(১)
বাসরাই
কুউউব-কুউউব, কুউউব-কুউউব... একটানা মন কেমন করা ডাক ভেসে আসছে কুবোপাখির, জামরুল পাতা চোঁয়ানো রোদে বিকেলের হাতছানি, একটু পরেই জাল বিছোবে জবুথবু শীতের কুয়াশা...
বাগানের গাছে গাছে মরসুমি ফুল রঙের দাঙ্গা বাধিয়েছে। শুধু বাসরাই গোলাপ গাছটার জংলা ডালটা তরতর করে বেড়ে চলেছে - ওটাকে না কাটলে ভালো ফুল হবে না, ভেবেই মনে মনে হাসল অলোকেশ।
না-ফেরার-দেশে যাবার আগে সুনন্দা বলে গিয়েছিল, "যেবার শীতে তোমার প্রিয় বাসরাই গাছে ফুল ফুটবে না, জানবে, দেখা হবে..."
জংলা ডালটা কেটে দিল অলোকেশ।
(২)
নৌকাযাত্রা
চারপাশে ঘন কুয়াশার আস্তরণ... তার মধ্যে দিয়ে একটা নৌকা মৃদুমন্দ বেগে এগোচ্ছে।
নৌকাতে মাঝি বাদে যাত্রী শুধু দু'জন - বর-কনে। দু'জনের চোখেই গভীর প্রেম... সেই প্রেম ঘনীভবনের মুহূর্তে হঠাৎই এক বিকট চিৎকার চারপাশের নিস্তব্ধতাকে খানখান করে দিল... কনে দেখল বরকে জলে তলিয়ে যেতে, বেসামাল নৌকার খোলে দাঁড়ানো মাঝির দাঁড় বেয়ে রক্ত চোঁয়াচ্ছে!
ঘুম ভেঙে গেল তৃষাণীর... ফুলসজ্জার রেশ এখনও ওর অসম্বৃত বসনে, স্খলিত রূপচর্চায়! শরীরের ওপরে যথেচ্ছ রাখা হাতটা সরাতে গিয়ে তৃষাণীর মনে হল মাঝির মুখটা যেন অবিকল পাশে শোওয়া মানুষটার মতো!