কবিতা

দুটি কবিতা



মেঘমিতা ঘোষ


(১)

মানত

লাল আকাশ।
তার মধ্যে আগুন,
তার ভেতরে উদ্বেগ,
তার মধ্যে হাজার এক বাসনা!
বাসনার ভিড়ে কোনো এক শুকতারা মেঘ চিরে বাঁচতে চায়।

আমি সময়।
অভিমানের পসরায় শয্যা পেতেছি!
তারপর হঠাৎ একদিন,
বৃষ্টি সেই শয্যাকে ভিজিয়ে দেয়!
চাদরের নিচে গোঁজা ছিল সেই বাসনা!
সে আজও অঝোরে কাঁদে।
"কি রে! বাড়ি যাবি না?"
আমি বলি, "জন্মসূত্র ছেড়ে যাব কি করে?"
বৃষ্টি কাদা ধুতে সক্ষম, কর্ম নয়।
চোখের জল ভালবাসার মানুষকে কাছে আনতে সক্ষম, ধরে রাখতে নয়।
"হ্যাঁ রে? তুই সব পথ হারালি? তুই যদি ঝড় হোস, আমি তুফান... আয় আমার সঙ্গে..."
অন্ধকার।
আরও অন্ধকার!
তারপর?
মৃত্যু, কবর, জন্মজন্মান্তরের দাগ!
মৃত্যুর জটে আমার মানত!
আমার সেলিম চিস্তি!


(২)

অন্তর

লাল।
তার ভেতরে আগুন,
আগুনের হলকায় মোড়ানো প্রদীপের শিখা!
সেই শিখায় জ্বলে শত শত মন।
সেই মন একরাশ অরণ্যকে বুকে নিয়ে দুঃখ পান করে!

তৃষ্ণার্ত কণ্ঠের অসংযমী নরক... বেহায়ার মতো বন্ধ দরজা খুলতে চায়!
সাহস!
আমার জিব দিয়ে সাহস খসে পড়ে।
তাই তো এতদূর এলাম।

তুমি বলবে, "এতদিন পর হঠাৎ? কেন? কিসের জন্যে? আমি তোর জীবনে যে মরীচিকা কেবল!
সারা রাত বিভোর হবি। ঘুম ভাঙতেই দেখবি শুধু রোদ্দুর! রোদ্দুর রোদ্দুর... তীব্রতা।
আমি কোনদিন তোর হব না। আমায় কোনদিন আর ভালোবাসবি না।"
আমি বলবো, "না..."
আমার অন্তর হতে জন্মজন্মান্তরের নাভি অবধি সব জল শুকিয়ে যায়!
সৃষ্টির করতলে নির্জলা এক চিঠি ঘামভেজা উপোষের শয্যায় ছটফট করে...
তারপর হঠাৎ একদিন বৃষ্টি আসে।
কত বাড়ি ভেঙে আমি তোমার কাছে আসি।
আমাকে নাও।

জল।
জলের ভেতর মেঘ,
মেঘের আড়ালে কান্না।
লাল।
তার ভেতরে আগুন,
আগুনের হলকায় মোড়ানো প্রদীপের শিখা!
সেই শিখায় জ্বলে শত শত মন।
সেই মন একরাশ অরণ্যকে বুকে চেপে ধরে দুঃখ পান করে!

পরিচিতি: কবি, ইংরাজি সাহিত্যের ছাত্রী।