শিল্পকলা

বিশেষ সাক্ষাৎকার - শ্রী গৌতম মুখোপাধ্যায় (বিষয়ঃ ইউরোপের শিল্পকলা) [তৃতীয় পর্ব]




[শ্রী গৌতম মুখোপাধ্যায় পেশায় একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। পেশার কারণে ৮০-র দশকের শুরু থেকেই তাঁকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করতে হয়েছে, সেই সূত্রে সেই সমস্ত দেশের মিউজিয়ম-এ গিয়ে শিল্পকলা নিয়ে তিনি চর্চা চালিয়েছেন সুযোগ সুবিধে মতোন। এমন ভারতীয় খুব কম সংখ্যায় রয়েছেন যাঁরা গৌতমবাবুর মতো বিশ্বজুড়ে শিল্পের ইতিহাস নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চর্চায় রত অথচ শিল্পকলার পেশার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন। তাঁর জাদুঘর পরিদর্শন নিয়ে তিনি একান্তে বিশদ আলোচনা করেছেন শুভাশীষ ঘোষ-এর সঙ্গে। কথোপকথনটি দীর্ঘ হওয়ায় আমরা এটিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করব। এবার তৃতীয় পর্ব]

গৌতমঃ 'ভার্জিন অফ দ্য রকস' দেখার পরে আর যে ছবিগুলো আমার মনে আছে... সবকটা তো আমি সেরকমভাবে রেকর্ড করিনি... আমার যা যা মনে আছে সেটা হচ্ছে পিটার পল রুবেন্স (Peter Paul Rubens)-এর আঁকা 'স্যামসন এন্ড ডেলিলা' (Samson and Delilah). পিটার পল রুবেন্স-এর নাম চিরকাল শুনে এসেছি। রুবেন্স-এর অতো নিখুঁত আঁকা অতো complecated আঁকা ভাবাই যায় না। একেকটা ছবি আঁকতে উনি কত সময় দিতেন আমি জানি না। 'Samson and Delilah' অসম্ভব intricate অপূর্ব details. তখনকার কালের এই ক্লাসিক্যাল পেইন্টিংগুলো দেখে আমি সত্যিই আশ্চর্য হয়েছিলাম যে কী লেভেলের ডিটেইলস-এ ছবি আঁকা সম্ভব আর কী লেভেলের ডিটেইলস ছবিতে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব!


স্যামসন এন্ড ডেলিলা (Samson and Delilah)। শিল্পীঃ পিটার পল রুবেন্স (Peter Paul Rubens)।

শুভাশীষঃ এটা বড় ছবি ছিল তো?

গৌতমঃ এটা বেশ বড় ছবি। এগুলো সবকটাই reasonably big paintings. প্রায় ৬x৭ ফুট তবে massive নয়। Massive paintings মানে প্রায় ২০x৩০ ফুট তারও কিছু memory আমার আছে... মানে যেগুলো ঘরজোড়া।

শুভাশীষঃ এগুলোর কালারগুলো কাছে গিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন...

গৌতমঃ কালারগুলো কাছে গিয়ে দেখা যায়। এই যে লাল রঙের depth-টা ভালো করে বোঝা যায়। তবে প্রত্যেকটা ছবিতেই কিন্তু ক্যানভাসটা ফাটাফাটা। কোনো ক্যানভাস কিন্তু smooth নয়। Unless the job is a restored painting. সবকটা ছবিই কিন্তু তাই। এমনকি যদি তুমি এখনকার মোনালিসার ছবি তুমি বড় করে দেখো তুমি দেখবে প্রচুর ফাটা। অতবছর ৪০০-৫০০ বছরের ছবি তো থাকে না ওরমভাবে। আর Rubens-এর এই ছবিটা একটু বেশি exciting এইজন্য যে তখনও খুব investigation হচ্ছিল। এই ছবিটা খুব সম্ভবত ২.৫ মিলিয়ন বা ওরকম একটা টাকা দিয়ে তখন ন্যাশনাল গ্যালারি সবে কিনেছিল। It was a new possession. সেইজন্যই the painting was quite famous. When it was displayed, it generated lot of interest among public and critics. ২০২৩ সালে ইন্টারনেটে পড়লাম যে এ. আই. (A. I.) বলেছে এই ছবিটা fake probably! 91 percent probability that this painting is not by Rubens.

