ঠাকুরমশাই দশমীর পুজো শুরু করে দিতেই মনটা বেজায় খারাপ হয়ে গেল রেণুবালার। প্রতিবছরই এমনটা হয়। পারিবারিক দুর্গাপুজোকে উপলক্ষ্য করে প্রবাসী ছেলেমেয়ে-নাতিনাতনিরা সব জড়ো হয় এবাড়িতে। চার-পাঁচটা দিন সংসারে যেন খুশির বান ডাকে। বড়ো ছেলে আর বড়ো বৌমা ছাড়া এই বাড়ির সবাই এখন প্রবাসী। মেজো ছেলে ব্যাঙ্গালোর, ছোটো ছেলে সুরাট, বড়ো নাতি গৌহাটি আর মেয়ে-জামাই নয়ডার বাসিন্দা। তবে তেমন কিছু অঘটন না ঘটলে পুজোর সময় তালদির এই বাড়িতে সপরিবারে হাজির হতে ওরা কেউ কসুর করে না। কর্পোরেট চাকরি করেও পুজোর ক'টা দিন যে করেই হোক সবাই ঠিক ছুটি ম্যানেজ করে চলে আসে। পাশের বাড়ির ইন্দুমতি রেণুবালার প্রায় সমবয়সি। উনি প্রায়শই আক্ষেপের সুরে বলেন, "তোমার এলেম আছে রেণু। এতগুলো ছেলেমেয়ে নাতিপুতিদের তুমি এই যুগেও ঠিক বেঁধে রাখতে পেরেছ। আমি তো একটাকেও পারলাম না"।
কথাটা শুনে রেণুবালা মুখে কিছু বলেন না, তবে মনে মনে বেশ শ্লাঘা বোধ করেন। কিন্তু দশমী এলেই মনটা হুহু করে ওঠে ওঁর। কাল থেকেই তো ছেলেমেয়ে নাতিনাতনিরা আবার বাড়ি খালি করে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবে। ইন্দুমতিকে ডেকে তখন ওঁর বলতে ইচ্ছা করে, "আমি তো চেয়েছিলাম বছরভরই ওদের বেঁধে রাখতে। সে আর পারলাম কই ইন্দুদি"?
আজও তাই দশমীর পুজো দেখতে দেখতে রেণুবালার মনটা ভিতরে ভিতরে গুমরে উঠছিল। ঠিক তখনই লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি পরিহিতা চণ্ডালীর আগমন ঘটল। সে এসে চুপ করে বসে পড়ল ঠাকুর দালানের এক কোণে। তারপর হালকা দোলাতে লাগল নিজের শরীরটা। চণ্ডালীকে দেখে বেশ অস্বস্তিবোধ করলেন রেণুবালা। একবার আড়চোখে তাকালেন মেজো ছেলে বিজু আর মেয়ে ইতির দিকে। ওরা দুই ভাইবোন যে বেজায় চটে গেছে, সেটা বুঝতে রেণুবালার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হল না। তবে শুধু ওই দুজনই নয়, সেনবাড়ির ছোটো-বড়ো সব সদস্যই এখন চণ্ডালীকে দেখে বিরক্ত, ক্রুদ্ধও বটে। শুধু রেণুবালার মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে কেউ কিচ্ছুটি বলছেন না।
এখানে চণ্ডালীর পরিচয়টা একটু দিয়ে দেওয়া জরুরি। সেনবাড়ির দশটা বাড়ি পরেই চণ্ডালীর ঘর। স্বামী অধর মণ্ডল পেশায় ছুতোর। বড়োরাস্তার মুখে একটা ছোট্ট ঘর ভাড়া নিয়ে অধর জুতো সারাইয়ের কাজ করে। অধর রোগাসোগা নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। স্বভাবে চণ্ডালী ঠিক তার বিপরীত। বিশাল চেহারা, গায়ের রং যেন মাজা কষ্ঠিপাথর। বাপেরবাড়ি পাশের পাড়াতেই। ওর জন্ম হয়েছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে। পাশের বাড়ির কুমুদমাস্টার তাই ওর নাম রেখেছিলেন চন্দ্রাণী। গরিব ভাগচাষির মেয়ে, তার ওপর গায়ের রং বেজায় কালো – তাই চন্দ্রাণী নামটা বিকৃত হয়ে 'চণ্ডালী' হতে বেশি সময় লাগেনি।
