ভ্রমণ

এক হারিয়ে যাওয়া শহরের খোঁজে কর্ণাটকে



ঋত্বিক মিত্র


অনেক দিন পর, আমরা আমাদের প্রাপ্য ছুটিগুলোকে একত্র করতে পারলাম এবং কর্ণাটকে একটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যস্ত-সূচির ভ্রমণের তোড়জোড় শুরু করতে সমর্থ হলাম। এই যাত্রায় আমি, আমার স্ত্রী ও পুত্র - আমাদের তিনজনের সাথে ব্যাঙ্গালোর স্থিত আমার এক দম্পতি-বন্ধু যোগ দিয়েছিল। আমরা প্রথম ধাপে হাম্পি-বাদামি-আইহোল-পাট্টদাকাল হেরিটেজ ট্যুরের জন্য রওনা হলাম।

হাম্পি (Hampi) একটি ঐতিহাসিক স্থান যার নানা জায়গায় ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং এখনও এ.এস.আই.-এর তরফ থেকে অনেক জায়গায় খননকার্য চলছে। হাম্পি বিজয়নগর (Vijayanagar) রাজ্যের রাজধানী, এটি কৃষ্ণদেব রায়া (Krishnadeva Raya)-র অধীনে ১৫০৯ সালে দাক্ষিণাত্যের মুসলিম গোষ্ঠীর দ্বারা পরাজিত হওয়ার আগে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছেছিল। গৌরবময় বিজয়নগর সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর, সুলতানদের সেনাবাহিনী হাম্পির সুন্দর শহর লুণ্ঠন করে এবং এটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে, যেটি এখনও সেভাবেই রয়ে গেছে। এখনও এটির ধ্বংসাবশেষ জমির একটি বিস্তীর্ণ অনুর্বর এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে, যা বর্তমানে একটি সহিংস অতীতের গল্প বর্ণনা করছে। হাম্পিকে তাই 'হারিয়ে যাওয়া শহর' বলা হয়।

তুঙ্গভদ্রা নদী দ্বারা বেষ্টিত, এই অঞ্চলের ভূমি বড় বড় পাথর দ্বারা পরিপূর্ণ যা এখানকার নানা জায়গায় হিন্দু দেবদেবীর ছোট থেকে বড় নানা আকারের মূর্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এই হাম্পি-কে কেন্দ্র করেই ঔপন্যাসিক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় 'তুঙ্গভদ্রার তীরে' নামক উপন্যাসটি লিখেছিলেন।


'তুঙ্গভদ্রার তীরে'র প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদশিল্পী: অজিত গুপ্ত।

প্রকৃতপক্ষে, হাম্পিকে ঐতিহাসিকভাবে 'রামায়ণ'-এ বর্ণিত 'কিষ্কিন্দা' বা বানরদের রাজ্য বলে মনে করা হয়। হাম্পি 'পাম্পা অঞ্চল', 'কিষ্কিন্ধা অঞ্চল' এবং 'ভাস্কর অঞ্চল' নামেও পরিচিত। এই নামগুলি বিখ্যাত তুঙ্গভদ্রা নদী যা 'পাম্পা' (Pampa) নামে অতীতে পরিচিত ছিল সেখান থেকে নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে, এটি একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ সহ ছোট গ্রাম। হাম্পি উপভোগ করার সর্বোত্তম উপায় হল হাঁটা, তবে আমাদের দলের অধিকাংশের বয়সের কথা বিবেচনা করে গাড়ি নেওয়াই আমাদের পক্ষে একমাত্র বিকল্প হিসেবে স্থির হল। তবে, আমরা বয়স অগ্রাহ্য করে নদীর ভিতর কোরাকল রাইড (Coracle Ride)-এর প্রলোভন সামলাতে পারিনি যা সত্যিই উপভোগ্য ছিল। প্রসঙ্গত বলি, 'কোরাকল' হচ্ছে বেতের তৈরি মজবুত পাত্রের আকারের ডোঙা, যার ভিতর অনেকে গোল হয়ে বসে জলে ভাসার আনন্দ উপভোগ করা যায়।

যদিও হাম্পি মূলত বিরূপাক্ষ (Virupaksha) এবং বিট্টলা (Vittala) মন্দিরের জন্য বিখ্যাত, তবে এখানে আরও অনেক আকর্ষণ রয়েছে যা পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করতে সক্ষম। এটি এখন 'ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' (UNESCO World Heritage Site)-এর অন্তর্গত। এবং পরিশেষে, এখানকার বিখ্যাত 'আম গাছ'টিকে কারোর উপেক্ষা করা উচিত নয়, এর মাচায় বসে তুঙ্গভদ্রার দৃশ্য উপভোগ করতে করতে খাওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।