শুভাশীষঃ তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি স্ক্যান করে মেটিরিয়াল টেস্ট করছেন সেটা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না...

গৌতমঃ এটা ওদের view-scan করেছে কিনা জানিনা তবে ওরা যেটা করেছে সেটা হল স্ক্যান করে ডেটাগুলো নিয়ে A. I. অন্য ছবির ডেটার সঙ্গে তুলনামূলক বিচার করেছে। A. I.-এর কাজ শুধু তথ্য দেওয়া নয়। The way he used to paint... আরও পঞ্চাশটা ছবি তিনি কেমন এঁকেছিলেন, তার সঙ্গে এঁর ছবি কেমনভাবে করা হয়েছে, কোনটার ওপরে কোন পেইন্টিং দেওয়া হয়েছে, কেমনভাবে ব্রাশস্ট্রোক দেওয়া হয়েছে - এইরকম অজস্র খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ওরা বিশ্লেষণ করেছে। এতকিছুর পরেই ওরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে সম্ভবত এটা জাল ছবি। সম্ভবতঃ এটা রুবেন্স-এর আঁকা নয়। এখানে নাকি রুবেন্স-এর সইটাও জাল করা হয়েছে।

শুভাশীষঃ তাহলে এটা অন্য কারোর তো অবশ্যই। তবে সেটা ওই সময়ের কারোর আঁকা।

গৌতমঃ হ্যাঁ... একই সময়ের। পিরিয়ড তো same. এটা exciting এইজন্যই যে তখনকার এটা একটা নতুন পজেশন। ন্যাশনাল গ্যালারি যদি দেখো তাহলে দেখবে বেশিরভাগই ১৮৭০, ১৮৮০, ১৮৯০ সালের সব পজেশন। অনেক ছবিই অন্য দেশ থেকে তুলে আনা। ইংলন্ডের তো জানোই অনেক exhibit-ই তো পকেট থেকে পয়সা খরচা করে কেনা নয় (হাসি)... আগে অনেককিছুই এসেছে ওরমভাবে।

শুভাশীষঃ বিশেষ করে এই জায়গায় বলি যখন আমাদের এখানকার হাজারদুয়ারী তৈরি হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের নবাব কি করেছিলেন সেইসময় সারা পৃথিবীজুড়ে ইউরোপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় আফ্রিকা থেকেও মুখোশ বলুন বা মূর্তি বলুন বা অরিজিনাল পেইন্টিং কিনে এনেছিলেন।

গৌতমঃ যার অনেকগুলো ওরা নিয়ে চলে গেছে। যেগুলো পরে ন্যাশনাল গ্যালারিতে গিয়ে জমা হয়েছে। এটাই ওদের advantage.

শুভাশীষঃ ...এবং সম্প্রতি জানা গেছে এখনও পর্যন্ত সারা পৃথিবী থেকে যতো artifacts হারিয়েছে তার বেশিরভাগটাই লন্ডন মিউজিয়াম থেকে। প্রায় আড়াইশোর ওপর পেইন্টিংস চুরি হয়ে গেছে।

গৌতমঃ বলো কি! এটা নতুন খবর। এটা আমার জানা ছিল না।

শুভাশীষঃ এই রুবেন্স-এর কাজটা যখন দেখলেন তখন এখানে কি কোনো গাইড বা ওরকম বোঝানোর কেউ ছিল?

গৌতমঃ গাইড চাইলেই পাওয়া যায়। তুমি পয়সা খরচ করে গাইড নিতেই পারো যে কোনো সময়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে সেই গাইডও কিন্তু professional tour গাইড। আর্টিস্ট নাও হতে পারে। আর্টের গাইড আমি একটা জায়গাতেই পেয়েছিলাম সেটা হচ্ছে Musee de Orangerie. যেটা প্যারিসে। যেখানে মন (Monet)-এর বড়ো সত্তর ফুট ছবি আছে। That was the only time I paid a lady guide, যার আর্ট সম্বন্ধে অগাধ জ্ঞান।

শুভাশীষঃ ধরুন ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ক্ষেত্রে ভিসিটরদের সাহায্য করার জন্য কোনো বই বা ব্রোশিওর ছিল?