ওই নাম নিয়ে অবশ্য কোনও মাথাব্যথা নেই চণ্ডালীর। সতেরো বছর বয়সে সে এপাড়ায় বউ হয়ে এসেছে। তখন থেকেই নাম কিনেছে তার রাগের জন্য। কারণে, অকারণে বা সামান্য কারণে সে রেগে যায়। আর একবার রেগে গেলে তার আর মাথার ঠিক থাকে না, চিৎকার করে হাত-পা নেড়ে সে ঝগড়া শুরু করে দেয়। তখন প্রতিপক্ষ পালাবার পথ পায় না। পাড়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ কাউন্সিলরও এই কারণে চণ্ডালীকে বেশ সমীহ করে চলে। বাংলায় 'চণ্ডালের রাগ' বলে একটা কথা চালু আছে। পাড়ার লোকে প্রায়ই বলাবলি করে, "অধরের বউয়ের যা রাগ, তাতে ওর চণ্ডালী নাম সার্থক"। একমাত্র অধরই চণ্ডালীর রাগ ঠান্ডা করতে পারে। কেন জানি, নিরীহ গোবেচারা হলেও অধরের কথাকে খুব গুরুত্ব দেয় চণ্ডালী।
তবে রেণুবালা বা তাঁর পরিবারের কারোর সঙ্গে চণ্ডালীকে কোনোদিন রাগারাগি বা ঝগড়া করতে দেখা যায়নি। বিয়ে হয়ে এপাড়ায় আসার পর থেকেই সে প্রতিবার পুজো দেখতে সেনবাড়িতে আসে। অষ্টমীতে অঞ্জলি দেয়। দশমীতে মা দুর্গাকে শেষ প্রণাম করে যায়। কিন্তু কোনো এক গুরুর কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর গত তিন বছর ধরে চণ্ডালী দশমীর দিন সেনবাড়িতে ঢুকে এক ভয়ানক কাণ্ড করছে। ঠাকুরমশাই তেকাঠির সুতো ছিঁড়ে ঘট নাড়িয়ে দেওয়ার পরই চণ্ডালী প্রথমে প্রবলভাবে মাথা দোলাতে শুরু করে, তারপর চিৎকার করে বলতে শুরু করে নানা উদ্ভট শব্দ। সেনবাড়ির সবাই তাতে একেবারে দিশেহারা হয়ে যায়। পাড়ার লোকেরা বলাবলি করে, চণ্ডালীর নাকি 'ভর' হয়েছে। কিছুক্ষণ এমন করার পর সে একেবারে চিৎপাত হয়ে জ্ঞান হারায়। এই অবস্থায় মুখে জল-টল দিয়ে চেতনা ফিরিয়ে আনতে হয়।
কিন্তু রেণুবালা বা তাঁর পরিবারের কেউ এই ভর হওয়ার গল্প মোটে বিশ্বাস করেন না। বরং চণ্ডালীর এমনতর আচরণে প্রবল বিরক্ত হন তাঁরা। পুজোর পরিবেশটাই যেন মাটি করে দেয় মেয়েটা। মেজো ছেলে বিজু আর মেয়ে ইতি তো এবার বাড়ি এসেই বলেছিল, "মা তুমি কিন্তু দশমীর দিন ওই চণ্ডালীকে এবাড়িতে ঢুকতে বারণ করে দেবে। প্রতিবার ওই নাটক আর ভালো লাগে না"।
কিন্তু অষ্টমীর দিন চণ্ডালী যখন অঞ্জলি দিতে এসেছিল, অনেক চেষ্টা করেও ওকে নিজমুখে কিছু বলতে পারেননি রেণুবালা। এ বাড়িতে বউ হয়ে আসা ইস্তক উনি দেখেছেন, পুজোর সময় সেনবাড়ির দ্বার সকলের জন্য খোলা। কাউকে কোনোদিন ঢুকতে নিষেধ করা হয়নি। এখন উনিই পরিবারের প্রধান হয়ে সেই নিয়ম ভাঙেন কী করে!
