বিবিধ

আলিপুর চিড়িয়াখানার ঐতিহাসিক ভবন ও প্রাণীআবাস



গৌরব মুখোপাধ্যায়


কলকাতার এক বিশেষ দ্রষ্টব্য - আলিপুর চিড়িয়াখানা। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শীতকালের মিঠে-কড়া রোদ, কমলালেবুর গন্ধ, তালপাতার রঙিন টুপি, তিন কোণা কাগজের ঠোঙার মধ্যে বাদাম ভাজা, খোসাসমেত চীনেবাদাম, ডোরাকাটা রঙীন শতরঞ্চি আর সারাদিনের অফুরন্ত আনন্দ।

কলকাতার গর্ব এশিয়ার বৃহত্তম এই আলিপুর পশুশালার জন্য ১৮৭৫ সালে স্যার রিচার্ড টেম্পল (Sir Richard Temple) একটি কমিটি গঠন করেন। ওই বছরেই ২ অক্টোবর কলকাতার জিরাট বস্তিতে ১৫৬ বিঘা ১৮ কাঠা ৯ ছটাক জমি অধিগৃহীত হয়। পরের বছর ১ জানুয়ারি থেকে এখানেই শুরু হয়ে যায় চিড়িয়াখানা তৈরির কাজ। বাজেট ৫,০০০ টাকা মাত্র। ১৮৭৬ সালে ১লা জানুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করতে এসেছিলেন স্বয়ং ইংল্যান্ডের রাজা প্রিন্স অফ ওয়েলস্ সপ্তম এডওয়ার্ড। এরপর তিলতিল করে গড়ে ওঠে আমাদের চিড়িয়াখানা।


চিড়িয়াখানার ভিতরে কার্ল লুই শোয়েন্ডলার-এর স্মৃতিস্তম্ভ।


স্মৃতিস্তম্ভে কার্ল লুই শোয়েন্ডলার-এর মর্মরমূর্তি খোদাই করা রয়েছে।


স্মৃতিস্তম্ভের ফলক।

প্রাথমিকভাবে জার্মান পোস্টমাস্টার ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কার্ল লুই শোয়েন্ডলার তাঁর নিজস্ব সংগ্রহ থেকে পশুপাখি দান করার মাধ্যমে শুরু করেন এই পশুশালা। আলিপুর চিড়িয়াখানার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি ভিন্ন প্রজাতির তিতির (Francolin), সিয়ামিজ ফায়ারব্যাক (Siamese Fireback), মোনাল (Monal), ফিঞ্চ গোত্রীয় ছোট আকারের পাখি (Common Linnet), বনমোরগ (Wild Common Fowl), মথুরা বা ফেজান্ট (Crimson Horned Pheasant), গিনিফাউল (Guineafowls) এবং কাঠময়ূর (Peacock-pheasant) ইত্যাদি দান করেন। তাঁর নামে একটি পক্ষিগার এখনও দেখতে পাওয়া যায় - শোয়েন্ডলার হাউস (The Schwendler House)।

এরপর ধীরে ধীরে দেশি-বিদেশি নানা বিশিষ্ট ব্যক্তির দানে আরও কিছু ঐতিহ্যশালী ভবন চিড়িয়াখানার পরিসরে গড়ে ওঠে। সেগুলি হলো -
ময়মনসিংহ এনক্লোজার (The Mymensingh Enclosure): ময়মনসিংহের রাজা সূর্যকান্ত আচার্যের সম্মানে বাঘের বসবাসের জন্য উন্মুক্ত ডেরা (ওপেন এয়ার টাইগার এনক্লোজার)।
মহারানী স্বর্ণময়ী ভবন (The Sarnomoyi House): পাখিদের বাড়ি।
মুর্শিদাবাদ হাউস (The Murshidabad House): পাখিদের বাড়ি।
এজরা হাউস (The Ezra House): জিরাফদের বসবাসের ঘর হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
বাকল্যান্ড এনক্লোজার (The Buckland Enclosure): জলহস্তির বসবাসের ডেরা ইত্যাদি।

ভারতের আর কোনও পশুশালায় এতগুলি ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন ঐতিহ্যমন্ডিত ভবন ও প্রাণীআবাস একসাথে দেখা যায় না। ইতিহাস যেন এখানে থমকে রয়েছে।

বর্তমানে যদিও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকতার মেলবন্ধনে পশুপাখিদের জন্য অনেক নতুন খাঁচা তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে ব্যবহৃত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি। পাশাপাশি পুরোনো আবাসস্থলগুলিকেও সংস্কার করা হচ্ছে তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বিচার করে পুরোনো স্থাপত্যকে অবিকৃত রেখেই। আমরা একে একে এই এনক্লোজারগুলি সম্বন্ধে বিশদে জেনে নেবো।

 

মল্লিক হাউস (The Mullick House)


'মার্বেল প্যালেস'-এর উদ্যানে রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক বাহাদুর-এর মর্মরমূর্তি।

আলিপুর চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের জন্য প্রথম খাঁচাটি নির্মিত হয়, এখন যেখানে 'স্যার জ্যোতিন্দ্র মোহন ঠাকুর লাইব্রেরী' অবস্থিত তার ঠিক ডান পাশের জায়গাটিতে। চোরবাগানের বিখ্যাত মল্লিক পরিবারের রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক বাহাদুর (Raja Rajendra Mullick Bahadur)-এর অর্থ সহায়তায় এবং তাঁরই নামানুসারে এই খাঁচাটির নাম রাখা হয়েছিল ‘মল্লিক হাউস'। রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক সেই সময়ের একজন শৌখিন ও উৎসাহী বন্যপ্রাণী সংগ্রাহক ছিলেন। 'চিড়িয়াখানা' বিষয়টার ধারণা আসার বহু আগে থেকেই তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা বা তখন যাকে বলা হতো 'মেনাজেরি' (Menagerie / Private Zoo) ছিল। এখনকার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ (Central Avenue) দিয়ে গেলে, চোরবাগানের ঠিক উল্টোদিকের রাস্তায় তাঁর 'মার্বেল প্যালেস'-এই অবস্থিত ছিল এই ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানাটি। জনসাধারণের জন্য সেটি একসময়ে উন্মুক্ত ছিল। মানুষ সামান্য অর্থের বিনিময়ে প্যালেস সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত সেই ছোট চিড়িয়াখানাটি (Mini Zoo) দেখতে পেতেন।


