কবিতা

নিভৃত নিকুঞ্জ



সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়


প্রিয় শাওন,
একদিন বলেছিলে
মনের মধ্যে একটা চিলেকোঠা ঘর বানাতে,
যার খবর জানব শুধুই আমি নিজে।
সেই চিলেকোঠা ঘরে আসবাব কিছুই থাকবেনা
থাকবে এসরাজ আর একতারা,
থাকবে পাখোয়াজ আর মাদল,
সবটাই প্রতীকী।
যখন গহনঘন মেঘ জমবে বুকের ভিতর,
বোল বাজবে ক ধি ট ধি ট ধা...
এসরাজ ধরবে কানাড়ার সুর
তখন আমি প্রেমিক হব, জীবনপ্রেমিক।
যখন ভরদুপুরে ডাক পাঠাবে গেরুয়া বাতাস
বোল বাজবে দাদ্রিম দ্রিম,
একতারায় বাজবে পথের ডাক,
তখন আমি বাউল হব, জীবনবাউল।
জানো শাওন,
আজ আমি নিজের মুক্তিপথের ঠিকানা গড়েছি,
তার নাম দিয়েছি 'নিভৃত নিকুঞ্জ'
সে দরজায় কোন কড়া নেই, নেই আগল,
সেখানে থাকেন আমার মুর্শিদেরা,
রামকেলি ধরেন ভীমসেন, বাগেশ্রীতে রাশিদ,
শাহ আব্দুল করিম থেকে রাধারমণ,
দেবব্রত বিশ্বাস থেকে গীতা ঘটক।

আমি নিজের শর্তে বাঁচতে শিখেছি শাওন
হৃদয়ক্ষতের প্রলেপ দিয়ে
গেঁথেছি শক্ত দেওয়াল,
নিজের ধূপ জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে
সুগন্ধী ছড়িয়েছি চিলেকোঠায়।
যখন যখন মেঘ জমে উঠোন জুড়ে
আমি ভিজতে থাকি আমার আপন কোনে
যখন যখন গেরুয়া ধুলোর নিশান ওড়ে
আমি বাউল হয়ে ধুলো মাখি নিভৃত নিকুঞ্জে।
আমার একলা ঘর আমার একান্ত আপন
আমার চিলেকোঠা ঘর আমার বাস্তব
আমি বাঁচতে শিখেছি শাওন।

পরিচিতি: সঞ্চালিকা (বেতার ও দূরদর্শন)।