ভ্রমণ

নদীর দেশে, পাহাড়ের দেশে



সুমিতা চৌধুরী


কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের Portland বিমানবন্দরে নামলাম, তখন এদেশে Summer অর্থাৎ গ্রীষ্ম। কিন্তু গ্রীষ্মের সেই প্রখরতা নেই, অনেকটা আমাদের সুন্দরী বসন্ত ঋতুর মতো। সেই উদাসী হাওয়া গায়ে মেখে যখন বিমানবন্দরের বাইরে পা ফেললাম, নির্মেঘ আকাশে তখনও সূর্যের যথেষ্ট তেজ। গাছপালাগুলো উজ্জ্বল সোনালী রোদে মাখামাখি। ঘড়িতে কিন্তু সন্ধ্যে সাতটা। ছেলে বলল, অন্ধকার নামতে নামতে সেই সাড়ে ন'টা।

এবার এসেছি ছেলের কাছে নিছক ছুটি কাটাতে। ওর জায়গাটার নাম 'Hillsboro' ...রাজধানী Portland থেকে গাড়িতে মোটামুটি পঁয়তাল্লিশ মিনিট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে California রাজ্যের ওপরে Oregon রাজ্যের রাজধানী এই Portland। গাড়িতে আসতে আসতেই চতুর্দিকের সবুজ প্রকৃতি আমায় মুগ্ধ করল। সত্যি বলতে কি, প্রকৃতির মাঝে এলে,আমি এক অদ্ভুত শান্তি পাই। নগরায়ণ এখনও এই জায়গাকে স্পর্শ করেনি। সুউচ্চ বিল্ডিং এখানে কম, একতলা, দোতলা ছোটো ছোটো বাড়ি। আর কি সুন্দর চওড়া মসৃণ রাস্তা! যেন ছবির পাতা থেকে উঠে এসেছে। মুহূর্তেই জায়গাটার প্রেমে পড়ে গেলাম।

Hillsboro-তে দু' মাস মতো ছিলাম। প্রতিটি দিনই প্যাণ্ডোরার বাক্সের মতো আমার কাছে নতুন নতুন উপহার নিয়ে উন্মোচিত হতো। সকালবেলা বিছানায় শুয়েই মস্ত কাঁচের জানালা দিয়ে আকাশটা দেখতাম... তারপর সূর্যের প্রথম আলো যখন সুউচ্চ গাছের সারির ফাঁক দিয়ে ছুঁয়ে যেতো আমায়, আসতে আসতে উঠে ভোরের ঠান্ডা গায়ে মেখে জানলার কাছে চেয়ার টেনে বসতাম। চারিদিকে অপার নৈঃশব্দ! দিনের কর্মব্যস্ততা নিশ্চয়ই শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু তা বোঝার উপায় নেই। আমাদের বাড়ির সামনেই Oregon রেল স্টেশন। সুন্দর ছোটো ছোটো দু' কামরার রঙিন ঝকমকে ট্রেন, একটু বাদেবাদেই আসত। কিন্তু সকালের ব্যস্ত সময়েও দেখেছি, যাত্রী খুব কম। আমরা অবশ্য ট্রেনে করে খুব ঘুরতাম। সারাদিনের 'day pass' নিয়ে ইচ্ছে মতো স্টেশনে নামা-ওঠা করতাম। একগাদা ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের যে স্বাভাবিক চিত্র আমরা দেখে অভ্যস্ত, এই ট্রেনে চাপলে কেমন যেন মনে হয় অন্য গ্রহে এসে পড়েছি।

