কবিতা

বর্ষাবিলাস



শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়


কে যেন সে হৃদয়ের কাছাকাছি ছিল একদিন
কে যেন সে একদিন গান গেয়েছিল
অমরাবতীর পথে ছুটে চলা মেঘগুলো তখন মাতাল
বাতাসে জলের স্পর্শ ছুঁয়ে যায় শরীরের ত্বক
সোঁদা গন্ধ মাটি যেন ভেসে যেতে চেয়েছে সেদিন।
তখন হৃদয়, ফেলে আসা দিনগুলো ফিরে পেতে চায়
যার মনে একদিন বিম্বিত হয়েছে মধুমাস,
তার কাছে ছুটে যেতে চায়।

এই সব শ্রাবণ বেলায়,
কারও হাতে হাত রেখে
কারও চোখে তারা হয়ে সেজে
এ জীবন মাটির আতর পেতে চায়!
তখন হৃদয়জুড়ে কার যেন মুখ ভেসে ওঠে
তখন মনের ঘরে কার যেন লুকোচুরি খেলা।
একরাশ স্বপ্ন বোনা সারা হলে,
রাত নাকি ছুঁতে চায় আলোর জগত
যে জীবন শুধুমাত্র রাতজাগা জানে,
কোন স্বপ্ন খেলা করে মনের আকাশে!
কার মুখ উঁকি দিয়ে যায় বারেবার,
কার কথা সুর হয়ে ঢেউ তোলে মনের সাগরে!

সেই সব মুখ, সুখ, ভুল-চুক নিয়ে,
সহসা শ্রাবণ নামে হৃদয় দুয়ারে।
তখন দরজা সব হাট করে খোলা,
তখন জানালা সব উন্মুক্ত অবার।
অচেনা ব্যাথায়
ধমনিতে বয়ে চলা রক্তকণা
শ্রান্ত হয়ে ঝরে পড়ে অঝোর ধারায়
ভিজে যায়, ধুয়ে যায় চোখের কাজল।

আকাশের বুকজুড়ে মেঘ ছেয়ে গেলে,
পৃথিবীর মুখ হয় আকাশের মতো।
আকাশের মেঘ ছিঁড়ে বৃষ্টি নেমে এলে,
বৃষ্টি মাখে মনের পৃথিবী।
তখন তোমায় মনে পড়ে
তখন তোমার ওম মেখে নিতে সাধ হয় ভারি
তখন তোমায় নিয়ে খেলা করে কেটে যায় অনেক সময়।

পরিচিতি: বিশিষ্ট কবি, নাট্যকার ও নির্দেশক।