বিট্টলা মন্দির (Vittala Temple)।


বিরূপাক্ষ মন্দির (Virupaksha Temple)।

আমরা দেড় দিনে হাম্পি ভ্রমণ শেষ করে তারপর হসপেট (Hospet) হয়ে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে বাদামি (Badami)-তে এসেছি। হসপেটে আমরা দুপুরের খাবার খেলাম একটা বিশাল বটগাছের নিচে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে উন্মুক্ত এক রেস্তোরাঁয়। এখানে খাবারের দাম একদম নাগালের মধ্যে। তবে এখানে গাছের মাথায় বসে থাকা পাখিগুলো যথেষ্ট বাধ্য ছিল, আমরা খুবই ভাগ্যবান ছিলাম এই কারণে যে তাদের মধ্যে আমরা কোনোরূপ অসভ্যতামো লক্ষ্য করিনি। তাই মজা করে বলাই যায়, এখানে আমরা স্থানীয় সুস্বাদু খাবারটি মিস করেছি! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের মধ্যে একজনকে অসময়ে পোশাক পরিষ্কার করার জন্য জলের কাছে ছুটে যেতে হয়েছিল। যাই হোক, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাই একদম খোলা আকাশের নিচে এইভাবে খাবার পরিবেশন না করে, কিছু ছোট ছোট ছাতার নীচে টেবিলে খাবার পরিবেশন করলে ভালো করতেন। পর্যটকদেরও অনুযোগ করার কোনো অবকাশ থাকত না।

আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল বাদামি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আইহোল (Aihole)। আইহোল ছিল শুরুর দিকে চালুক্য (Chalukyas) বংশের প্রথম রাজধানী। এটি 'হিন্দু প্রস্তর স্থাপত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন' হিসেবেও পরিচিত। ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন অনেক মন্দির ও গুহা এখানে অবস্থিত। আইহোলে মন্দির নির্মাণের প্রথম পর্যায়টি ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে শুরু করে দ্বিতীয় পর্বটি দ্বাদশ শতক পর্যন্ত। কিছু মন্দির এমনকি পঞ্চম শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরের খোদাই এবং নকশার দিক থেকে একটি বিষয়ে সকলেই সাধারণত একমত যে, আইহোল-এ ছিল স্কুল, বাদামি-তে কলেজ এবং পাট্টডাকল (Pattadakal)-এ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। আইহোলের আশেপাশে নির্মিত প্রায় ১২০টি মন্দিরের মধ্যে দুর্গা মন্দির এবং লাড খান (Lad Khan) মন্দির স্থাপত্যের দিক থেকে একদমই আলাদা। রাবণ ফাড়ি গুহা (Ravana Phadi Cave)-টি ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রাচীনতম পাথর কেটে নির্মিত মন্দিরগুলির মধ্যে একটি এবং এর ভিতরে একটি নৃত্যরত শিবমূর্তি খোদাই করা আছে।

আমরা এরপর আইহোল থেকে ১০ কিমি দূরে পাট্টডাকলের দিকে এগিয়ে যাই। এটি মালাপ্রভা নদী (Malaprabha River)-র তীরে একটি ছোট শহর যা দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রবাহিত হওয়ায় এটিকে পবিত্র বলে মনে করা হয়। চালুক্য রাজাদের পাশাপাশি অন্যরা তাদের রাজ্যাভিষেক স্থানের জন্য পাট্টডাকলকে বেছে নিয়েছিল এবং এটি একটি মন্দির-শহরে পরিণত হয়েছিল যেখানে 'চালুক্য স্থাপত্যের ঘরানা'টি চূড়ান্ত রূপ নেয়। এখানে নির্মিত ১০টি মন্দিরের মধ্যে ৪টি দ্রাবিড় এবং নাগারা (উত্তর ভারতীয়) শৈলীর, একটি এই দুটির সংমিশ্রণ এবং বাকি একটি জৈন মন্দির। বেশিরভাগ মন্দির ও স্মৃতিস্তম্ভগুলি অষ্টম শতাব্দীর এবং তাদের মধ্যে, বিরূপাক্ষ মন্দিরটি সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৮৭ সালে, এটি ইউনেস্কো কর্তৃক 'বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান' হিসেবে ঘোষিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী স্থান ভ্রমণের শেষ জায়গাটি ছিল বাদামি, ৫৪০ থেকে ৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চালুক্যদের রাজকীয় রাজধানী। এটি অপরূপ সুন্দর অগস্ত্য হ্রদ (Agastya Lake)-এর চারপাশে বিভিন্ন পাথর কেটে তৈরি এবং ভাস্কর্যখচিত মন্দিরগুলির জন্য বিখ্যাত। গুহামন্দিরগুলি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলি চারটি স্তর নিয়ে গঠিত, প্রথম তিনটি শিব এবং বিষ্ণুর প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং চতুর্থটিতে জৈন মহাবীরদের মূর্তি রয়েছে৷ গুহাগুলিতে গভীরভাবে খোদাই করা মূর্তিগুলির পাথর (বাদামী এবং ধূসর) বাইরের দিকে বেরিয়ে রয়েছে এবং গুহাগুলির উচ্চতার কারণে এগুলিকে অসাধারণ দেখায়। এখানে পৌঁছতে গেলে ২৫০টি ধাপ আরোহণ করতে হয় যা বেশ কষ্টসাধ্য এবং পাহাড়ের উপর বসতি গেড়ে থাকা বানরের আধিক্যের কারণে সিঁড়ি ভাঙার ব্যাপারটা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

