্যান গগ যেখানে মারা গিয়েছিলেন Auvers-sur-Oise আমি সেখানেও গিয়েছি। Feel করেছি ওঁনার শেষ জীবনে ছবি আঁকার experience!
এবার আমি বলি কি কি ছবি National Gallery-তে দেখলাম। এরপরে এলেন বত্তিচেল্লি (Sandro Botticelli)। ওঁনার যে ছবিটা আমি দেখেছিলাম সেটা হচ্ছে 'মার্স এন্ড ভেনাস' (Mars and Venus)। ভেনাস বসে আছে আর মার্স ঘুমোচ্ছে। এর চারদিকে অনেক বাচ্ছা Satyr খেলছে ইত্যাদি। এই ছবিটা ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে আঁকা। ওখানে আমি দেখলাম যে ধরণের আঁকা আমার পছন্দ উনি সেই ধরণের ছবি আঁকেন। অসম্ভব details - নিখুঁত আঁকা। তার আগে ভ্যান গগ দেখেছি। কিন্তু সেগুলো একদম অন্য ধরনের ছবি... I was not very well conversant with that sort of post-impressionist painting method also... এককালে হয়তো ওইটাই modern art. তখনকার কালের post impressionist art was quiet revolutionary সেগুলো নিখুঁত আঁকা নয়।
'মার্স এন্ড ভেনাস' (Mars and Venus), ন্যাশনাল মিউজিয়ম, লন্ডন। শিল্পীঃ সান্দ্র বত্তিচেল্লি (Sandro Botticelli)।
শুভাশীষঃ যেহেতু আপনি সেই সময় আঁকাটা নিয়ে ইন্টারেস্ট পাচ্ছেন তখন শুরুতেই সবারই ক্লাসিক্যাল বা রেনেসাঁ পিরিয়ড থেকেই শুরু হয়। এটা সবসময়ই পেইন্টিং নিয়ে যাদের ইন্টারেস্ট থাকে তাদের ক্ষেত্রে হয়। তারপর না হয় সে আস্তে আস্তে ফর্ম ভাঙার দিকে বা অন্য ধরনের আঁকার দিকে আগ্রহী হয়।
গৌতমঃ Exactly... কিন্তু প্রথমদিকে এই ধরণের classical style-এর ছবিগুলো খুব বেশিই appeal করে। সেইটা abandantly I got in National Gallery... কারণ ওখানে ওই টাইপের ভালো ভালো আর্টিস্টের ক্লাসিক্যাল আর্ট প্রচুর দেখেছি। আর তুমি খেয়াল করে দেখবে বত্তিচেল্লি-র আঁকা এই মহিলা... যে ভেনাসের ছবিটা আঁকা হয়েছে এই একই টাইপের মুখ বত্তিচেল্লির অন্য ছবিগুলোতে আছে। কারণ ইতিমধ্যেই বত্তিচেল্লির অন্যান্য ছবির copy আমি দেখে ফেলেছি। আমার আশ্চর্য লেগেছিল এই একই মুখ সব জায়গায় কেন? ওঁনার মডেল কি একজনই? কারণ পরে পড়ে জেনেছি যে মডেল একজনই - তিনি হচ্ছেন সিমোনেটা ভেসপুচি (Simonetta Vespucci)। আরও একটা মজার ব্যাপার যখন এই ছবিটা আঁকা হয়েছিল তখন এই মডেল কিন্তু বেঁচেও ছিলেন না। বছর দশেক আগেই উনি মারা গিয়েছিলেন। বত্তিচেল্লি memory থেকে এঁকেছিলেন। এটা জনশ্রুতি... লোকে বলে। লোকে গল্পে বলে যে he had a love affair with this lady. আবার অনেকে বলে এই মহিলা সিমোনেটা ভেসপুচি নাকি আমেরিগো ভেসপুচি (Amerigo Vespucchi)-র স্ত্রী। আমেরিগো ভেসপুচি মানে যাঁর নামে আমেরিকা।
শুভাশীষঃ অনেকে আবার যেহেতু টাইটেলটা একরকম বলেও এই ধরণের কথা বলে থাকতে পারে...