Hillsboro-র প্রকৃতি কিছুটা খামখেয়ালী ধরণের। কখনও উজ্জ্বল কমলালেবু রোদে চরাচর ভেসে যেত, কখনও বা আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। এই আচমকা রোদ বৃষ্টির খেলার জন্যই গাছপালা এত সজীব। দু' পাশে বিশাল বিশাল বার্চ, লার্চ, পাইন গাছের সারির মধ্যে দিয়ে যখন ঝকঝকে মসৃণ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতাম, মন ভেসে যেত কোন সুদূরে! পায়ে হেঁটে না ঘুরলে কোনো শহরের সাথেই ঠিকমতো বন্ধুত্ব হয় না, এ আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। তাই গুগল ম্যাপ নিয়ে রোজই প্রচুর হাঁটতাম, এক এক দিন এক এক রাস্তায়। প্রকৃতি এখানে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। রাস্তার দু' পাশে সুন্দর ছোটো ছোটো বাড়ি। সামনের লনে সুন্দর ছাঁটা ঘাসে হরেক রঙের ফুলের বাগান। রাস্তার দু' পাশে ছোট ছোট জায়গা ঘিরে কত ধরণের ফুল! রাস্তার বাতি স্তম্ভেও ছোটো ছোটো লাগানো টবে হরেক ফুলের বাহার। রোজ সেখানে গাড়ি থেকে পাইপে করে জল দিতে দেখেছি। এই বিবিধ ফুলের রাজ্যের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে মনে হতো, প্রকৃতিকে সংরক্ষিত করতেও জানতে হয়। কম জনসংখ্যা যদি একটা কারণ হয়, তবে আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চয়ই অন্যতম কারণ।

রাস্তায় যার সাথেই দেখা হতো, সুন্দর হেসে মাথা নামিয়ে অভিবাদন করত। ছোটো ছোটো রাস্তা পারাপারের জন্য দাঁড়ালে, ড্রাইভার গাড়ির গতি কমিয়ে পারাপারের সুযোগ করে দিত। কোনোদিন এর অন্যথা দেখিনি। টিকিট কাটার বা অন্য যে কোনো লাইনে দেখেছি, সবাই ধৈর্য ধরে, দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করে। কারুর সাথে সামান্যতম ধাক্কা লাগলেও কত বার যে সরি বলে! খুব সাধারণ সৌজন্য, তবু এই ভালো লাগার রেশ সারাদিন মনকে ছুঁয়ে থাকে। আমরা তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের নাগরিক, আমাদের অধিকাংশের মধ্যেই এই সব সিভিক সেন্স-এর বড়ই অভাব। এদের ভদ্রতাবোধ তা প্রতি মুহূর্তে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আসলে পৃথিবী তার অপার সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে আমাদের সামনে মেলে ধরেছে, আমরাই তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি।

একদিন Portland গেলাম কিছু ঝর্ণা দেখতে। প্রথমে 'Horsetail falls' তারপর ওখান থেকে বিখ্যাত 'Multnomah falls' ...খুব ভাল লাগল দেখে। তবে সত্যি বলতে কি, ভারতবর্ষে এরকম ফলস্-এর অভাব নেই। কিছু কিছু জায়গায় এরকম ঝর্ণার ব্যাপ্তি ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি। কিন্তু সেগুলো বড়ই অবহেলিত! পর্যটন শিল্পকে উন্নতির কোন শিখরে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা পশ্চিমী দেশগুলো থেকে শিখতে হয়। পরিচ্ছন্নতা, একটু দূরে দূরে পাবলিক রেস্ট রুম, হরেক রকমের খাবারের দোকান, সহায়তা কেন্দ্র, গাইড... কোথাও কোনো অসুবিধে নেই। বৃদ্ধ বা অশক্তদের হুইল চেয়ার নিয়ে যাতে উঠতে অসুবিধে না হয়, সেজন্য সিঁড়িগুলোর পাশে চ্যানেল করা আছে। সত্যিই শিক্ষণীয় বিষয়! ফেরার পথে দেখলাম বিখ্যাত Columbia নদী, Vilamet নদী আর অসম্ভব সুন্দর একটা আর্ট মিউজিয়াম।

এখানে দেখেছি, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যাতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে না হয়, সেজন্য সরকার সদা সজাগ। ঐটুকু Hillsboro শহরেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা পর্যাপ্ত এবং তা ঘড়ির কাঁটা ধরে যাতায়াত করে। প্রত্যেকটা ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটও নিত্য ব্যবহার্য গ্যাজেটে সজ্জিত। আর একটা জিনিস দেখে অবাক লাগত। পাশের ফ্ল্যাট-এর চিৎকার, চেঁচামেচিতে যদি শান্তি বিঘ্নিত হয়, তবে প্রতিবেশীকে সতর্ক না করে এরা সরাসরি '911' অর্থাৎ পুলিশকে ডায়াল করে। সাথে সাথেই তারা আবির্ভূত হন। এমনকি বাড়ির সামনে অপরিচিত কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলেও। পুলিশের ক্ষমতা এদেশে অপরিসীম। এছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রচুর সিকিউরিটি গার্ড, জনগণের দেখভালে যারা সদা প্রস্তুত।