১৮৫০ সালের 'মার্বেল প্যালেস' স্থিত মেনাজেরি-র সবচেয়ে পুরোনো খাঁচা। যেটি এখনও রয়েছে।


'মার্বেল প্যালেস' স্থিত মেনাজেরি-র কয়েকটি ভ্রাম্যমান খাঁচা।

পরে ১৯৭২ সালে ভারতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন (Wildlife Protection Act, 1972) চালু হবার পর অনেক পশুপাখি ওখান থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। কিছু জীবজন্তু দান করা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে চিড়িয়াখানাটি তার জৌলুস হারিয়ে ফেলে। রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকই প্রথম ভারতীয় দাতা এবং পৃষ্ঠপোষক যিনি চিড়িয়াখানা নির্মাণে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি শুধু অর্থই নয়, চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন পশুপাখি যেমন - বানর (monkey), আফ্রিকান ফিশ ঈগল বা সামুদ্রিক ঈগল (fish-eagle), ধলা মানিকজোড় [সাদা সারস] (white stork), কালো মাথার সারস (black headed ibis), পরিযায়ী ডেমোজিল সারস (demoiselle crane) ইত্যাদি দান করেছিলেন।


'মল্লিক হাউস' পূর্বে যেমন ছিল।


নবরূপে সজ্জিত 'মল্লিক হাউস'। (ছবি ১)


নবরূপে সজ্জিত 'মল্লিক হাউস'। (ছবি ২)

'মল্লিক হাউস'-এর খাঁচাটি একটি গোলাকার ইটের তৈরি কাঠামো, যার মধ্যে তারের জাল দেওয়া ছয়টি বিকিরণ আকারের প্রকোষ্ঠ ছিল। যার প্রতিটিতে একটি করে ছোট মিষ্টি জলের চৌবাচ্চা ছিল। তৎকালীন সময়ে প্রাথমিকভাবে এই খাঁচাটিতে মুরগী ও ফেজ্যান্ট জাতীয় পাখী রাখা হতো৷ পরবর্তীতে এখানে জলমার্জার বা ভোঁদড় রাখা হতো। এখন সেখানে কিছু নেই। বর্তমানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ খাঁচাটি পুনর্গঠন করে স্মৃতি হিসাবে দর্শকদের জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। এখানে দর্শকরা চিড়িয়াখানা সম্বন্ধে লেখা নানা তথ্য জানতে পারবেন। সম্পূর্ণ খাঁচাটি দেবদারু বৃক্ষ সন্নিবিষ্ট থাকায় বাইরে থেকে প্রায় চোখেই পড়ে না। এটি পাখিদের নির্বিঘ্নে ও একান্তে রাখার জন্যই এমনভাবে নির্মিত হয়েছিল।

এরপর ধীরে ধীরে নানা সময়ে আলিপুর চিড়িয়াখানায় অন্যান্য প্রাণীদের জন্য বিভিন্ন ধরণের আবাস নির্মিত হয়।

 

বর্ধমান হাউস (The Burdwan House)

বর্ধমানের মহারাজার অর্থানুকুল্যে ১৮৭৯ সালে ৩৫,০০০ টাকায় ‘বর্ধমান হাউস’-এর নির্মাণকার্য সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এই বিশালাকার আবাসস্থলটি পশুরাজের মুক্তাঙ্গন। এর পিছনের দিকে (আগে সেটিই সম্মুখভাগ ছিল) রয়েছে সিংহ-সিংহীদের বিশ্রাম নেবার জন্য উঁচু ছাদযুক্ত বিশালাকার কয়েকটি ঘর। বাড়িটি খিলানযুক্ত উঁচু গোলাকার পাঁচিল দিয়ে ঘেরা।


বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব বাহাদুর (১৯০৬)।


উদ্বোধনী ফলক (উপরে) ভবনের নামাঙ্কিত ফলক (নীচে)।


ভবনের নামাঙ্কিত ফলক। নিচে ডানদিকের কোনায় 'হোমস এন্ড কোম্পানি' (Holmes & Co.)-র নাম খোদাই করা রয়েছে।


ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে তোলা চিড়িয়াখানার একটি আলোকচিত্র। দূরে 'বর্ধমান হাউস' দৃশ্যমান।


ভারতে ব্রিটিশ শাসনকালে তোলা চিড়িয়াখানার আরেকটি আলোকচিত্র। ডানদিকে 'বর্ধমান হাউস' দৃশ্যমান।

বহু আগে মূল প্রকোষ্ঠগুলিতে বাঘ ও সিংহ আলাদা আলাদাভাবে রাখা হতো। পরবর্তীকালে বাঘ ও সিংহগুলিকে 'ময়মনসিংহ এনক্লোজার', 'কার্নিভোরা হাউস', 'দ্বারভাঙ্গা হাউস' সহ অন্যত্র তৈরি হওয়া নতুন খাঁচায় স্থানান্তরিত করা হয়। এই বাড়িটিতে শুধুমাত্র সিংহদেরই রাখা হয়। একসময় এখানে বাঘ যে ছিল তার কিছু 'প্রাণী পরিচিতি বোর্ড' এই খাঁচার একপাশের পরিত্যক্ত অংশে আজও দেখা যায়। (নিচের ছবি দ্রষ্টব্য)


প্রাণী পরিচিতি বোর্ড।


প্রাণী পরিচিতি বোর্ড যেটি ভবন সংস্কারের পরও রেখে দেওয়া হয়েছে।

 

ময়মনসিংহ এনক্লোজার (The Mymensingh Enclosure)

বর্ধমান হাউসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হল ময়মনসিংহ ঘের। ময়মনসিংহ এনক্লোজার 'বর্ধমান হাউস'-এর পর সম্পাদিত একটি অন্যতম দৃষ্টি-আকর্ষণকারী স্থাপত্য। তৎকালীন বাংলা ও আজকের বাংলাদেশের একটি রাজ্য ময়মনসিংহের প্রয়াত মহারাজা বাহাদুর সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী (Maharaja Bahadur Suryakanta Acharya Chowdhury) কর্তৃক প্রদত্ত তহবিল থেকে এই বেষ্টনী নির্মাণের ব্যয় মেটানো হয়েছিল। তাঁর নামানুসারেই এনক্লোজারটির নামকরণ করা হয়েছে 'ময়মনসিংহ এনক্লোজার'।