গৌতমঃ না... ওই মহিলা যদি ওঁর স্ত্রী নাও হয়... she was a related cousin of Amerigo. That is for sure কারণ আমেরিগো ভেসপুচি যে পাড়ায় থাকতেন তার কটা বাড়ি পরেই বত্তিচেল্লি থাকতেন। এঁরা সব ফ্লোরেন্স-এর লোক। এই মহিলা হয় ভেসপুচির হয় ভগিনী নয় ভেসপুচির বৌ কিছু একটা হবে। সেই খবরটা এখনও সঠিক জানা যায়নি। কারণ ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের সঠিক ও ওথেনটিক খবর জানা খুবই দুস্কর। যদিও এর মধ্যে একটা controversy আছে। এখনকার দিনে ওঁর এক আত্মীয় ইন্টারনেটে বলেছে সিমোনেটা কে ছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। তো সেই মুখ বত্তিচেল্লি স্মৃতি থেকে এঁকেছিলেন। সামনে সিটিং দিয়ে আঁকেননি। কারণ তখনকার কালে মডেলকে সামনে বসিয়ে এই type-এর ছবি আঁকার রেওয়াজটা ভদ্র পরিবারে চালু ছিল না। তখনকার দিনে ওই ধরণের মহিলারা আর্টিস্টের সামনে দিনের পর দিন আসতেন না। ভেনাসের ছবি তো প্রাকটিক্যালি ন্যুড।
'প্রিমাভেরা' (Primavera)। শিল্পীঃ সান্দ্র বত্তিচেল্লি (Sandro Botticelli)।
'বার্থ অফ ভেনাস' (Birth of Venus)। শিল্পীঃ সান্দ্র বত্তিচেল্লি (Sandro Botticelli)।
শুভাশীষঃ ন্যুড পেইন্টিং-এর জন্য আসতো না কিন্তু কমিশন আর্টিস্টদের জন্য তো...
গৌতমঃ সেটা আলাদা... সেটা তো পয়সা দিয়ে আঁকানো। কিন্তু বত্তিচেল্লি যে ধরণের ছবি এঁকেছেন ওঁনার ক্ষেত্রে Simonetta would have never posed for that sort of a painting. In fact আজকে 'প্রিমাভেরা' (Primavera) বলো বা 'বার্থ অফ ভেনাস' (Birth of Venus) বলো, কোনওটাতেই হয়ত Simonetta ওরকমভাবে আসতেন না। সুতরাং উনি মন থেকেই এঁকেছিলেন এবং that moved me quite a lot. আমার এখনও মনে আছে যে বত্তিচেল্লির আঁকা ছবি দেখে আমি খুব excited হয়েছিলাম।
তারপরে... এবার আমি সব পরপর দেখতে দেখতে যাচ্ছি... সবই masters. এবার এলো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (Leonardo da Vinci)-র 'ভার্জিন অফ দ্য রকস' (Virgin of the Rocks)।
'ভার্জিন অফ দ্য রকস' (Virgin of the Rocks), ন্যাশনাল মিউজিয়ম, লন্ডন। শিল্পীঃ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।
শুভাশীষঃ একটু interrupt করছি। আপনি যে ভ্যান গগ বা বত্তিচেল্লির ছবিগুলো দেখেছিলেন সেগুলো কতটা কাছ থেকে?
গৌতমঃ একদম সামনে থেকে। এগুলো তুমি যদি বলো ১ ফুট তো এক ফুট ৬ ইঞ্চি তো ছ' ইঞ্চি। কোনওরকম bar থাকে না। মিউজিয়মে এখনও নেই। সারা বিশ্বে কোনও মিউজিয়মে এক-দুটো ছবি ছাড়া কোনও জায়গায় কোনও ছবির সামনে আলাদা করে guard rail দেওয়া থাকে না।
'মোনালিসা' (Mona Lisa)। শিল্পীঃ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (Leonardo da Vinci)।
শুভাশীষঃ সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার দিক থেকে কোনও ঝুঁকি থাকে না?
গৌতমঃ একশো শতাংশ ঝুঁকি আছে। আমার মনে আছে আমি আর আমার মিসেস ২০১৬ সালে একবার ভেনিসে গিয়ে একটা মিউজিয়মে একজন আর্টিস্টের... নামটা মনে নেই... তাঁর ছবিটা দেখছিলাম। সেই ছবিতে আঁকা ফিগারের চোখে একটা জলের ফোঁটা (tears) দেখেছিলাম। তো আমরা সেটা নিয়ে আলোচনা করছিলাম... করতে করতেই কৌতূহলবশত ছবিটার খুব কাছে এগিয়ে গেলাম দেখবার জন্য। আমার আশ্চর্য লেগেছিল সত্যিই কিভাবে এতো realistic tears সেই শিল্পী এঁকেছেন! মানে কি টেকনিকে আঁকা হয়েছে। তখন ওখানকার একজন মহিলা গার্ড ছিলেন, তিনি এগিয়ে এলেন। বললেন, "Anything wrong with this painting?" আমি প্রত্যুত্তরে বললাম, "Nothing wrong..."। বললো তোমরা এতো কাছে গিয়ে দেখছো কেন? আমরা বললাম, "আমরা চোখের tears-টা দেখছি... Don't worry we are not going to harm the painting... তুমি চিন্তা কোরো না আমাদের একটু দেখতে দাও কারণ আমরা কাছে না গেলে ওটা কিভাবে আঁকা হয়েছে তা ধরতে পারব না।" সুতরাং সব জায়গাতেই কাছে গিয়ে দেখতে পারবে তুমি। অবশ্যই কয়েকটা পেইন্টিং ছাড়া... মোনালিসা (Mona Lisa) আজকাল সামনে থেকে দেখতে পাওয়া যায় না। Bullet proof কাঁচ আছে guard rail-ও আছে। কিন্তু আমি যখন ১৯৮৩-তে গেছি আমি 'মোনালিসা' সামনে থেকে দেখেছি যদিও bullet proof কাঁচ ছিল। তখন এতো ভিড়ও হতো না 'মোনালিসা'র সামনে।
'ভার্জিন অফ দ্য রকস' (Virgin of the Rocks), ল্যুভর মিউজিয়ম, প্যারিস, ফ্রান্স। শিল্পীঃ লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।
শুভাশীষঃ বত্তিচেল্লির পর এবারে...