আর একদিন গেলাম বিখ্যাত 'Canon beach' পরিদর্শনে। Portland-এর পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে এই beach-এর বৈশিষ্ট্য বিশাল উঁচু উঁচু রক, যা অনেক দূর থেকে দেখা যায়। জলে পা ছোঁয়াতেই শিহরণ। প্রচণ্ড ঠান্ডা জল! প্রচুর সীগাল ও বিভিন্ন ধরনের পাখি এই beach-এর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। ছুটির দিন, তাই অনেকেই পরিবার নিয়ে এসেছে। বাচ্চারা জলের মধ্যে নিজেরাই দাঁড় বেয়ে ছোটো ছোটো নৌকো চালাচ্ছে, কেউ কেউ বালি দিয়ে সুন্দর 'sand art' করছে, অনেকেই দেখলাম তাঁবু খাঁটিয়ে রীতিমত পিকনিকের মেজাজে। এইসব সরঞ্জাম অর্থাৎ বালতি, বেলচা, তাঁবু, নৌকো এরা নিজেরাই গাড়ি করে নিয়ে আসে। জীবনকে এরা পুরোমাত্রায় উপভোগ করতে জানে। অবশ্য আর্থিক স্বচ্ছলতা এর বড় কারণ। আমরা হাল্কা রোদ গায়ে মেখে ঘুরছি। একটু দূরে দূরে ছোটো ছোটো ঢিপি। কাছে গিয়ে দেখি, প্রচুর শামুক, স্টার ফিশ, আরো হরেক রকমের নাম না জানা প্রাণী আস্তে আস্তে চলে বেড়াচ্ছে। আরে! এতো সেই বইয়ে পড়া 'barnacles'! বেশ রোমাঞ্চিত হলাম। তবে তাদের ছোঁয়া মানা, রীতিমত নোটিশ লাগানো!

ছোটো থেকেই জানি, আমেরিকা অভিবাসীদের দেশ। বেশিরভাগই ইউরোপিয়ান। তবে আফ্রিকা এবং এশীয় দেশ, মূলত চিন এবং ভারত থেকে আগত অভিবাসীর সংখ্যা যথেষ্ট বেড়েছে। মেক্সিকানরাও যথেষ্ট, তবে তারা বেশিরভাগই শ্রমজীবী। শপিং মল বা বিভিন্ন দোকানে আফ্রিকান নিগ্রোদের আধিপত্য বেশি। অনেক ইরানি, পাকিস্তানি এবং ভারতীয় (মূলত পাঞ্জাবী)-দের দেখেছি Uber চালক হিসেবে। খুব ভালো লাগতো - ট্রেন, দূরপাল্লার বাসে মহিলা চালকদের দেখে। টিকিট চেকিং থেকে মাল তুলে দেওয়া সব কাজ এরা নিজেরাই হাসিমুখে করে। দীর্ঘ পথ চালিয়েও তারা এতটুকু ক্লান্ত বা বিরক্ত নয়।

বিভিন্ন ভাষাভাষীর দেশ বলেই বোধহয় এত বৈচিত্র্য এখানে। সত্যি বলতে কি, এত ভিন্ন দেশের খাবার দাবার খেয়েছি যে মনে রাখাই শক্ত। মঙ্গোলীয়ান একটা রেস্টুরেন্টে গেছিলাম সেখানে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, ভাত, নুডলস্ সব সাজানো। নিজের পছন্দমতো বাটিতে তা তুলে দিলে, বিশাল তাওয়াতে শেফ সেটা দু' মিনিটের মধ্যে রান্না করে দিচ্ছে। খুবই সুস্বাদু আর সুসিদ্ধ। অনেক দেশের চা খেয়েছি, তবে Thailand-এর চা অনবদ্য। বিশাল গ্লাসে ঠান্ডা নারকেলের দুধ দিয়ে বানানো সেই চা-এর স্বাদই আলাদা।

