গল্প

দিব্যান্ধ যাদুকর



চন্দন আনোয়ার


তাঁর চাল-চলন রাজার মতন। সকালে-বিকালের খাবারের সময় নির্দিষ্ট, রাতে কিছুই খায় না, গ্রীষ্মে খাবারের চাহিদা বাড়ে, শীতে কমে। ঠিক সকাল নয়টায় নাস্তা, বিকেল ৪টায় একসঙ্গে দুপুর-রাতের খাবার খায়। ঝড়-বৃষ্টি-দুর্যোগ বলে কথা নেই, এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তাঁর সারা রাজ্য কেঁপে ওঠে। পানির ভেতরে এতো জোরে পাক মারে, আর লাফিয়ে ওঠে, সাড়ে তিন একরের পুকুরে সমুদ্রের গর্জন ওঠে। তাঁর প্রজারা তো বটেই, আমাদের বাড়ির মানুষগুলো পর্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। সমগ্র শরীর তো আর দেখা যায় না, এমনকি লাফিয়ে উঠলেও ধূসর রূপালি শরীরের এক চতুর্থাংশ পানির উপরে ভেসে উঠে; তারপরেও ধারণা করা যায়, কাতল মাছটি আর মাছ নেই, দৈত্য-ই হয়ে গেছে। দৈত্যের মতো বিশাল শরীর, শরীরের কয়েকগুণ বড় বিকট আকৃতি মুখ-মাথা-চোয়াল, মুখ হাঁ করলে এক দুইজন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে প্রবেশ করতে পারবে। শরীরের এক একটি আঁশ খাবার প্লেটের সমান বড়। মাথা থেকে লেজের দৈর্ঘ চার ফুট সাত ইঞ্চি। গজ-ফিতে দিয়ে মেপে দেখেছি। সাধারণত মধ্যপুকুরে থাকে, খাবারের সময় কিনারায় আসে। লক্ষ করে দেখেছি, আমি যখনি পুকুরের পাড়ে দাঁড়াই, চলে আসে। আর আসে দাদু দাঁড়ালে। মূলত, দাদু আর আমার প্রশ্রয়েই মাছটির এই দীর্ঘায়ু। প্রতিবছরই জালে উঠে, কিন্তু দাদু ছেড়ে দেয়। এই করে মাছটির বয়স এখন ষোল বছর। বাবা, কাকা, মা-কাকি একজোট হয়ে মাছটির বিরুদ্ধে। পেটে খিদে লাগলে যে-রকম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে, কোনো একদিন পানি থেকে উঠে এসে বাড়ির সবাইকে পেটে চালান করে দিলে কে ঠেকাবে! দাদুর যুক্তি, এবং আমারও ধারণা, কাতল মাছটি পুকুরের ছোট-মাছ খায় না, বরং এই মাছটি থাকার কারণে পুকুরে মাছের চাষবাষ বাড়বাড়ন্ত। মা বলে, মাছটি আর মাছ নেই, তোর দাদুর ছেলে হয়ে গেছে। সব মায়া এখন তার জন্যেই।

আমাদের ভাষাহীন নির্বাক বন্ধুত্ব কতোটা গভীরে পৌঁছে গেছে, টের পেয়েছি একবার পিকনিকে যাবার পরে। টানা তিনদিন বাড়ি ছিলাম না। এই তিনদিনে কী যে ত্রাস চালিয়েছে, বাড়ি ফিরে দেখি, মা-কাকি রীতিমতো অসুস্থ। পানিতে পাক দিয়ে মাছটি লাফিয়ে উঠলে যে ভয়ানক ত্রাস সৃষ্টি হয়, সেই ত্রাসের শব্দে বুক কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।