গৌতমঃ বত্তিচেল্লির পর আমি দেখলাম 'ভার্জিন অফ দ্য রকস' যেটা লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-র আঁকা। এই ছবিতে মেরি তার সঙ্গে জেসাস আর ওদিকে সেন্ট জন... St. John the Baptist আর তার সঙ্গে একজন ডানাওয়ালা পরী। লিওনার্দো 'ভার্জিন অফ দ্য রকস'-এর দুটো ছবি এঁকেছিলেন। একটা হচ্ছে 'লন্ডন ভার্জিন অফ দ্য রকস' (ন্যাশনাল মিউজিয়ম, লন্ডন) আরেকটা ওই ভ্রমনকালেই যখন পরে আমি ল্যুভ গেলাম সেখানেও একটা 'ভার্জিন অফ দ্য রকস' দেখেছিলাম সেটাকে বলে 'ল্যুভ ভার্জিন অফ দ্য রকস'। দুটো পেইন্টিং-এর মধ্যে খুব সামান্যই তফাৎ রয়েছে। একটা হচ্ছে পোশাকের রঙের তফাৎ। লন্ডনে নীল রঙের পোশাক পরানো হয়েছে। এই নীল রঙের পোশাকের একটা গল্প আছে - তখনকার কালে খুব দামি রঙ blue colour - যেগুলো বানানো হতো ল্যাপিস লাজ়ুলি (Lapis lazuli) যা আফগানিস্তান থেকে যেত, সেগুলো গুঁড়ো করে বানানো হতো। They were very expensive paints. সেই ধরণের কোনো ভালো আর্টিস্ট হলে সে ল্যাপিস লাজ়ুলি ব্যবহার করে ছবি আঁকতো। অন্য ছবিটা যেটার নাম হচ্ছে 'ল্যুভ ভার্জিন অফ দ্য রকস', সেটাও একই সেটিং-এ আছে, কিন্তু সেখানে ওই যে পরী, সে St. John-কে আঙুল দেখিয়ে identify করছে। আর এর জামাটা আলাদা। লাল রঙের। এটাই তফাৎ। বাকি ছবিদুটো প্রায় একরকম, এমনকি এদের মুখগুলো পর্যন্ত identical. লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-ও কিন্তু প্রচুর multiple ছবি এঁকেছেন। I was surprised... যেটা সকলে খুব বেশি জানে না... যখন প্রথমবার ল্যুভ-এ গিয়ে আমি মোনালিসা দেখেছি... আবার পরে আরেক বছর যখন আমি ইউরোপ গিয়েছি, মাদ্রিদ (Madrid, Spain)-এ প্রাদো মিউজিয়ম-এ (Museo del Prado) প্রায় identical একটা 'মোনালিসা' দেখেছি। অনেকে বলে প্রাদো-র 'মোনালিসা' ওঁনারই। কিন্তু ছবিটা ওঁর কোনো ছাত্র এঁকেছিল, under his supervision and he finished it. ছবিটা অসম্ভব রকমের similar, তফাৎ বলতে শুধু পোশাকের রঙ। ওঁরা হয়তো ছবিগুলোকে আলাদা করে identify করার জন্য ইচ্ছে করেই পোশাকের রঙটা একটু change করে দিতেন। তখনকার কালে অনেক master artist-ই প্রচুর ছাত্র নিয়ে (যাঁরা অনেকেই পরে বিখ্যাত হয়েছেন) studio setup করে ছবি আঁকতেন। তাই সেইসব masters-এর প্রচুর ছবি একসঙ্গে produced হতো। সেই গল্প পরে বিশদে আলোচনা করার ইচ্ছে রইল।
(ক্রমশ)
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।