এবার আসি চিরাচরিত জানা আমার ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে। একদিন রেস্টুরেন্টে বেঁচে যাওয়া খাবার ওয়েটারকে ডেকে পার্সেল করতে বলায়, সে দেখি মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলে সাথে সাথে বললো, 'to go' ...বুঝলুম। এভাবেই শিখলুম খাবার পর বিল আনতে না বলে 'চেক' আনতে বলা হয়, কারণ বিল মানে টাকা। টর্চ কিনতে গিয়েও বিপত্তি! এদেশে সেটাকে বলে ফ্ল্যাশ লাইট, টর্চের মানে ওদেশে মশাল।

মাঝে তিন দিনের জন্য Seattle ঘুরে এলাম সাড়ে তিন ঘণ্টার ট্রেন জার্নি করে। একটু নিরাশই হলাম। বড় শহর বলেই বোধহয় মাথা উঁচু করা হাইরাইজের সংখ্যা এখানে বেশি, তাতে প্রকৃতি নিঃসন্দেহে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। দ্রষ্টব্য স্থানগুলো খুবই আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর।কিন্তু সে তো পশ্চিমী সব দেশেই। এর মধ্যে আর নতুনত্ব কোথায়?

আস্তে আস্তে আমাদের Hillsboro থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। মন তাই বিষণ্ণ। একটা জিনিস বুঝেছি, আমেরিকা দেশটার মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। দেশটা কিন্তু এখন বিবিধ সমস্যায় জর্জরিত। আর্থিক সমস্যা, বেকারত্বের ঊর্ধ্বগতি প্রশাসনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। প্রচুর হারে চাকরি ছাঁটাইয়ে যুব সমাজ বিপর্যস্ত। কিন্তু তারপরেও এত ভিন্ন দেশের মানুষ এখানে ঘাঁটি গাড়ে কেন? মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে ভিনদেশীরা প্রচুর টাকা খরচ করে এদেশে ঢুকছে এবং এই বে-আইনী অভিবাসন সমস্যার মোকাবিলা এখন ট্রাম্প সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কেন এই মোহ? সে কি ঝঞ্ঝাটহীন দৈনন্দিন যাপনের সুখ না কি সুপার পাওয়ারএর ছত্রছায়াতে নিজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা? প্রশ্নটা নিরন্তর ভাবায়।

আস্তে আস্তে সন্ধ্যে নামছে। অনেক দূরে বরফে ঢাকা 'Mount Hood' পাহাড়ের শ্রেণীতে শেষবেলার আলো ঠিকরে পড়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে জঙ্গলে ঘেরা একটা ছোটো ন্যাশনাল পার্কে বসে আছি। এরকম পার্ক এখানে ছড়ানো। দু' পাশে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পথচারীদের হাঁটার ট্রেইল করা রয়েছে। মানুষকে আনন্দ দেবার কত বিবিধ উপকরণ ছড়ানো এখানে! দেখে খুব ভালো লাগে। পথ চলার একটা নেশা আছে, কারণ মন তখন শুধু বাইরের জগতকে উপভোগ করে না, সাথে সাথে সৃষ্টিও করে। চারিদিকে কত নাম না জানা ফুল, বনলতা, পেঁচার কর্কশ ডাক আর ঝর্ণার জলের শব্দে অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। অনেক দূরে পড়ন্ত হলুদ রোদে মাখামাখি হয়ে থাকা উঁচু উঁচু গাছগুলো যেন এক চিত্রকরের আঁকা বিশাল ল্যান্ডস্কেপ! ভারী শান্ত, সমাহিত আজকের সন্ধ্যে! উঠতে হবে। আজই এ রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছি California - আমেরিকার আর এক রাজ্যে। কিন্তু সে তো আরেক গল্প! বলব নিশ্চয়ই, অন্য কোনোদিন অন্য কোনোখানে।

আলোকচিত্রঃ লেখিকার কাছ থেকে প্রাপ্ত।

পরিচিতি: কলকাতার নিউটাউনবাসী, বর্তমানে হোম-মেকার। বিবিধ বিষয় নিয়ে লেখালেখি, গান, কবিতা আবৃত্তি করতে ভালোবাসেন। আর ভালোবাসেন দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে, বিভিন্ন দেশের মানুষের সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে।