প্রবন্ধ ও নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও সুকুমার রায়: এক অসম বন্ধুত্বের আখ্যান



চন্দ্রমল্লী সেনগুপ্ত



শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

(১)

রামের জন্মের আগেই 'রামায়ণ' লেখা শুরু হবার মতো সুকুমারের জন্মের আগে থেকেই রায়বাড়ির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল। তখন কলকাতার ৬ নং গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেনে থাকতেন সমাজ-সংস্কারক ও নারীশিক্ষার পথিকৃৎ দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রখ্যাত স্ত্রী ড. কাদম্বিনী গাঙ্গুলি। রবীন্দ্রনাথের ভগিনী সরলা দেবীর সঙ্গে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও নারীকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির সুবাদে কাদম্বিনীর যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বহুদিনের। ব্রাহ্মসমাজের সূত্রে দ্বারকানাথের সঙ্গে এবং পারিবারিক পরিচয়ের সুবাদেই ১৮৮৫/৮৬ সাল নাগাদ এই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ আসতেন মাঘোৎসবের রিহার্সাল করাতে। তাঁর গান শুনে গলায় তুলে নিতেন তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা। এঁদের সঙ্গে বেহালায় সঙ্গত করতেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। বয়সে রবীন্দ্রনাথের থেকে মাত্র দু'বছরের ছোট উপেন্দ্রকিশোর ক্রমে হয়ে উঠেছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রতি এতোই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে 'রাজর্ষি' উপন্যাস অবলম্বনে তাঁর বড় মেয়ে সুখলতা ও ছেলে সুকুমারের ডাকনাম রেখেছিলেন যথাক্রমে হাসি ও তাতা। এভাবেই জন্ম থেকেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুকুমারের পরিচয় হয়ে গেছিল।

(২)

তরুণ সুকুমার ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন মুদ্রণশিল্প নিয়ে পড়াশোনা করতে। সেখানে অবসর সময়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন। ১৯১২ সালে আমেরিকায় ৬ মাস কাটিয়ে লন্ডনে এসেছেন রবীন্দ্রনাথও। সেই বছর ১৯ জুন লন্ডনে উইলিয়ম পিয়ার্সনের (পরে শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক) বাড়িতে এক ঘরোয়া বৈঠকে সুকুমার সেই অনুবাদগুলো পাঠ করেন। এরপর ১৯১৩ সালের ২১ জুলাই 'East and West Society'-র একটি সভায় তিনি 'The Spirit of Rabindranath Tagore' নামে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন। তিনি বোন পুণ্যলতাকে চিঠিতে লিখেছেন - "...I read my essay unhesitatingly. Though I took much labour in constructing the essay... I took the help of some poems written by Rabindranath... which I translated into English. Every one praised all those translation"। প্রবন্ধটি বিখ্যাত পত্রিকা 'The Quest'-এ প্রকাশিত হয়। সত্যজিৎ রায় লিখেছেন যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সুকুমারের এই প্রবন্ধটি বিদেশিদের কাছে প্রথমবার কবির পরিচয় তুলে ধরেছিল। সুকুমার সেই প্রবন্ধে লিখেছেন - "The advent of Rabindranath Tagore's poetry happened at that critical moment when Bengali literature, having just recovered from the prolonged depression of a decadent period, was discovering its own potential greatness". প্রবন্ধটিতে সুকুমার রবীন্দ্রনাথের দর্শন সম্পর্কেও তাঁর নানান উপলব্ধি ব্যক্ত করেছিলেন। সেই সময় চিকিৎসার জন্য রবীন্দ্রনাথ লন্ডনে একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কবিকে প্রায়ই দেখতে যেতেন সুকুমার। তিনি সুস্থ হলে ১৯১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর 'সিটি অব লাহোর' নামের জাহাজে দুজনে একসঙ্গে দেশে ফিরে আসেন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুকুমারের পরবর্তীকালের অসমবয়সী হৃদ্যতার ক্ষেত্রে কুড়িদিনের সেই দীর্ঘ যাত্রাপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।


যৌবনে সুকুমার রায়

(৩)