ময়মনসিংহ-র (বাংলাদেশ) মহারাজা বাহাদুর সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী।

বর্তমানে এই খাঁচার সামনের দিকে রয়েছে পরিখাবেষ্টিত সিংহদের মুক্তাঙ্গন। যেটি ২০০৩ সালের ৭ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৎকালীন বনমন্ত্রী শ্রী যোগেশ চন্দ্র বর্মন উদ্বোধন করেছিলেন। এই মুক্তাঙ্গনটি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কৃত্তিম পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে খুবই যত্ন সহকারে নৈপুণ্যের সাথে নির্মাণ করা হয়েছিল।


পশুরাজের মুক্তাঙ্গন।


উদ্বোধনী ফলক।

 

দ্বারভাঙ্গা হাউস (Darbhanga House)


দ্বারভাঙ্গার মহারাজা লক্ষ্মীশ্বর সিং।

এটি এখন বাঘের উন্মুক্ত এনক্লোজার (পরিখা ঘেরা মুক্তাঙ্গন) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটির পিছনের দিকে পাথরের সাহায্যে দৃষ্টিনন্দন একটি বিশালাকার কৃত্তিম গুহা তৈরি করা হয়েছিল। এখনও বাঘের এই মুক্তাঙ্গনটি চিড়িয়াখানার দর্শকদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণ।

গুহার পিছনে রয়েছে বাঘের খাঁচা। বহু পূর্বে সেই খাঁচার সামনে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে নিরাপত্তার কারণে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে খাঁচার সামনেটি পাকাপাকিভাবে পাঁচিল তুলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

কুমিরদের জলাশয় (Chrocodile Pool)

অতীতে কুমিরদের জলাশয় (ক্রোকোডাইল পুল)-টি মূলত সাপেদের জন্য একটি প্রস্তর দ্বারা সজ্জিত বাসস্থান ছিল। এটি এক সময় দর্শকদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিল কিন্তু পরবর্তীকালে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় 'সরীসৃপ ভবন' (রেপটাইল হাউস) নির্মিত হবার পর এটি দর্শকদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে যায়। দর্শকরা ক্রমে 'সাপেদের জন্য নির্মিত এই পুরোনো প্রস্তর-সজ্জিত বাসস্থান'টি উপেক্ষা করে রেপটাইল হাউসেই ভিড় করতেন বেশি। ফলস্বরূপ চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এরপর 'সাপেদের প্রস্তর-সজ্জিত বাসস্থান' (স্নেক-রকারি)-টি ক্রোকোডাইল পুলে রূপান্তরিত করেন। বর্তমানে এখানে তিন ধরনের কুমির রয়েছে - ঘড়িয়াল (Gharial), মেছো কুমির (Mugger) এবং লবণাক্ত জলের কুমির (Saltwater Crocodile)।

 

সরীসৃপ ভবন (Reptile House)


সরীসৃপ ভবন।


'সরীসৃপ ভবন'-এর অদূরে নবনির্মিত অ্যানাকোন্ডার ঘর।


ইয়েলো অ্যানাকোন্ডা।

 

হাতিদের মুক্তাঙ্গন (Open Air Enclosure for Elephant)

চিড়িয়াখানায় আগে হাতিদের জন্য কোনো মুক্তাঙ্গন ছিল না। হাতিগুলিকে 'সরীসৃপ ভবন'-এর অদূরে ডানদিকে একটি বড় চালাঘরের ভিতর রাখা হতো। দর্শকরা নির্দিষ্ট দূরত্বে কোমরসমান রেলিং দিয়ে ঘেরা জায়গায় দাঁড়িয়ে হাতি দেখতে পেতেন।


হাতি রাখার পুরোনো চালাঘর।

হাতিদের জন্য পুরোনো আস্তানা (Old Elephant Strand): এটি একটি শেডযুক্ত স্ট্র্যান্ড যেখানে আগে হাতিদের প্রদর্শন করা হতো। বর্তমানে এটি লোহার কাঠামো সংরক্ষণের জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যেগুলি চিড়িয়াখানার নানা স্থানে বেশ কয়েকটি ঘের তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একসময় কাজ মিটে গেলে এই পুরোনো হাতির স্ট্র্যান্ড ভেঙে ফেলা হবে যাতে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গনে অবাঞ্ছিত কাঠামো অপসারণ করা যায়।

একসময় 'সেন্ট্রাল জু অথরিটি' থেকে ঘোষণা করা হয় ভারতের সমস্ত চিড়িয়াখানায় পশুপাখিদের যথাসম্ভব মুক্তাঙ্গনে রাখতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও পশুপাখিদের মুক্তাঙ্গনে রাখার তোড়জোড় শুরু হয়। ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জ্যোতি বসু প্রথম হাতিদের মুক্তাঙ্গনটির উদ্বোধন করেন। তবে আগে বিচরণভূমিটি আকারে ছোট ছিল। পরবর্তীকালে 'সেন্ট্রাল জু অথরিটি'র নির্দেশে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে এনক্লোজারটি পরিবর্ধিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এটা অনেক বড় প্রকল্প ছিল।

হাতিদের মুক্তাঙ্গন পুনর্নির্মাণ করার সময় আলিপুর জুলজিক্যাল গার্ডেনের লেকের একটি অংশকে ঘেরের প্যাডক এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, যাতে প্রস্তাবিত ঘেরের মোট এলাকা এক হেক্টর করা যায়।

জায়গার অভাবে পাশেই অবস্থিত লেপার্ড, হায়নাদের চিড়িয়াখানার অন্যত্র স্থানান্তরিত করে তাদের জন্য তৈরি ঘর ভেঙে দিয়ে এই এনক্লোজারের পরিসর বাড়ানো হয়। নতুন মুক্তাঙ্গনটি ১২,০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে। এখানে কৃত্রিমভাবে পুকুর তৈরি সহ বন্য পরিবেশের সব উপকরণ রাখা হয়েছে।


১৯৯৯ সালের ১ মার্চ প্রথম ঘেরযুক্ত হাতির মুক্তাঙ্গনটি উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জ্যোতি বসু।


ঘেরযুক্ত হাতির মুক্তাঙ্গনের উদ্বোধনী ফলক।


হাতির নবনির্মিত ঘেরযুক্ত মুক্তাঙ্গন।

 

সোনবার্সা এনক্লোজার (The Sonbarsa Enclosure)


সোনবার্সার মহারাজা হরিবল্লভ সিং।

সোনবার্সা বিহারের একটি জমিদারী এস্টেট। সোনবার্সার মহারাজা এই খাঁচাটি তৈরি করার উদ্দেশ্যে অর্থদান করেন। সোনবার্সার মহারাজার নামে নামাঙ্কিত এই খাঁচাটি পূর্বে বিভিন্ন ধরনের হরিণদের রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। পরে একসময় জলমার্জার রাখা হতো। বর্তমানে এখানে বাদামি ক্যাঙ্গারু রাখা হয়। প্রসঙ্গত, এটির সামনে কোনোরূপ তারজালি নেই। খাঁচার সামনের একাংশে বিশেষ ধরনের মজবুত কাঁচ দেওয়া রয়েছে।

 

শোয়েন্ডলার হাউস (The Schwendler House)


কার্ল লুই শোয়েন্ডলার (স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা প্রতিকৃতি)।

এই বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল কার্ল লুই শোয়েন্ডলার (Carl Louis Schwendler), ভারত সরকারের পোস্টমাস্টার এবং একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের নামে। তিনি আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রথম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে অর্থ এবং অনেক প্রাণী দান করেছিলেন। বাড়িটি ১৮৭৬ সালে নির্মিত হয়েছিল। সেই সময়ে এখানে একটি সুন্দর ক্ষুদ্রাকৃতি পুস্করিণী ছিল। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে ছোট ছোট জলের স্রোত কৃত্রিমভাবে সাজানো নুড়ি পাথরের মধ্য থেকে ঝর্ণা আকারে বেরিয়ে আসত। তার একদিকে ছিল ঘাসজমি এবং অন্যদিকে ছোটবড় নুড়িযুক্ত জায়গা ছিল।

আজ এখানে তোতা গোত্রের বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। চিড়িয়াখানার নথি থেকে জানা যায় ১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কার্ল লুই শোয়েন্ডলার তিতির (Francolin), সিয়ামিজ ফায়ারব্যাক (Siamese Fireback), মোনাল (Monal), ফিঞ্চ গোত্রীয় ছোট আকারের পাখি (Common Linnet), বনমোরগ (Wild Common Fowl), মথুরা বা ফেজান্ট (Crimson Horned Pheasant), গিনিফাউল (Guineafowls) এবং কাঠময়ূর (Peacock-pheasant) ইত্যাদি দান করেন। আর ১২ ফেব্রুয়ারি দান করেন কালো মথুরা [লাইনেটেড কলিজ ফিজ্যান্ট] (Lineated Kalij Pheasant), সোনালি মথুরা বা চিনা মথুরা [গোল্ডেন ফিজ্যান্ট] (Golden Pheasant) এবং রূপালী তিতির [সিলভার ফিজ্যান্ট] (Silver Pheasant) ইত্যাদি।

 

স্বর্ণময়ী হাউস (The Sarnomoyi House)


মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্ৰ নন্দী।

কাশিমবাজারের মহারাণী স্বর্ণময়ী দেবী (১৮৩৮-১৮৯৭)-র আত্মীয় ও বংশধর মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্ৰ নন্দী (১৮৬০-১৯২৯)-র আর্থিক সহায়তায় চিড়িয়াখানার এই ভবনটি নির্মিত হয়। সবুজ বনানী ঘেরা এই বাড়িটিই পাখিদের স্থায়ী নীড়। মূল ভবনের তিনদিকে তারজালি দিয়ে ঘেরা তিনটি এভিয়ারি বা পাখিরালয় আছে সেগুলি যথাক্রমে - দ্য ইস্টার্ন এভিয়ারি, দ্য ওয়েস্টার্ন অ্যাভিয়ারি এবং দ্য সেন্ট্রাল এভিয়ারি। তৎকালীন সময়ে পূর্ব, পশ্চিম এবং মধ্যখানে অবস্থিত তিনটি খাঁচার মধ্যে ঝোপঝাড় ও গাছপালার সাহায্যে পাখিদের জন্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন ধরনের ছোট, মাঝারি ও বড় পাখি রাখা হয়। ব্রিটিশ আমলে বিশিষ্ট ইংরেজ স্থপতিরা এই খাঁচাগুলি ডিজাইন করতেন। তাঁরা কোনো এভিয়ারি (পক্ষিশালা) বা মোটেড এনক্লোজার (পরিখাবেষ্টিত স্থান) ডিজাইন করার সময় সেগুলির মধ্যে কৃত্তিম প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে বজায় থাকে সেদিকে সর্বদা নজর রাখতেন। এখনও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে কোনো নতুন খাঁচা বা মুক্তাঙ্গন নির্মাণ করতে হলে 'সেন্ট্রাল জু অথরিটি'-র নির্দেশিকা বা গাইডলাইন মেনেই তা করতে হয়।

 

মুর্শিদাবাদ হাউস (The Murshidabad House)


মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুর হাসান আলি মির্জা (বামদিকে) ওয়াসিফ আলি মির্জা খান বাহাদুর (ডানদিকে)।


নবরূপে পুনর্গঠিত ও অলংকৃত 'মুর্শিদাবাদ হাউস'।


একটি পুরুষ রাগগিয়ানা বার্ড অফ প্যারাডাইস (Paradisaea raggiana)।

'মুর্শিদাবাদ হাউস'-এর নামকরণ করা হয়েছে এর দাতা, মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুরের সম্মানে। সেই সময়ে এই বাড়িতে 'বার্ডস অফ প্যারাডাইস' গোত্রের পাখি রাখা হতো। বার্ডস অফ প্যারাডাইস হল প্যাসারিফর্মেস ক্রমের প্যারাডাইসাইডি পরিবারের সদস্য। এর বেশিরভাগ প্রজাতি পূর্ব ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি এবং পূর্ব অর্স্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। পরিবারটির ১৭টি বংশে ৪৫টি প্রজাতি রয়েছে। এই প্রজাতির পুরুষদের চঞ্চু, ডানা, লেজ বা মাথা থেকে খুব লম্বা ও বিস্তৃত পালক থাকে। এই পরিবারের সদস্যরা প্রজাতির পুরুষদের পালকের বাহারের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বেশিরভাগ অংশে, তারা ঘনবর্ষণযুক্ত বনাঞ্চল (রেইনফরেস্ট)-এ বাস করে। এই প্রজাতির পাখিদের প্রধান খাদ্য ফল। এছাড়াও অল্প পরিমাণে অমেরুদন্ডী প্রাণী (আর্থ্রোপড) এদের খাদ্যে প্রাধান্য পায়। গহীন জঙ্গলে বসবাসকারী আদিবাসীদের প্রাকৃতিক অলংকার, শহুরে মহিলাদের টুপিতে এদের চাকচিক্যময় পালকের ব্যবহার হেতু মানুষের সীমাহীন লোভ, শিকার এবং বাসস্থান ধ্বংস এই পাখির কিছু প্রজাতিকে আজ বিপন্ন অবস্থায় এনে ফেলেছে। এই বাড়িতে আরও বিভিন্ন মূল্যবান পাখি থাকত। বর্তমানে এখানে বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় এবং বিদেশী দুষ্প্রাপ্য পাখি রয়েছে।

 

গুবে হাউস (The Gubbay House)


'গুবে হাউস' পূর্বে যেমন ছিল। (ছবি ১)


'গুবে হাউস' পূর্বে যেমন ছিল। (ছবি ২)

কলকাতার এক বিখ্যাত ইহুদি পরিবারের মিঃ ইলিয়াস গুবে (Mr. Ellias Gubbay)-র স্মরণে 'গুবে হাউস' নির্মিত হয়েছিল। পূর্বে এটি এপ এবং বানর জাতীয় প্রাণী রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। আগে এই বাড়িতে অসমীয়া বানর, বনেট বানর এবং লেঙ্গুর (হনুমান) প্রদর্শিত হতো। প্রস্তাবিত 'পশু সংগ্রহ পরিকল্পনা'য় এটি স্থির করা হয়েছিল যে অসমীয়া বানর, বনেট বানর এবং সাধারণ লাঙ্গুর পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়া হবে। এই খাঁচাটি একটি আয়তাকার ইটের তৈরি ইমারত। যার পরিমাপ দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট এবং প্রস্থে ৩০ ফুট ও উচ্চতায় ২২ ফুট। এখানকার ছাদ খিলানযুক্ত।


'গুবে হাউস' পুনর্গঠনের কাজ চলছে।


নবরূপে পুনর্গঠিত 'গুবে হাউস'। (ছবি ১)


নবরূপে পুনর্গঠিত 'গুবে হাউস'। এখন যেটির নামকরণ করা হয়েছে নিশাচর প্রাণীদের ঘর (Nocturnal House) (ছবি ২)

পরবর্তী সময়ে স্থির করা হয় সজারু (Porcupine) এবং লজ্জাবতী বানর (Slow Loris) প্রদর্শনের জন্য এই বাড়িটিকে 'নকটার্নাল হাউস' হিসাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ 'গুবে হাউস'কে নিশাচর (Nocturnal) প্রাণীদের আবাসস্থল হিসাবে পুনর্নির্মাণ করেছেন। এই বাড়িটির প্রবেশপথে একটি বিশালাকার পেঁচা নির্মাণ করা হয়েছে। যেটি নিশাচর (Nocturnal) প্রাণীদের প্রতিনিধিত্ব করছে। ভিতরের পরিবেশ আলো-আঁধারী যুক্ত হওয়ায় বেশ মনোমুগ্ধকর লাগে।


সজারু (Porcupine)


বনরুই (Pangolins)।

 

ডুমরাঁ হাউস (The Dumraon House)


ডুমরাঁর মহারাজা বাহাদুর কেশব প্রসাদ সিং।

এই জমকালো বাড়িটি ১৮৭৮ সালে বিহারের একটি শহর ডুমরাঁর মহারাজার সম্মানে নির্মিত হয়েছিল এবং ১৯০৬ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। এটির ওপরে ঘন ছায়াযুক্ত গাছের শেড আছে। এখানে দুটি প্রধান ভবন একটি কেন্দ্রীয় লোহার খাঁচা দ্বারা সংযুক্ত আছে। প্রাথমিকভাবে এটি ইউরোপীয় বানরদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। আজ এই বাড়িটি বনেট বানর এবং লেঙ্গুর (হনুমান) এবং শেয়ালদের থাকার জায়গা হিসাবে ব্যবহৃত হয়।


'ডুমরাঁ হাউস' আগে যেমন ছিল।

 

এজ়রা হাউস (The Ezra House)


মিঃ ডেভিড জোসেফ এজ়রা।


ভারতে ব্রিটিশরাজের সময়ে তোলা এজ়রা হাউস সংলগ্ন পরিখার ছবি।


'এজ়রা হাউস' সংলগ্ন পরিখার বাইরে দর্শকদের ভিড়।


'এজ়রা হাউস' (সামনে থেকে তোলা আলোকচিত্র)।


'এজ়রা হাউস' (পিছনের দিক থেকে তোলা আলোকচিত্র)।


'এজ়রা হাউস'-এর ভিতর একটি জিরাফ শাবক।

এজ়রা হাউসটি মিঃ ডেভিড জোসেফ এজ়রা (Mr. David Joseph Ezra)-র অনুদানে নির্মিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন কলকাতার 'বাগদাদি ইহুদি সম্প্রদায়'-এর একজন ইহুদি ব্যবসায়ী। তিনি চিড়িয়াখানায় একজোড়া জিরাফ দান করেছিলেন এবং এগুলি রাখার জন্য বাড়িটি ১৮৭৭ সালে নির্মিত হয়েছিল। আজ চিড়িয়াখানার এই বাড়িটিতে জিরাফরা বাস করে। পরবর্তীকালে এই বাড়ি ও তার আশপাশের পরিবেশ জিরাফ প্রজননের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এখানে জন্মানো বহু জিরাফ পরবর্তীকালে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফে অন্যান্য চিড়িয়াখানার সাথে অন্য কোনো পশু বা পাখির বিনিময়ে আদান-প্রদান করা হয়েছে।

 


ভালুকের খাঁচা। বর্তমানে এটি আর নেই। (ছবি ১)


চিড়িয়াখানার আরেকটি পুরোনো আলোকচিত্র (ছবি ২)। এটি ভালুকের খাঁচার (সামনে)। এটিরই পিছনের অংশ ছবি ১-এ দৃশ্যমান।


চিড়িয়াখানার আরেকটি পুরোনো আলোকচিত্র (ছবি ৩)। এটি ভালুকের খাঁচার প্রাথমিক ছবি।

 

ব্যাকলান্ড এনক্লোজার (The Buckland Enclosure)


একটি ছোট জলহস্তিকে এক ভারতীয় কিপার খাওয়াচ্ছে। ছবিটি ১৯০৩ সালে তোলা। যদিও এটি 'ব্যাকলান্ড এনক্লোজার'-এরই ছবি কিনা তা জোর দিয়ে বলা যায় না।


'ব্যাকলান্ড এনক্লোজার' এখন।

এই এনক্লোজারটি মিঃ সি. টি. ব্যাকলান্ড, আই.সি.এস. (Mr. Charles Thomas Buckland, I.C.S.)-এর সম্মানে 'ব্যাকলান্ড এনক্লোজার' নামে পরিচিত হয়। চিড়িয়াখানার শুরুর সময়ে মিঃ ব্যাকলান্ড বহু বছর চিড়িয়াখানার প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং চিড়িয়াখানার উন্নতির জন্য অনেক কাজ করেছিলেন। এই খাঁচাটি গন্ডারের জন্য নির্মিত হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে এখানে জলহস্তী রাখা হয়।

* * * *

আলিপুর চিড়িয়াখানা একটি খুব পুরোনো চিড়িয়াখানা যা নানা স্থানে এলোমেলোভাবে তৈরি কাঠামোসমেত নির্মিত। বর্তমান চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিড়িয়াখানার উন্নয়নমূলক কাজগুলি দর্শনার্থীদের চলাচল এবং এই ধরনের পুরোনো ভবনগুলির নান্দনিকতাকে প্রভাবিত না করেই সম্পন্ন করবেন।

পুরোনো ছোট আকারের মাংসাশী প্রাণীদের জন্য নির্মিত বাড়ি (Old Small Carnivora House)

এই পুরোনো কাঠামোটি বেঙ্গল টাইগারের জন্য নবনির্মিত কোনোপ্রকার জাল ব্যতীত কাঁচের মধ্যে দিয়ে দেখার সুবিধা সহ ওপেন এয়ার এনক্লোজার এবং সাদা বাঘের জন্য নির্মিত ওপেন এয়ার এনক্লোজার ঘেরের মাঝখানে অবস্থিত ছিল। হোয়াইট টাইগারের জন্য ওপেন এয়ার এনক্লোজারের মধ্যে প্রাচীরের ধার ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে নতুন করে রাতের আশ্রয়ের আস্তানা তৈরি করার পরে, এই পুরোনো বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। খালি জায়গায়, দর্শনার্থী এবং বাঘের ঘেরের কাঠামোর মধ্যে আড়াল তৈরি করার জন্য ঘন করে গাছ লাগানো হয়।

* * * *

বর্তমানে এই বাড়ির জায়গাটিতে পৃথক আকারে হায়েনা, ভারতীয় নেকড়ে, বন্য কুকুর, শেয়াল ইত্যাদি ছোট মাংসাশী প্রাণীদের জন্য প্রাকৃতিকভাবে উন্মুক্ত ঘের তৈরি করা হয়েছে। এমনকি প্রাচীরের দেওয়ালে দক্ষ শিল্পীদের দিয়ে জঙ্গলের দৃশ্য চিত্রিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হল পাশেই নবনির্মিত বেঙ্গল টাইগারের খাঁচার মতোই কোনোপ্রকার জাল ছাড়াই এখানে কাঁচের মধ্যে দিয়ে স্বচ্ছভাবে জীবজন্তু দেখার সুবিধা রয়েছে।

এর পাশেই একসময় ছিল শিকারী পাখিদের ঘর। যেটির অস্তিত্ব এখন আর নেই।

* * * *

কার্নিভোরা হাউস (Carnivora House)

এই 'কার্নিভোরা হাউস' প্রসঙ্গে একটা ঘটনার কথা মনে এলো। ১৮৮৬ সালে কলকাতা চিড়িয়াখানার গরম আর্দ্র আবহাওয়ায় একটি মেরু ভালুককে আরামদায়ক ও সুস্থ অবস্থায় রাখা ছিল এক কঠিন কাজ। চিড়িয়াখানার 'কার্নিভোরা হাউস' (Carnivora House)-এ বিশেষভাবে নির্মিত স্নানের জায়গা সহ কৃত্রিম গুহা তৈরি করে ভালুকটিকে শীতলতম অংশে রাখা হয়েছিল এবং জায়গাটি শীতল রাখতে সেখানে নিয়মিত প্রচুর বরফের যোগান দেওয়া হতো।

ওদিকে একসময় বিদেশে বিশেষ করে 'ভিক্টোরিয়ান চিড়িয়াখানা এবং মেনাজেরি' সহ অন্যান্য চিড়িয়াখানাগুলিতে প্রদর্শিত প্রাণী হিসেবে দর্শকদের মধ্যে মেরু ভালুকের চাহিদা ছিল। মূলত নাবিকরা তাদের ধরে বন্দরে ফিরে না আসা পর্যন্ত জাহাজেই খাঁচায় আটকে রাখত।

একবার ইউরোপে নোঙর করা এক জাহাজে, ভালুকদের বন্দীদশায় যে ভয়ানক অবস্থায় রাখা হতো, অ্যাবর্ডিন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Aberdeen, Scotland)-এর ফটোগ্রাফার, জর্জ ওয়াশিংটন উইলসন (George Washington Wilson) সেটির আলোকচিত্র নেন। তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।


১৮৮০-র দশকের শেষের দিকে তোলা খাঁচায় বন্দী একটি মেরু ভালুক। জর্জ ওয়াশিংটন উইলসন (George Washington Wilson)-এর তোলা আলোকচিত্র।


ফ্রেডরিক টিউডর (Frederic Tudor)।


বরফ ব্যবসায়ী ফ্রেডরিক টিউডর।


জাহাজ থেকে বরফ নামিয়ে দ্রুত বরফ-ঘরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


কলকাতা স্থিত বরফ-ঘর।

নতুন ছোট আকারের মাংসাশী প্রাণীদের জন্য নির্মিত বাড়ি (New Small Carnivora House)

এটি হাতিদের জন্য নির্মিত মুক্তাঙ্গনের পাশেই অবস্থিত ছিল। চিতাবাঘ এবং জাগুয়ারদের এনক্লোজার নির্মাণ এবং লেপার্ড এবং জাগুয়ারকে সেই নতুন এনক্লোজারে স্থানান্তর করার পরে, এই বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয় এবং খালি জায়গাটি চিড়িয়াখানার প্রস্তাবিত হাতির মুক্তাঙ্গনের ঘেরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লিংক্স (বনবিড়াল-জাতীয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন প্রাণী) হাউস (Lynx House)

বর্তমানে এখানে লেসার ক্যাট প্রদর্শিত হয়। নতুন লেসার ক্যাট এনক্লোজার তৈরি হওয়ায় পুরোনো এই বাড়িটি তার গুরুত্ব হারিয়েছে। অনেক পুরোনো কাঠামো হওয়ায় চিড়িয়াখানার চত্বর থেকে অপ্রয়োজনীয় স্থাপনা দূর করতে বর্তমান চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই বাড়িটিও ভেঙে ফেলা হবে।

ফেজ্যান্ট হাউস (Pheasant House)


পুরোনো ফেজ্যান্ট হাউস।

ফেজ্যান্ট হাউসের একটি অংশে পুরোনো খাঁচাগুলোর সামনে সারিবদ্ধ আকারেই নতুন খাঁচা নির্মাণ করা হচ্ছে। ফেজ্যান্ট হাউসের কিছু পুরোনো খাঁচা পুনর্নির্মাণের পর অবশিষ্ট খাঁচাগুলো ভেঙে ফেলা হবে। খালি জায়গাটিকে উদ্যান করার জন্য ব্যবহার করা হবে।

*  *  *  *

এ তো গেল চিড়িয়াখানার এভিয়ারি আর এনক্লোজার-এর কথা। এগুলি ব্যতীত চিড়িয়াখানায় আরও কতকগুলি ভবন তৈরি করা হয়েছিল। সেগুলো চিড়িয়াখানার নানা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হতো বা এখনও হয়। এবার এইসব ভবনগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক।

স্যার জ্যোতিন্দ্র মোহন ঠাকুর লাইব্রেরী (Sir Jotindra Mohun Tagore Library)


পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবারের মহারাজা স্যার জ্যোতিন্দ্র মোহন ঠাকুর।

আলিপুর চিড়িয়াখানার লাইব্রেরীটি স্যার জ্যোতিন্দ্র মোহন ঠাকুর (তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্মেন্ট-এর আদেশবলে কলিকাতার 'নাইট কমান্ডার' উপাধিপ্রাপ্ত) (Maharaja Sir Jotindra Mohun Tagore, Knight Commander of the Order of the Indian Empire - K.C.I.E. of Calcutta)-এর নামে নামাঙ্কিত করা হয় কারণ চিড়িয়াখানার শুরুর সময়ে তিনি চিড়িয়াখানার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। উনি পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও বাংলার অভিজাত সম্প্রদায়ের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। ওঁনার ইচ্ছা ছিল, প্রাণীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পৃথিবীর সমস্ত প্রয়োজনীয় বই এই লাইব্রেরীতে থাকবে। সেই উদ্দেশ্যে তিনি চিড়িয়াখানায় প্রচুর অর্থদান করেন ও সেই অর্থের সাহায্যে ১৮৯৮ সালে চিড়িয়াখানার পরিসরে এই লাইব্রেরীটি গড়ে তোলা হয়। চিড়িয়াখানার আরেক পৃষ্ঠপোষক স্যার জন এডগার (Sir Jhon Edgar) এই লাইব্রেরীর জন্য বইয়ের আলমারি দান করেন। এই ঐতিহ্যশালী লাইব্রেরীতে বর্তমানে প্রায় ১,৪০০-র বেশী বই রয়েছে যার অধিকাংশই দুষ্প্রাপ্য।

ইডেন হাউস (Eden House)

এই ভবনটি চিড়িয়াখানার মূল প্রশাসনিক ভবন। চিড়িয়াখানার প্রবেশপথের ঠিক বামদিকে এটি অবস্থিত। এখানেই চিড়িয়াখানার বর্তমান ডিরেক্টরের ঘর রয়েছে। এখান থেকেই চিড়িয়াখানার সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়। বাড়িটি বহুপূর্বে সম্পূর্ণরূপে কাঠের তৈরি ছিল। পরে এটির আমূল সংস্কার করা হয়, আগের স্থাপত্যকে বজায় রেখেই। এটি দেখতে অনেকটা ব্রিটেনের গ্রাম্য অঞ্চলে অবস্থিত ফার্ম হাউসের মতো।

প্রকৃতি তথ্য কেন্দ্র (Nature Information Centre)


বাগানের কেন্দ্রে 'অ্যাটলাস'-এর মূর্তি।

চিড়িয়াখানার ঠিক কেন্দ্রস্থলে যেখানে গোলাকৃতি উদ্যানের ভিতর অ্যাটলাস (Atlas)-এর মূর্তি আছে তার ঠিক পিছনেই এই 'প্রকৃতি তথ্য কেন্দ্র'টি অবস্থিত। এখানে প্রাণীবিদ্যার বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করা হয়। জনসাধারণের প্রবেশ এখানে নিষিদ্ধ।


চিড়িয়াখানাস্থিত লেক। যেখানে পরিযায়ী পাখিরা ভিড় করে।


লেকের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত আইল্যান্ড।


লেক সমেত আইল্যান্ডের পুরোনো একটি আলোকচিত্র। (ছবিটি ফ্রাঙ্ক ফিন্‌-এর সর্বজনবিদিত বই 'Garden and Aviary Birds of India'-য় ছাপা হয়েছিল।)