ঐতিহ্যবাহী ভ্রমণের আরও স্বাদ নিতে, আমাদের পাঁচ জনের দলটি সংশ্লিষ্ট রাতের ট্রেনে চেপে বাদামি থেকে হুবলি (Hubli)-তে নামটালাম। ইতিমধ্যেই আমাদের বন্ধুরা আমাদের স্বাগত জানাতে ব্যাঙ্গালোরে ফিরে গিয়েছিল, এদিকে আমরা খুব ভোরে মহীশূর (Mysore)-এ পৌঁছনোর জন্য ট্রেন ধরলাম।

আড়াই ঘণ্টার পথ চলার পর আমরা পৌঁছে গেলাম বান্দিপুর জাতীয় উদ্যান (Bandipur National Park)-এর ফরেস্ট গেটে। বনের ভিতরে ৩ কিমি দূরে অবস্থিত 'Tusker Trails Resort' থেকে পাঠানো একটি জীপে আমাদের তুলে নেওয়া হল। এই রিসর্ট-এর জায়গাটি ছিল অসাধারণ। পুরো কমপ্লেক্সে প্রায় ১০টি কটেজ রয়েছে, প্রতিটি কটেজে দুটি করে কক্ষ রয়েছে এবং যেহেতু আমরা তিনজন ছিলাম, তাই আমাদের নিজেদের জন্য একটি সম্পূর্ণ কটেজ থাকায় আমাদের বিলাসিতা করার যথেষ্ট সুযোগ ঘটল। এই কটেজে সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কোনো কোনো জায়গায় পাথর বা মাটির দেয়াল এবং টালি লাগানো ছাদ থাকায় এটি একটি অসাধারণ 'জঙ্গল লজ'-এর চেহারা নিয়েছে।

আমাদের বান্দিপুরের ২৪টি ঘণ্টা ছিল অত্যন্ত আনন্দদায়ক। দুপুর দেড়টায় বুফে আকারে লাঞ্চ পরিবেশন করা হয়েছিল এবং আমরা বাঙালি জেনে তারা পার্শ্ববর্তী কেরালা (অন্তত ৫০ কিলোমিটার দূরে) থেকে আমাদের মধ্যাহ্নভোজের জন্য মাছ সংগ্রহ করে নিয়ে এসেছিলেন। কিছুক্ষণ দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রাম নেবার পরে আমরা বৈকালিক জঙ্গল সাফারিতে যোগ দিলাম - হুডখোলা জিপে বনের গভীরে ৩ ঘন্টার ড্রাইভ - সে ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রথম দু' ঘণ্টা ধরে আমরা সাধারণ কিছু বন্যপ্রাণী দেখলাম - বানর, চিতল হরিণ, সম্বর হরিণ, বুনো শুয়োর, বিভিন্ন পাখি ইত্যাদি। আমরা যখন আশা প্রায় ছেড়েই দিচ্ছিলাম, তখনই আমরা কাছাকাছি দুটো হাতি দেখতে পেলাম। আমাদের হস্তিদর্শন খুব ভালভাবেই হয়েছিল। সন্ধ্যায় পানীয় উপভোগ করতে করতে আমরা বাচ্চা সহ সাতটি হাতির একটি পাল দেখতে পেলাম। তারা খুব কম করে হলেও ৫০ মিটার দূরে ছিল। একসময় তারা আমাদের সমান্তরালে হাঁটতে থাকলে আমরাও তাদের অনুসরণ করতে থাকি। কিছুক্ষণ পর ওরা আমাদের ছেড়ে এগিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং মূল রাস্তায় উঠে আসে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাদের জিপের ইঞ্জিন গেল থেমে। সেই মুহূর্তে বিকেলের পড়ন্ত আলোর নীচে আমরা - বন্য হাতির পাল থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরে জিপের মধ্যে বসে ছিলাম। চারদিকে অবর্ণনীয় নৈঃশব্দ্য। সৌভাগ্যবশত আমাদের জিপের চালক খুবই অভিজ্ঞ ছিলেন তিনি গাড়ির সিটের প্রায় নিচে গা এলিয়ে বসেছিলেন এবং আমরা প্রার্থনা করছিলাম যাতে হাতির পাল আমাদের দিকে এগিয়ে না আসে। সৌভাগ্যবশত আমাদের গাড়ির পেছনে অন্য কোনো পর্যটকদের গাড়ি ছিল না।