কলকাতায় ফেরার দু'মাসের মধ্যে সুকুমারের বিয়ে হয় সরলাসুন্দরী ও জগৎ দাশের কন্যা সুপ্রভা দাশের সঙ্গে। সুকুমার রবীন্দ্রনাথকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করেছিলেন তাঁর বিয়েতে আসার জন্য। জমিদারির কাজে রবীন্দ্রনাথ তখন শাহজাদপুরে ছিলেন, জানিয়েছিলেন আসতে পারবেন না। 'প্রবাসী' সম্পাদক রমানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে সীতাদেবী তাঁর জীবনকথা 'পুণ্যস্মৃতি'তে লিখেছেন - "বিবাহ প্রায় আরম্ভ হইয়া যাইতেছে এমন সময় গেটের কাছে করতালিধ্বনি শুনিয়া কিছু বিস্মিত হইয়া গেলাম। পরক্ষণেই দেখিলাম কবি আসিয়া সভাস্থলে প্রবেশ করিলেন। পরে শুনিয়াছিলাম, এই বিবাহে উপস্থিত থাকিবার জন্যই তিনি কলিকাতায় আসিয়াছিলেন। সুকুমারবাবুকে তিনি অত্যন্ত স্নেহ করিতেন"।

রমানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের আরেক মেয়ে শান্তাদেবী ছিলেন সুকুমারের স্ত্রী সুপ্রভার সহপাঠী। তাঁর স্মৃতিকথায় জানা যায়, সুপ্রভার গান শুনে রবীন্দ্রনাথ এতই মুগ্ধ হন যে, যখনই সুযোগ পেতেন তখনই সুপ্রভাকে নতুন গান শেখাতেন। সুকুমারের মতো সুপ্রভাও রবীন্দ্রনাথের অত্যন্ত স্নেহের পাত্রী ছিলেন, কবির কাছে গান শেখার দুর্লভ সৌভাগ্য তাঁর হয়েছিল। অমিতাভ চৌধুরী লিখেছেন - "সুপ্রভা রায়ের একটি খাতায় দেখা যায় ১৯২১ সালের পূজার ছুটিতে রবীন্দ্রনাথ অনেকগুলি পাতায় একটি করে গান নিজের হাতে লিখে দিয়েছেন। দিন অবসান হলো, আমার দোসর যে জন, আকাশে আজ কোন চরণের আসা যাওয়া ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের স্বহস্তে ঐ খাতায় লেখা শেষ রবীন্দ্রসঙ্গীত - সকাল বেলার বাদল আধারে। তারিখ ২০ জ্যেষ্ঠ, ১৩২৯"। সুকুমারও মাঝেমাঝেই সুপ্রভাকে নিয়ে, কখনও বা বন্ধুদের নিয়ে শান্তিনিকেতনে গিয়ে আড্ডা, হুল্লোড়, বিবিধ গান, জলসা, নাটক করতেন।


শিবনাথ শাস্ত্রী

(৪)

উপেন্দ্রকিশোর অল্প বয়সেই শিবনাথ শাস্ত্রী প্রমুখ ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে ব্রাহ্মধর্মের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। সুকুমার এই পরিমণ্ডলেই বড়ো হন এবং ব্রাহ্মসমাজের সদস্য পদ গ্রহণ করেন ১৯০৭ সালে। এর আগে ১৮৭৮ সালে 'আদি ব্রাহ্মসমাজ' থেকে বিযুক্ত হয়ে 'সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তরুণ সমাজকে আকর্ষণ করার জন্য আনন্দমোহন বসুর নেতৃত্বে গঠিত হয় 'Students' Weekly Service'। সুকুমার ব্রাহ্মসমাজে যোগ দেওয়ার পর 'Students' Weekly Service'-এর অন্তর্ভুক্ত হন। পরে বিদেশ থেকে ফিরে এসে সুকুমার 'সন্দেশ' পত্রিকা ছাড়াও ব্রাহ্মসমাজের কাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন সহকারী সম্পাদক ও উপাসকমণ্ডলীর অন্যতম আচার্য হিসেবে।


প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবীশ

আদি ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে সংযুক্ত রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের সম্পর্ক ভালো ছিল। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের বহু তরুণ সদস্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ভক্ত। ১৯২০-র শেষদিকে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ব্রাহ্মসমাজে বিতর্ক দেখা দেয়। সমাজের তরুণদের প্রস্তাব ছিল, রবীন্দ্রনাথকে যেন সম্মানিত সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি ৫১-২৯ ভোটে গৃহীত হলেও কার্যকরী করা যায়নি কারণ রক্ষণশীল গোঁড়া ব্রাহ্ম সদস্যরা উদারমনস্ক রবীন্দ্রনাথকে 'যথেষ্ট পরিমাণে' ব্রাহ্ম বলে মনে করতেন না। সুকুমার তরুণদের প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন। তখন তিনি খানিকটা অসুস্থ। তবু সেই শরীরেই তিনি প্রশান্ত মহলানবীশকে 'কেন রবীন্দ্রনাথকে চাই' শীর্ষক একটি ৫২ পাতার পুস্তিকা প্রস্তুত করতে সাহায্য করেন। ১৯২১ সালের ১৫ মার্চ এটি প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও কলকাতা শহরে ব্রাহ্মসমাজের সভাপতি নির্বাচনে রবীন্দ্রনাথকে জেতানোর ব্যাপারেও সুকুমার অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তখন, অসুস্থতা সত্ত্বেও।