এবছরও তাই সেনবাড়িতে সেই দশমীর সকালে একই বিরক্তিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। ঠাকুরমশাই সুতো ছেঁড়ার পর যথারীতি চণ্ডালীর দেহে মা দুর্গা ভর করলেন। সেই উপলক্ষে চণ্ডালী প্রচুর চিৎকার চেঁচামেচি করে একসময় অজ্ঞান হয়ে গেল। বিজু তা দেখে প্রবল বিরক্তিতে বলেই ফেলল, "এরকম চলতে থাকলে পুজোর সময় আর এখানে আসা যাবে না"। মেয়ে ইতিও যেন সেই মন্তব্যে সায় দিল। রেণুবালা প্রমাদ গুনলেন। মনে মনে ঠিক করলেন, সামনের বছর পুজোর আগে চণ্ডালীর বর অধরকে ডেকে ব্যাপারটা বলবেন। যে করেই হোক দশমীর দিনে চণ্ডালীর এই সিন ক্রিয়েট বন্ধ করতেই হবে।
এরপর দেখতে দেখতে বছর প্রায় ঘুরে গেল। চলে এল বিশ্বকর্মা পুজো। সেদিন সুরাট থেকে বিজু ফোন করে রেণুবালাকে জিজ্ঞেস করল, তিনি এবার চণ্ডালীর ভর হওয়া আটকানোর ব্যবস্থা করেছেন কিনা। মেয়ে ইতিও নয়ডা থেকে একই কথা জানতে চাইল। চণ্ডালী দশমীতে সেনবাড়ি ঢুকলে ওরা এবার আসবে না। রেণুবালা ছেলে এবং মেয়ে, দুজনকেই আশ্বস্ত করলেন। জানালেন, এবার চণ্ডালীর 'নাটক' ওদের আর দেখতে হবে না।
অধর মণ্ডল রোজ সকাল সাতটা নাগাদ সেনবাড়ির পাশ দিয়েই নিজের দোকানে যায়। মহালয়ার দিন রেণুবালা ভোর থেকেই দাঁড়িয়ে রইলেন নিজের বাড়ির দোরগোড়ায়। অধরকে দেখতে পেয়েই উনি কাছে ডাকলেন, শান্তভাবে পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললেন ওকে। অধর কথা দিল, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই সে বৌকে বোঝাবে। এবছর আর চণ্ডালী দশমীর দিন সেনবাড়িতে ঢুকবে না। নিশ্চিন্ত হলেন রেণুবালা। পঞ্চমীর রাত থেকেই ছেলেমেয়েরা সব একে একে বাড়িতে জড়ো হতে শুরু করবে। তার আগেই চণ্ডালীকে আটকানোর বন্দোবস্তটা অন্তত করা গেছে।
মহালয়ার ঠিক পরের দিনের ঘটনা। চণ্ডালী পুজোর জামাকাপড় দিতে সাতসকালেই সোনারপুরে মেয়ের বাড়ি চলে গেল। সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেনের গোলমালের জন্য মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরতে তার রাত আটটা বেজে গেল। তালদি স্টেশনে নেমে তাই শর্টকার্ট ধরল চণ্ডালী। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটার পাশ দিয়ে চলে গেছে একটা নির্জন রাস্তা। এদিকে লোকজন বিশেষ আসে না। তাই জায়গাটা অন্ধকার, নিরিবিলি। একটা ছোটো টর্চ ওর ব্যাগে সবসময় থাকে, জামাইবাবাজি ভালোবেসে দিয়েছে। সেটা হাতে নিয়ে খুব জোরে পা চালাতে লাগল সে। বাড়ি পৌঁছে স্বামীর জন্য ভাত বসাতে হবে। লোকটা দুপুরে বোধহয় মুড়ি খেয়েই কাটিয়েছে। অধরকে খুব ভালো করেই চেনে সে। চণ্ডালী জানে, একার জন্য লোকটা মোটে উনুনে হাঁড়ি চাপাবে না।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই যেন কারখানার ভাঙা পাঁচিলটার ওপার থেকে একটা মেয়ের আর্তনাদ কানে এল। দাঁড়িয়ে পড়ল চণ্ডালী। তারপর একটু পিছিয়ে গিয়ে উঁকি দিল ভাঙা পাঁচিলের ভিতরে, টর্চের আলো ফেলল একবার। এত দূর থেকে কিছু বোঝা যাচ্ছে না, তবে ঝোপটা একটু দুলছে, কিছু তো একটা হচ্ছে ওটার আড়ালে! চণ্ডালী এবার টর্চটা নিভিয়ে দিয়ে পা টিপে টিপে এগোতে লাগল ঝোপটার দিকে। ওটার কাছাকাছি পৌঁছে সে একটা গোঙানির শব্দ পেল। চণ্ডালী আর দেরি করল না, চকিতে ঝোপটার ওপাশে পৌঁছে জ্বালিয়ে দিল টর্চটা।
ভয়ংকর দৃশ্য! একটা মেয়েকে মাটিতে শুয়ে ফেলে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়েছে একটা লোক। এবার একটা গামছা দিয়ে ওকে পিছমোড়া করে বাঁধার উদ্যোগ করছে। শয়তানটাকে চিনতে পেরেছে চণ্ডালী। ওর নাম শিবে, তালদি বাজারে মস্তানি করে। ভোটের সময় বুথ দখলও করে। এবার পঞ্চায়েত ভোটের আগেও শিবেকে সদলবলে বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়াতে অনেকেই দেখেছে। এই মুহূর্তে মেয়েটার সঙ্গে শিবে কী করতে যাচ্ছে, সেটা আর চণ্ডালীর বুঝতে বাকি রইল না। রাগে মাথায় রক্ত উঠে গেল ওর। চণ্ডালী মাটি থেকে একটা আধলা ইট হাতে তুলে নিল। তারপর হুংকার দিয়ে বলল, "শিবে এক্ষুনি তুই মেয়েটাকে ছেড়ে দে বলছি! নাহলে..."