চিড়িয়াখানায় লেকের একটি শাখার উপর নির্মিত সেতু।


চিড়িয়াখানার সেতু।

এছাড়াও চিড়িয়াখানার স্থানে স্থানে অনেক ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ (Monument), ফোয়ারা (Fountain), বিশ্রামের স্থান (Resting Place), উদ্যান (Garden) ইত্যাদি রয়েছে। সেগুলিও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। সেগুলিও ভারতে ব্রিটিশরাজের সময়কার স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। সেগুলির কিছু ছবি ও তথ্য নীচে দেওয়া হলো।


বিশ্রামের স্থান। (ছবি ১)


বিশ্রামের স্থান। (ছবি ২)


পানীয় জলের জায়গা।


একটি স্মৃতিস্তম্ভ।


জাপান থেকে আনা ফুলের গাছ। যা এখন কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে বলি, শুরুর দিকে পৃথিবীর নানা দেশ থেকে সেই দেশে জন্মায় এমন বিভিন্ন গাছ এনে চিড়িয়াখানায় লাগানো হতো। সেগুলো যতটা না প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করার জন্য নান্দনিকতার খাতিরে তার থেকেও বেশি মূলত পশুপাখিদের খাদ্য ও তাদের বাসস্থানকে বাসযোগ্য ও আরামদায়ক করে তোলার জন্য। এখনও চিড়িয়াখানায় এমন অনেক গাছ দেখতে পাওয়া যায় যেগুলি আমাদের দেশে কস্মিনকালেও জন্মায়নি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের যেসব অঞ্চল ব্রিটিশদের অত্যন্ত প্রিয় ছিল সেসব জায়গায় তারা পৃথিবীর নানা দেশ থেকে গাছ এনে লাগাতেন। এ প্রসঙ্গে একটা আশ্চর্য ঘটনার কথা বলি। বছর দশেক আগে একদল উদ্ভিদবিদ ঝাড়খণ্ডের পালামৌতে গিয়েছিলেন দুর্লভ প্রজাতির গাছ গণনার কাজে। সে কাজ করতে গিয়েই ডালটনগঞ্জের স্টেশন রোডে তারা খুঁজে পান আফ্রিকান বাওবাব প্রজাতির এক বহু প্রাচীন গাছ। তাঁদের ধারণা, গাছটি অন্তত এক হাজার বছরের পুরোনো। তবে গাছটির সঠিক বয়স নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। এলাকার মানুষ গাছটিকে তেঁতুল গাছের মতো কোনও গাছ বলেই জানতেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছ দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশি দেখা যায়। ডালটনগঞ্জ ব্রিটিশদের অত্যন্ত প্রিয় জায়গা ছিল। সেখানেই গাছটি চিহ্নিত হয়!


চিড়িয়াখানাস্থিত বিভিন্ন গাছগাছালির তালিকা। (যাঁরা মোবাইলে দেখছেন, চাইলে ছবিটি জুম করেও দেখতে পারেন।)


কাকাতুয়া-র খাঁচা।


সম্প্রতি নির্মিত ম্যাকাও পাখির এভিয়ারি।

* * * *

বর্তমানে চিড়িয়াখানায় দর্শকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তার কয়েকটি নিচে দেওয়া হল।


সম্প্রতি নির্মিত 'চাইল্ড কেয়ার রুম'।


স্হায়ী স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র।


অস্হায়ী স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র। (ছবি ১-ক)


অস্হায়ী স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র। (ছবি ১-খ)


অস্হায়ী স্মারক বিক্রয় কেন্দ্র। (ছবি ২)


গাছের চারা বিক্রয় কেন্দ্র।


চিড়িয়াখানার পুরোনো প্রবেশপথ। এখন অনলাইনে টিকিট কাটলে এখান দিয়ে প্রবেশ করতে হয়।


চিড়িয়াখানার পুরোনো প্রবেশপথের ভিতরের ছবি।


চিড়িয়াখানার নবনির্মিত প্রবেশপথ।


ব্যাটারি-চালিত গাড়ি।

* * * *

সপ্তাহান্তে তাই সময় পেলে আবার একবার চিড়িয়াখানা ঘুরে আসুন। বিদেশে আগে সপ্তাহান্তে সাধারণ মানুষের পরিবার সমেত চিড়িয়াখানা ভ্রমণ ছিল প্রায় বাধ্যতামূলক। এখন নতুন ঝোঁক হয়েছে রাত্রিকালীন ভ্রমণ (Night Safari)। তাই পশুপাখি দেখার সাথে সাথেই নতুন করে ঘুরে দেখুন ঐতিহ্যমন্ডিত সেইসব ভবনগুলি।

আজ আমাদের শহর কলকাতাকে যখন ইঁট বালির জঙ্গল আর দূষণ ধীরে ধীরে গ্রাস করছে তখন আলিপুরের চিড়িয়াখানার ভিতরের এই অঞ্চলটি যেন একটুখানি টাটকা বাতাস, এক টুকরো অতীত। যেখানে প্রবেশ করলে যেন চোখের সামনে ইতিহাস জীবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে এলে মানসচক্ষে দেখতে পাবেন শোয়েন্ডলার সাহেব বাতিস্তম্ভ পরীক্ষা করছেন। সুপারিনটেনডেন্ট রামব্রহ্ম সান্যাল ঘুরে ঘুরে সবকিছু তদারকি করছেন...। এই লেখার সূত্রে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার আমাকে চিড়িয়াখানায় যেতে হয়েছে। সেখানে বহু মানুষকে দেখেছি একাকী চুপচাপ বসে থাকতে। তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জেনেছি তারা এখানে মাসে এক দু'বার আসেন শুধুমাত্র প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোর জন্য। আজ অতীতের অনেককিছুই আমরা হেলায় হারিয়ে ফেলছি। গোটা বিশ্বজুড়েই মানুষের মাত্রাতিরিক্ত লোভের শিকার হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। অন্তত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে আমরা কী পারি না আমাদের শহরের গর্ব আমাদের প্রাণাধিক প্রিয় এই এক টুকরো অতীতকে রক্ষা করতে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরাই পারি।


চিত্রঋণঃ কিছু ছবি অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত। কিছু আলোকচিত্র লেখকের নিজস্ব।

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো? আপনার মতামত জানান এই লিঙ্কে ক্লিক করে -
https://dotpen.in/feedback/