(৫)

১৯২১ সালে সুকুমারের দুরারোগ্য কালাজ্বর ধরা পড়ল, যে ব্যাধির তখনও কোনো চিকিৎসা ছিলনা। জীবনের শেষ আড়াই বছরের অধিকাংশ সময়টাই রোগশয্যায় কেটেছে তাঁর। তখন বয়স ৩৪। ১৯২২-এ একমাত্র পুত্র সত্যজিৎ জন্মালেন। তখনও মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত জেনেও অসাধারণ মানসিক স্থৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন সুকুমার। এই নিদারুণ অসুস্থতার সময় তাঁকে পানিহাটির বাগানবাড়িতে শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ, বহমান গঙ্গার পাশে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে এসেছিলেন বিশ্রাম দেবার জন্যে। তিনি নিয়মিত মৃত্যুপথযাত্রী 'বন্ধু'কে দেখে যেতেন। দেখতেন যন্ত্রণা স্পর্শ করতে পারেনি সুকুমারের আনন্দময় সত্তাকে, মৃত্যুর দোরগোড়ায় এসেও তিনি লিখছেন - "ছুটলে কথা থামায় কে? আজকে ঠেকায় আমায় কে?"।

অনেক বছর আগে ১৯০১ সালে জোড়াসাঁকোতে মাঘোৎসবে রবীন্দ্রনাথ একটি প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। পরে 'শান্তিনিকেতন প্রবন্ধাবলী'তে সংকলিত 'কম' শীর্ষক এই প্রবন্ধে তিনি উপনিষদের এই স্তোত্রটিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন - "আনন্দাজ্যের খন্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে, আনন্দেন জাতানি জীবন্তি, আনন্দং প্রয়ন্ত্যভিসংবিশক্তি"। রবীন্দ্রকৃত ব্যাখ্যাটি এরকম - "ব্রহ্ম আনন্দস্বরূপ। সেই আনন্দ হতেই সমস্ত উৎপন্ন, জীবিত, সচেষ্ট এবং রূপান্তরিত হচ্ছে। আনন্দের স্বভাবই হচ্ছে ক্রিয়া - আনন্দ স্বতই নিজেকে বিচিত্র প্রকাশের মধ্যে মুক্তিদান করে থাকে। সেইজন্যই অনন্ত আনন্দের অনন্ত প্রকাশ। ব্রহ্ম যে আনন্দ সে এই অনিঃশেষ প্রকাশধর্মের দ্বারাই অহরহ প্রমাণ হচ্ছে। তাঁর ক্রিয়ার মধ্যে তিনি আনন্দ এইজন্য তাঁর কর্মের মধ্যেই তিনি মুক্তস্বরূপ"। সুকুমারের মনে গেঁথে গিয়েছিল রবীন্দ্রনাথকৃত ভাষ্য-সহ শ্লোকটি। ১৯২৩ সালে নিজের রোগশয্যায় লেখা কবিতায় আনন্দময় ব্রহ্মকে প্রণাম জানিয়ে উপনিষদের সেই কথাগুলিই নতুনভাবে লিখলেন তিনি - "আনন্দেতে জীব জনম লভো আনন্দে জীবিত রয়েছে সবে/ আনন্দে বিরাম লভিয়া প্রাণ আনন্দের মাঝে করে প্রয়াণ"। (অতীতের ছবি পর্ব ১) ...এই কবিতায় বিশ্বের মাঝে মগ্ন হয়ে শোক, তাপ, মোহ, মৃত্যু-চিন্তা সব কিছু থেকে মুক্তিলাভের পথ খুঁজেছেন রোগজর্জর সুকুমার, যার উৎসে রয়েছে রবীন্দ্রনাথকৃত ভাষ্যটি।

(৬)