শিবে এমন একটা পরিস্হিতির জন্য মোটেই তৈরি ছিল না। শিবে মেয়েটাকে ছেড়ে তেড়ে এল চণ্ডালীর দিকে। চণ্ডালী তাতে ভয় না পেয়ে ইটটা সজোরে ছুড়ে মারল শিবের মাথায়। মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত বেরোতে লাগল। শিবে মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে পড়ল মাটিতে। এই সময়ে চণ্ডালী ছুটে গেল মেয়েটার কাছে। হাঁটু গেড়ে বসে খুলতে শুরু করল তার হাতের বাঁধন। সে জানতেই পারল না, শিবে ততক্ষণে কিন্তু উঠে দাঁড়িয়েছে আর নিজের পকেট থেকে বের করে ফেলেছে একটা ধারালো ক্ষুর। এবার চকিতে শিবে চণ্ডালীর পিছনে এসে পাকা হাতে তার গলায় ক্ষুরটা চালিয়ে দিল। চণ্ডালী যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠে দু'হাতে নিজের গলা চেপে হেলে পড়ল মাটিতে। শিবে আর দাঁড়াল না, মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।
মেয়েটাই এবার হাঁকডাক করে লোক ডেকে আনল। চণ্ডালীকে ভরতি করা হল হাসপাতালে। মধ্যরাত পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে জোর লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার মানল চণ্ডালী। পরদিন সকালে তার নিষ্প্রাণ দেহটা পাঠিয়ে দেওয়া হল লাশ-কাটা ঘরে। এদিকে পুলিশ শিবের কোনো খোঁজই পেল না। লোকে বলাবলি শুরু করল, পার্টির এক বড়ো নেতার নির্দেশেই সে নাকি এখন ঝাড়খণ্ডে শেল্টার নিয়েছে।
দশমীর সকাল। সেনবাড়িতে দশমীর পুজো শুরু করে দিয়েছেন ঠাকুরমশাই। রেণুবালা কাঠ হয়ে বসে আছেন ঠাকুরদালানে। গত ক’দিন ধরে একটা দারুণ অপরাধবোধ গ্রাস করেছে ওঁকে। কেবলই মনে পড়ে যাচ্ছে চণ্ডালীর কথা। ছেলেমেয়েদের মন রাখতে উনি চাননি আজকের দিনটাতে অন্তত চণ্ডালী এবাড়ি আসুক। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, চণ্ডালীর উপস্থিতি ছাড়া এই পুজো বৃথা।
এই সময়ে হঠাৎই রেণুবালার চোখ গেল সদর দরজার দিকে। উনি দেখলেন, গলায় ব্যান্ডেজ জড়িয়ে একটি বিশালদেহী মেয়ে ধীরে ধীরে এসে বসল ঠাকুর দালানের এক কোণে। তার পরনে লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি, কপালে বিশাল টিপ, শরীরটা সামান্য দুলছে। একটু বাদেই দশমীর পুজো শেষ হল। ঠাকুরমশাই তেকাঠির সুতো ছিঁড়ে নাড়িয়ে দিলেন ঘট। রেণুবালা স্পষ্ট দেখলেন, মাটির প্রতিমা থেকে অস্ত্রসজ্জিতা দুর্গা বেরিয়ে এসে ঢুকে পড়লেন ওই মেয়েটার শরীরে। মেয়েটা তক্ষুনি দাঁড়িয়ে পড়ল। রেণুবালা দেখলেন, তার এক হাতে চামড়া কাটার বাঁটালি, অন্য হাতে একটা লম্বা সূঁচ। মেয়েটার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরছে।
এই দৃশ্য দেখেই রেণুবালা হাত জড়ো করে বলে উঠলেন, "আমায় ক্ষমা করে দিস মা। তোকে আমি চিনতে পারিনি। শয়তানটা এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ওকে তুই ছাড়িস না"। হঠাৎ রেণুবালার মুখে এসব কথা শুনে ছেলেমেয়েরা ছুটে এল তাঁর কাছে। বিজু জিজ্ঞাসা করল, "মা তোমার কী হয়েছে? তুমি এসব কী বলছ"? ইতি জিজ্ঞাসা করল, "মা, তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে"?
রেণুবালা ওদের কোনো প্রশ্নেরই জবাব দিলেন না, শুধু একদৃষ্টে চেয়ে রইলেন সদর দরজার দিকে। ওই পথ দিয়েই অস্ত্রশোভিতা মেয়েটা বেরিয়ে গেল দ্রুত পায়ে, মাটিতে পড়ল তার রক্ত-পায়ের ছাপ। রেণুবালা এবার চিৎকার করে বলে উঠলেন, "শিবে তোর আর নিস্তার নেই। পাপের শাস্তি তোকে এবার পেতেই হবে"।

পরিচিতি: গল্পকার, শিক্ষক।