গৌতমঃ বই তো থাকেই। তার জন্য আলাদা কাউন্টারও আছে। কিন্তু আমি তখন বই কিনতাম না। তার কারণ হচ্ছে আমি তখন ইংল্যান্ডে গেছি বেড়াতে, তারপরে দেশে ফিরবো তো... I already had lot of weight. আর নাইজেরিয়া থেকে সব মালপত্র নিয়ে ইংল্যান্ডে যাওয়া। সেখানে গিয়ে আমি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু electronic goods সহ টুকিটাকি এতই জিনিস কিনে ফেলেছি, তখন আমার ব্যাগের ওজন বেশি। আমাকে প্লেনে ভারতে ফিরতে হবে। ফলে নতুন করে আমি আর মালের ওজন বাড়াতে চাইনি, খুব প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া। ফলে ইচ্ছে থাকলেও কোনও মিউজিয়মেই আমি কিন্তু বই কিনিনি। ওখানে সব মোটা মোটা বই, অপূর্ব বই। একমাত্র ব্রোশিওর বা বুকলেট আমি জোগাড় করলেও দুর্ভাগ্যবশত আমাকে ওগুলো ছেড়ে আসতে হয়েছে। শুধুমাত্র অত্যাধিক ওজন কমাতে। তবে আজকাল আমি ওগুলো সঙ্গে নিয়ে আসি। বিশেষ করে introduction-এর জন্য যে pamfret-টা থাকে যা দেখায় layout, কোন জায়গায় কি exhibit আছে সেটা। এখন অবশ্য ওগুলো ইন্টারনেট থেকেও ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। সমস্ত মিউজিয়মের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে। সেখানে সব information পাওয়া যায়। এখন সব মিউজিয়মে তো অডিও গাইড-ও পাওয়া যায়। এটাতে খুব সুবিধে হয়েছে।

শুভাশীষঃ যখন আপনি এতো নামকরা ছবিগুলো দেখছেন, সেই সময় তো সেখানে সেইসব ছবিগুলোর সম্বন্ধে নিশ্চয়ই কোনো তথ্য দেওয়া থাকবে?

গৌতমঃ সেটা ওই পেইন্টিংগুলোর পাশে প্রাথমিক কিছু তথ্য দেওয়া থাকে। তার বাইরে আর কিছু থাকে না।

শুভাশীষঃ ছবির লাইটিং বা ফ্রেমিংগুলো কিরকম ছিল সে'সময়?

গৌতমঃ ছবির ফ্রেমগুলো খুব expensive. খুব intricate design, গিল্টি করা। আর লাইট-এর ওপর খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। সব জায়গাতেই ওপর থেকে লাইটিং করা হয়েছে পাশ থেকেও দেওয়া রয়েছে। একটা জিনিস মাঝে মাঝে খুব অসুবিধা হয়, যেহেতু ছবির ওপরে আজকাল কাঁচ দেওয়া থাকে... এককালে কাঁচ দেওয়া হতো না ছবিতে। সব ছবিই খোলা থাকত। কিছু ছবিতে এখন একটা বুলেটপ্রুফ গার্ড দেওয়া থাকে। ফলে আজকাল যদি তুমি ছবি তুলতে যাও ফটোতে একটা reflection আসবে। তোমাকে হতাশ হতে হবে, কারণ কোনো ছবিরই তুমি ভালো করে ছবি তুলতে পারবে না, কমবেশি সব ছবিতেই একটা reflection আসবে।

শুভাশীষঃ সেই কারণেই এখন যেটা সুবিধে হয়েছে ছবিতে লাইটিংটা আর কাঁচটা সেইভাবে ব্যবহার করা হয় যেখানে আপনার কোনও reflection পড়বে না। কেন বলছি এখানে প্রখ্যাত শিল্পী যোগেন চৌধুরী তো বহুদিন ধরে ছবি আঁকছেন। প্রায় চল্লিশ বছর আগে... আমি উনিশশো সত্তর-আশির দশকের কথা বলছি, সে সময় যোগেন চৌধুরীর ছবির সবথেকে বড় যিনি collector ছিলেন জাপানের এক ভদ্রলোক... মিলিয়নেয়ার একজন... উনি দীর্ঘদিন ধরে যোগেন চৌধুরীর চল্লিশখানা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন। উনি কি করতেন সারা পৃথিবীজুড়ে ঘুরে ঘুরে যোগেন চৌধুরীর এই চল্লিশখানা ছবির প্রদর্শনী করতেন। ভারতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে কলকাতার ICCR গ্যালারিতে প্রদর্শিত করেন। সেখানেই আমি স্বচক্ষে দেখেছিলাম প্রথমতঃ ছবির যে কাঁচগুলো ছিল সেগুলো বুলেটপ্রুফ কাঁচ। সেটা জাপানে তৈরি এবং খুবই দামি। দ্বিতীয়তঃ অদ্ভুতভাবে ওটাতে কোনও reflection আসে না! এখন তৈরি হয়ে গেছে এই ধরণের কাঁচ।