পুকুরের ঘাটে বসে দুই বন্ধু গল্প করি, পিঠের উপরে আঁচড় কাটি। আমি যদি মুখ হাঁ করতে বলি, মুখ হাঁ করে, লেজ নাড়াতে বললে লেজ নাড়ে; মোদ্দাকথা, আমার বেশ কিছু কথায় বন্ধু সাড়া দেয়। পির-দরবেশরা মাছের পিঠে চড়ে নদী পার হতো, গল্প শুনেছি। সাহস করে একদিন বন্ধুর পিঠে চড়ে বসেছিলাম।

দাদুর মৃত্যুর পরে পুকুরটি আমরা একা নিতে চাই, বিনিময়ে মাঠের জমি দ্বিগুণ পাবে অর্থাৎ পুকুরের সাড়ে তিন একরের পরিবর্তে মাঠে সাত একর ফসলি জমি পাবে কাকা। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে এতো বড় ক্ষতি মেনে নিয়েছিল বাবা। কাকা নিমরাজি, কিন্তু কাকির জেদ আমার উপরে, কিছুতেই মাথা পাতেনি। এই নিয়ে আমি জেদ করি, সুইসাইডের হুমকি পর্যন্ত দিই। বাবা-মা, এমনকি কাকা পর্যন্ত ঘাবড়ে যায়। জাঁদরেল কাকির পাল্টা হুমকি, এই পরাজয়ের অপমান সহ্য করে এই বাড়িতে থাকা অসম্ভব, সুইসাইড সেও করতে পারে। বাড়ি একটি জ্বলন্ত-অগ্নিকান্ডে পরিণত হয়।

দাদা নেই, বাবা-ই এখন কাকার অভিভাবক। উপয়ান্তর না পেয়ে বাবা আমার মুখোমুখি দাঁড়াল, চোখ-দুটি জলে ভরা; মাছটি বাঁচবে আর কতোদিন? জ্বলজ্যান্ত মানুষটি-ই আর সংসারে নেই, কোথায় হারিয়ে গেলো বলতে পারবি? এই বাড়ি এই সংসার এই পুকুরের মালিক কি আমি? যে আসল মালিক, সে কী নিয়ে গেল? এই মাছটির জন্য ভাইয়ে ভাইয়ে... এই পর্যন্ত বলে বাবা থেমে গেল।

এদিকে, দাদু নাকি প্রতিদিন কবর থেকে উঠে এসে মাছটির সাথে দেখা করে যায়। প্রথম কয়েকদিন কানাঘুষো চলে, এখন প্রকাশ্যে লোকমুখে। দাদু একা আসে না, তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসে, যারা দাদুর আগেই মারা গেছে। এখানেই গল্প শেষ না - মাছটি নাকি দাদুকে গোরস্থান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। মেরুদন্ড সোজা করে মানুষের মতো হাঁটে। মাছটির শরীরের অর্ধেকটা মাছের শরীর, কোমর থেকে উপরে অবিকল মানুষের শরীর। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের শরীর, মুখের গড়ন বাবা-কাকার মতো, কেউ বলে আমার মতো। এমন সব গল্প শুনে মনে প্রশ্ন জাগে - দাদু কি সত্যিই আসে? আমার সাথে দেখা করে না কেন? এতোকাল মাছমানবীর গল্পই শুনেছি। ক্রমেই গল্পটি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। মূর্তিমান আতঙ্ক আর ভয় গ্রামবাসীর মেরুদন্ডের ভেতর দিয়ে মগজে প্রবেশ করে। ভয়-আতঙ্ক দ্রত দ্রোহে রূপ নিচ্ছে। দাদু ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, কিন্তু মাছটি জলজ্যান্ত। যে-করেই হোক একে জলছাড়া করতে হবে। উৎপাত শুরু হয়ে গেছে।