কিন্তু তখনও সব শেষ হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরেই, আমরা একটি দাঁতালের মুখোমুখি হই যেটি অন্যান্য জিপে থাকা পর্যটকদের প্রতি ক্রমাগত বিরক্তি প্রকাশ করছিল। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছলাম, তখন দাঁতালটি হঠাৎ আমাদের লক্ষ্য করে ১০ মিটার দূর থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছুটে আসে। যদিও আমি বসে ছিলাম গাড়ির পিছনের সিটে, কিন্তু তখন সেই অবস্থায় কিছুক্ষণের জন্য আমি উপলব্ধি করতে পারলাম সত্যিই 'ভয়' কাকে বলে। সৌভাগ্যবশত, হাতিটি আমাদের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ার ফলস্বরূপ আমি সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার জন্য বেঁচে আছি!

সন্ধ্যায় রিসর্ট-এর পক্ষ থেকে বন্যপ্রাণীর উপর একটি ফিল্ম প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই আমরা বনফায়ার-এর জ্বলন্ত আগুনের আঁচ গায়ে মেখে রিসর্ট কর্তৃপক্ষের তরফে পরিবেশন করা একটি দুর্দান্ত বুফে ডিনার-এ অংশ নিই। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মহাদেশীয় স্টাইলে তৈরি পুডিং।

পরের দিন আমরা আবার সাফারি করতে গেলাম কিন্তু এবার জঙ্গল ছিল প্রায় ফাঁকা। একটি দুর্দান্ত প্রাতঃরাশের পরে, অবশেষে আমাদের পার্কের গেটে নামিয়ে দেওয়া হল যেখান থেকে আমরা মহীশূরে পৌঁছনোর জন্য গাড়ি পেতে পারি।

আমরা শ্রীরঙ্গপত্তনম সহ মহীশূরের দর্শনীয় স্থানগুলি দেখবার জন্য দেড় দিন কাটিয়েছিলাম। আমাদের বন্ধু কৃষ্ণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলাম যিনি এই স্থানীয় সফরের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং শেষদিন তিনি তাঁর তরফ থেকে আমাদের জন্য একটি সুন্দর নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন।

পরের দিন আমরা ব্যাঙ্গালোরে পৌঁছলাম এবং আমাদের দম্পতি বন্ধুদের (জান আর মিমি) বিদায় জানালাম। ওরা শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে তাতাগুনি (Tataguni)-তে একটি সুন্দর কটেজের মালিক। ওঁদের পুরো কমপ্লেক্সটি অসাধারণ একটি স্থাপত্যের সাক্ষ্য বহন করে। কটেজের আশেপাশের অঞ্চল খুবই শান্ত ও নির্জন, পাশাপাশি শৃঙ্খলাপূর্ণ। এটি প্রশান্তির একটি মডেল কারণ তারা প্রকৃতিতে সোচ্চারে ঘোষণা করছে - দয়া করে আওয়াজ করবেন না, পশুপাখিরা খাদ্যগ্রহণ করছে। আমরাও তাই আর তাদের বিরক্ত করিনি এবং নিজেদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভিজিয়ে এমন একটি ভ্রমণ শেষ করেছি যা আমাদের মনের মণিকোঠায় চিরতরে থেকে যাবে।

চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।