গৌতমঃ এটা ব্যতিক্রম হতে পারে। কিন্তু এখন বেশিরভাগ মিউজিয়মেই দেখেছি এমনকি শেষ তিনমাস আগেও যেসব মিউজিয়মে গিয়েছি সেখানেও কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো special treatment of glasses দেখিনি। যদিও বেশিরভাগ ছবিতেই Glass নেই। যেগুলোতে গ্লাসগুলো আছে সেগুলো সবকটাই যে বুলেটপ্রুফ তারও কোনও গ্যারান্টি নেই। কিন্তু reflection হয়। যেজন্য আমি পারতপক্ষে মিউজিয়মে গিয়ে ছবি তুলি না। আমি মিউজিয়মে ছবি তুলি only to keep my memory. কারণ এখন ছবিগুলোর অনেক ভালো Scan ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। যদি একান্তই সংগ্রহে রাখার দরকার হয়। আরেকটা ব্যাপার যদি খুব বড় ক্যানভাসের ছবি হয় সেক্ষেত্রে ক্যামেরায় যে depth পাওয়া যাবে, সেখানে পরে ছবির ডিটেইলিং খুঁজে পাওয়া খুব দুষ্কর। বেশিরভাগ সময়তেই ছবি তোলার একটা defect এসেই যায়। যদি না সে পেশাদার ফটোগ্রাফার হয়। ভালো ছবি পেতে তোমার অসুবিধে হবেই। তুমি এমন একটা জায়গা থেকে ছবি তোলার সুযোগ পেলে যেখানে হয়ত আলোর একটা বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধরো Accademia-তে Michelangelo-র ডেভিড (David)-এর মূর্তি... সেটা এতটাই জায়গা জুড়ে, ও তুমি হয়তো এতই সামনে পৌছতে পারছ সেখান থেকে হয়ত তার একটা অংশ তুলতে পারলে। Otherwise পুরোটা তোলার জন্য তোমাকে উপরে কোনো একটা vintage point-এ গিয়ে ছবিটা ভালোভাবে তুলতে হবে সেখানে হয়ত তোমার access নেই। অতএব এগুলোর ঠিকঠাক ছবি তোলা খুব শক্ত।


ডেভিড (David)। শিল্পীঃ মাইকেলেঞ্জেলো (Michelangelo)।

শুভাশীষঃ রুবেন্স দেখার পর আপনি কোন ছবি দেখলেন?

গৌতমঃ রুবেন্স দেখার পর আমি দেখলাম 'লেডি স্ট্যান্ডিং এ্যাট এ ভারজিনাল (Lady Standing at a Virginal)'। এটা ভারমীর (Johannes Vermeer)-এর আঁকা ছবি। ভারমীরকে নিয়ে আমার খুবই আগ্রহ ছিল। যেজন্য ওই একই ভ্রমণকালে আমি যখন নেদারল্যান্ডস গিয়েছিলাম, I made sure I went to Delft also. ডেল্ফট্ (Delft) হচ্ছে ভারমীর-এর নিজের শহর। সম্প্রতি চার মাস আগে আমি আবার ডেল্ফট্ গিয়েছি। আকাশ পাতাল তফাৎ লক্ষ্য করলাম দুটো শহরের মধ্যে। তখন ১৯৮৩-তে ডেল্ফট্ ছিল একটা গ্রাম আর এখন একটা শহর। এখন প্রচুর ভিড়, ক্যাফে, লোকজন, গাড়িঘোড়া... তখন কিছু ছিল না... শান্ত নিরিবিলি একটা গ্রাম।