মৃত্যুপথযাত্রী সুকুমার কবির স্বকণ্ঠে গান শুনতে ভালবাসতেন। তাঁর অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ শোনাতেন 'আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু'; 'আমার সকল দুখের প্রদীপ'; 'দুঃখ এ নয় সুখ নহে গো- গভীর শান্তি এ যে' গানগুলি। সুকুমারের খুড়তুতো বোন মাধুরীলতার স্মৃতিতে - "গানের পর গান চলিল, সকলে তন্ময় হইয়া গান শুনিতে লাগিল। দাদার প্রশান্ত মুখখানি দেখিয়া মনে হইতেছিল যে তিনি পরম শান্তি লাভ করিয়াছেন"। রবীন্দ্রনাথের গাওয়া গানে মৃত্যুর শান্তিময় রূপটি খুঁজে পেয়ে জীবনের শেষ সময়েও পরিপূর্ণ নিষ্ঠায় সুকুমার কাজ করে চলেছেন তাঁর ছড়ার সঙ্কলন 'আবোল তাবোল'-এর জন্যে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন তাঁর এই তরুণ বন্ধুর মৃত্যুকালীন প্রশান্তি দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মারা যান সুকুমার রায়। ন' দিন পরে বেরোয় 'আবোল তাবোল'।

সুকুমার রায়ের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের মন্দিরে একটি প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিলেন। আচার্যের ভাষণে তিনি বলেন, "আমার পরম স্নেহভাজন যুবকবন্ধু সুকুমার রায়ের রোগশয্যার পাশে এসে যখন বসেছি, এই কথাই বার বার মনে হয়েছে, জীব-লোকের ঊর্ধ্বে অধ্যাত্মলোক আছে। যে-কোনো মানুষ এই কথাটি নিঃসংশয়ে বিশ্বাসের দ্বারা নিজের জীবনে স্পষ্ট করে তোলেন, অমৃতধামের তীর্থযাত্রায় তিনি আমাদের নেতা। আমি অনেক মৃত্যু দেখেছি, কিন্তু এই অল্পবয়স্ক যুবকটির মতো অল্পকালের আয়ু নিয়ে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে এমন নিষ্ঠার সঙ্গে অমৃতময় পুরুষকে অর্ঘ্য দান করতে আর কাউকে দেখিনি। মৃত্যুর দ্বারের কাছে দাঁড়িয়ে অসীম জীবনের জয়গান তিনি গাইলেন। তার রোগশয্যার পাশে বসে সে গানের সুরটিতে আমার চিত্ত পূর্ণ হয়েছে"।

চলে গেছেন দুজনেই। কিন্তু অসমবয়সী দুই বন্ধুর যোগসূত্র থেকে গেছে তাঁদের লেখায় - "'কুমড়োপটাশ'-এর কি 'গোঁফচুরি'-র বড়োবাবুর ব্যঙ্গস্থলে দৌরাত্ম্য বা 'একুশে আইন'-এর স্বৈরাচারী শাসন আর 'তাসের দেশ'-এর কি 'রক্তকরবী'-র রাজাদের নিয়মতান্ত্রিক বা শ্বাসরোধকারী শাসন ব্যবস্থার মধ্যে সত্যিই কি কোনো মৌলিক ফারাক আছে? আসলে দুজনেই তো মনের ও জীবনের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন আর সমর্থন করতেন না নিয়মের বেড়াজালে কোনো চাপিয়ে দেওয়া দমন পীড়ন। তাই মানবতার অবমাননায় দুজনের কলমই শানিত হয়ে ওঠে প্রতিবাদে। যেমনটা ছিল উপেন্দ্রকিশোরের গুপী বাঘার গল্পে কিংবা সুকুমার পুত্র সত্যজিতের হীরক রাজার চলচ্চিত্রে, যে সত্যজিতের পড়াশোনাও শান্তিনিকেতনেই। এভাবেই রায় পরিবার ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক তিনটি প্রজন্ম ধরে বহমান থেকে পুষ্ট করেছে বাঙালির সংস্কৃতি ও সাহিত্যজগতকে"।

তথ্যসূত্র:

১. যন্ত্রণা স্পর্শ করতে পারেনি তাঁর আনন্দময় সত্তাকে; সত্যরঞ্জন দাস; anandabazar.com; ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩; ০৭:৩১।
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সুকুমার রায়: পারিবারিক হৃদ্যতা; পূরবী বসু; সমকাল; প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২।
৩. Letters of Sukumar Ray - Introduction: Satyajit Ray; Sage; Volume 7, Issue 2; http://journals.sagepub.com
৪. পুণ্যস্মৃতি; সীতাদেবী; বিশ্বভারতী গ্রন্থণ বিভাগ; www.archive.org
৫. অতীতের ছবি; সুকুমার রায়; www.kobitacocktail.com
৬. The spirit of Rabindranath Tagore; The Quest; Vol. 1; October, 1913; pgs. 40-57.
৭. কর্ম; শান্তিনিকেতন প্রবন্ধাবলী; tagoreweb.in

পরিচিতি: প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক, কলকাতা।