কান্না শুনতে না-চেয়ে আমি যত পিছিয়ে যাই
পিছিয়ে যেতে যেতে যেতে যেতে বুঝিনা
কখন যেন
পৃথক এক কান্নার উৎসে চলে যাই
সেই কান্নার পরে আবার এক কান্নার ঘর পাই
তারপর আবারও...
যত দূ্র
যত দূরের ঘর
তত নব নব শোকের ঘর
পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকে
যাকে আমি বাথান বলি
বাথানে বাথানে নিয়ত নির্মাণ হয়
নিরানন্দ শোক-নৈবেদ্য-গাথা।
অনেক ভেবেছি একদা এইসব নিয়ে
কিন্তু এখন
এখন আর পিছিয়ে যাই না
নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকি
খুব ভয় করলে চোখ বন্ধ রাখি
কান্না এপাশ দিয়ে ওপাশ দিয়ে কখনো
বুক ভেদ করে চলে যায়
আমি টের পাই না
যেমন অজস্র বেতার-তরঙ্গ-বার্তা আমাকে ভেদ
করে চলে যায় বুকে
বুক থেকে উদগ্রীব কানে
কান থেকে প্রত্যুত্তরে পুনরায় প্রেরকের কাছে
কান্না সেইভাবে আমাকে বেষ্টন করে থাকে
চুলের আঁধার আর ঘোমটার আড়াল দিয়ে যেমন
বেষ্টন করে রাখে একজোড়া উৎসুক চোখ
অথবা লাজুক নতমুখী মুখ তেমন করে।

পরিচিতি: বিশিষ্ট কবি ও সম্পাদক।