ডেল্ফট্ (Delft) এখন।

ভারমীর সম্বন্ধে একটা জিনিস আমি জানতাম যে ভারমীর যখন ছবি এঁকেছিলেন অনেক ছবিই একই সেটিং-এ আকাঁ ছবি। মানে বাঁদিকে জানলা সেই জানলা থেকে আলো আসছে... একটা কী দুটো figure। কারণ রাস্তার পাশেই ঘরটা। উনি ওটাকে পরিবর্তন করারও চেষ্টা করেননি। ভারমীর-এর ছবি যদি দেখো খেয়াল করে দেখবে... এবার আমি যখন ওঁর বাড়ি দেখতে গিয়েছিলাম ডেল্ফট্-এ গিয়ে, সেখানে দেখেছিলাম উনি যেখানে বসে ছবি আঁকতেন সেই জায়গাতে বাঁদিক থেকেই আলোটা আসত।


লেডি স্ট্যান্ডিং এ্যাট এ ভারজিনাল (Lady Standing at a Virginal)। শিল্পীঃ জোহানেস ভারমীর (Johannes Vermeer)।

শুভাশীষঃ অর্থাৎ কম্পোজিশনটা সবসময় এক ছিল।

গৌতমঃ একদমই identical. এমনকি ঘরে যে জিনিসপত্রগুলো আছে... একটা মানচিত্রের জায়গা... একটা ছবি আছে, হয়ত বা কিউপিড-এর ছবি। ওঁর অনেকগুলো ছবিতেই তুমি একই চিত্রপট দেখতে পাবে। ওঁর সেটিংটাও more or less similar. একটা চামড়া দিয়ে মোড়া পিতলের বোতাম লাগানো চেয়ার... because he didn't spend much money on props.

শুভাশীষঃ কারণ উনি ওঁনার শাশুড়ি মায়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

গৌতমঃ She was well-off. Reasonably well-off. ভারমীর নিজেও well-off ছিলেন তার কারণ হচ্ছে ওঁনার নিজেরও একটা পরিচিতি, একটা পসার ছিল... mostly for commission works. উনি প্রত্যেকটা কাজই অন্য লোকের জন্য পয়সা নিয়ে করেছেন। একই প্রপস ব্যবহার করে একই ঘরে বসে - ওটাকে Atelier বলা হয়। তখন আমি খেয়াল করে দেখেছিলাম কী প্রচন্ড ডিটেইলস্-এ একজন ছবি আঁকতে পারে। ছবিগুলোতে উনি খুব দামি পোশাক পরিচ্ছদ ব্যবহার করতেন। ঘরটা মোটামুটি একই। মাঝে মাঝে খুব সামান্য পরিবর্তন হতো আসবাবপত্রে। একটা ক্যাবিনেট... পিছনে একটা কিউপিড-এর ছবি... ওঁর প্রচুর ছবিতে দেখা যায় একটা খাঁচায় একটা পাখি আছে... মাটিতে চৌকো চৌকো সাদা-কালো টাইলস লাগানো, হয়ত বা রঙ করা। সব ছবিতেই একইরকমের প্যাটার্ন, similar composition কিন্তু প্রত্যেকটা ছবির মধ্যেই perfection-এর দিকে যে নজর... গায়ের জামাগুলোর ওপর বসানো প্রতিটা চুমকির উপর যে নজর... এছাড়াও his reproduction of the effect of lighting was exceptional.

শুভাশীষঃ উনি কিন্তু খুব দামি material ব্যবহার করতেন রঙের জন্য...

গৌতমঃ একদম ঠিক... প্রপও ভালো ব্যবহার করতেন। যদিও হয়ত সেই একই প্রপ অন্য ছবিতে ব্যবহার করেছেন। এখানে একটা ইন্টারেস্টিং জিনিস বলি - অনেকেই ওঁনার সেই বিখ্যাত ছবি 'The Girl with a Pearl Earring'-এর কথা বলে। আমি এবছর 'The Hague'-এ গিয়েছিলাম especially ওই ছবিটা দেখতে। সবাই বলে ওই কানের দুলের মধ্যে যে অতবড় মুক্তো সেটা নাকি ওঁনার পক্ষে affort করা সম্ভব ছিল না। হয়ত ওটা আঁকা।


দি গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়ার রিং (The Girl with a Pearl Earring)। শিল্পীঃ জোহানেস ভারমীর (Johannes Vermeer)।

শুভাশীষঃ আসলে ওই pearl-টা তো ওঁনার ছিল না। ওটা ওঁনার স্ত্রীর।

গৌতমঃ সম্ভবত না। হয়ত বা ওটা ওঁদের পক্ষে কেনা সম্ভব ছিল না। উনি একটা বাড়িতে থাকতেন। যেটাতে পনেরোটা ঘর ছিল। বেশ বড় বাড়ি। এখন জায়গাটা দেখা যায় কিন্তু exact বাড়িটা খুঁজে পাওয়া যায় না। সেখানে একটা plaque আছে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম খুঁজে পেতে। তুমি যদি ইন্টারনেট দেখো খুব extensive details পাবে জায়গাটার। ছোট্ট জায়গা। Delft is a very small town. ওঁনার বাড়ির জায়গায় এখন একটা চার্চ আছে। উনি তার আগে যে বাড়িতে থাকতেন সেটা একটা সেন্ট্রাল স্কোয়্যার-এর মধ্যে ছিল। সেই বাড়িটা ছেড়ে ওঁনারা সামনেই একটা ছোট বাড়িতে উঠে গিয়েছিলেন। ওঁনার নিজের পনেরোটি সন্তান ছিল। পনেরোটি সন্তান, স্ত্রী ও শাশুড়িমা - এই নিয়েই ছিল ওঁনার সংসার। ওঁনাদের স্বচ্ছল পরিবার ছিল কিন্তু প্রচুর অর্থ ছিল না। মারা যাবার পরে দেখা যায় উনি দেনায় ডুবে আছেন।

শুভাশীষঃ ভারমীর-এর যে ছবিটা আপনি দেখলেন সেটা ছাড়া আর কটা ভারমীর-এর আঁকা ছবি আপনি দেখলেন সেটা মনে আছে?

গৌতমঃ আমার মনে হচ্ছে আমি একটাই দেখেছি। এগুলো নিয়ে তুমি যদি আমায় সত্যিই জিজ্ঞেস করো আমি বিশেষ কিছু বলতে পারব না এইজন্যই যে তখন আমি ভারমীর নিয়ে অত fascinated নয় বলেই হয়ত ভারমীর খুঁজে বেড়াইনি।

শুভাশীষঃ অর্থাৎ আপনি তখনও আর্টের অতটা গভীরে ঢোকেননি।

গৌতমঃ তখন মিউজিয়মে ঘুরতে ঘুরতে আমি যেটা দেখছি সেটা দেখে আনন্দ পাচ্ছি। গিয়ে দেখলাম আচ্ছা এই আর্টিস্টটা খুব চেনা। তারিফ করলাম এই পর্যন্তই। I had no fascination for a particular artist or art or the type of painting he is doing. আমি তখন দেখছি আর appreciate করছি। আর প্রতিটা ছবিই এতই exceptional, এতই masters creation যে প্রত্যেকটা ছবিই unique। একজন লোকের পক্ষে হঠাৎ এতগুলো মাস্টার্সদের ছবি একসাথে দেখা এমনিতেই একটা overwhelming ব্যাপার। আমি তখন সেইজন্যই সেকেন্ড ভারমীর আর খুঁজে বেড়াইনি তার কারণ পরমুহূর্তেই হয়ত আমি রেমব্রান্ট দেখে মোহিত হয়ে গেলাম। সেইজন্যই এর বাইরে ডিটেইলস্ আমি এখন আর মনে করতে পারছি না। আর কেটেও গেছে প্রায় ৪৫টা বছর। কিন্তু এর পাশেই ওই প্রথম ছবি দেখার অভিজ্ঞতাটা আমাকে এখনও রোমাঞ্চিত করে। তখন আমি একটা করে ছবি দেখছি আর উচ্ছাসের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছি। আর আরও একটা ব্যাপার - মিউজিয়ম দেখতে দেখতে, দিনের শেষে ঘুরতে ঘুরতে, পা ছিঁড়ে যায়। আসলে মিউজিয়মের বাড়িগুলো তো একেকটা প্রাসাদ। তার মধ্যেই তৈরি করা।

(ক্রমশ)

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।

লেখাটি পড়ে কেমন লাগলো? আপনার মতামত জানান এই লিঙ্কে ক্লিক করে -
https://dotpen.in/feedback/