দশটি গ্রাম মিলে একটি ইউনিয়ন, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মতো দাপট ছিল দাদুর। তার পদধূলি ছাড়া কেউ ভোটে জিততে পারেনি। বাবা, দাদুর তুলনায় হাতি-ঘোড়ার পার্থক্য, তথাপি, দাদুর ছেলে বলে এবং ভদ্রলোক বলে বাবাকে যথেষ্ট সম্মান সমীহ করে লোকে। হঠাৎ একদিন একসঙ্গে চব্বিশটি লাল মোটর সাইকেল রেসের ঘোড়ার মতো লাফিয়ে ওঠে আমাদের উঠানে। ভূঁইয়ার বাড়ির উঠানে এই ধরনের আস্ফালন রাতে সূর্য ওঠার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনা। গ্রামের মানুষ ভেঙে পড়ে। ছেলেগুলোর সবার বয়স উনিশ-বিশ, কলেজে পড়ে। যে তরুণ ছেলেটি এই দলের নেতা, বাবা কেন, গ্রামের কেউ চিনে না। বেশ হৃষ্টপুষ্ট শ্যামবর্ণ শরীর, ফতুয়া পরণে, মুখে ছোট ছোট দাঁড়ি, চশমা দুটি, চোখে একটি কালো চশমা, বুকে ঝুলে আছে দ্বিতীয়টি। বাকি ২৩ জন-ই আশেপাশের গ্রামের ছেলে, পরিচিত মুখ। ধাঁধায় পড়ে গেলাম। তারা গুপ্তধন অথবা ওরা আলাউদ্দিনের চেরাগ-টেগার জাতীয় কিছু পেল নাকি! ২৩ জনের দুই-চার জনের বাবা লাখ টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কেনার সামর্থ্য রাখে, বাকিরা পেল কোথায়? এতোদিনে চেনামুখ আর আজকের মুখগুলোর মধ্যে দিন আর রাতের তফাৎ। আমগাছে হঠাৎ কাঁঠাল ধরার মতো ঘটনা। বিনয়ী, ঘোর-শান্ত স্বভাবের, মাথা উঁচু করে হাঁটেনি কোনোদিন যে ছেলেগুলো, আজকে তাদের সর্ব অবয়বে শক্তি নাচে। প্রত্যেকের রোদ-ঝলসানো চোখ দুটি কামারশালায় তাতানো লোহার মতো লাল টকটকে। মানুষের নাগালের বাইরে সূর্য, কিন্তু মাথার উপরে সূর্য উঠলে শরীরে রোদ লাগে। এই ছেলেগুলোর মাথার উপরে শক্তির-সূর্য উঠেছে। এই সূর্যশক্তি বাংলাদেশে সমস্ত গর্ভবতী নারীর গর্ভের অন্ধকারে, জীবিত মানুষের শরীর থেকে মগজে, মৃত মানুষের কবরে, ফসলি মাঠে, বাড়ির অন্দরমহলে, ঘরে-ঘরে, হাঁড়ি-চুলার ভেতরে, শিশুদের খেলনার ভিতরে, আলমারিতে; এককথায়, বাংলাদের এক লাশের ইঞ্চি জায়গাতেও অন্ধকার নেই, সর্বত্রই সূর্যের রোদে উজ্জ্বল।

নেতা ছেলেটি মোটরসাইকেল থেকে নেমে বাবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে, কাকা, আপনাদের পুকুরে নাকি বিশাল সাইজের কাতল মাছ আছে? শুনলাম - মাছটি আর মাছ নেই, দৈত্য হয়ে গেছে? রাত-বিরেতে পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ায়, মানুষকে ভয়-ভীতি দেখায়।

বিনয়ে ছেলেটির শরীর ঝুলে পড়েছে ফলবতী বৃক্ষের মতো, কিন্তু বাবার মুখের দিকে তাকানোর ভঙিমা তীর-তীর্যক, এবং হ্যাঁ-বোধক প্রত্যুত্তর ছাড়া কিছুই মানবে না, এমন একটি ধমক চোখে প্রস্তুত।

উফ্! দাদু নেই। এই পরিস্থিতি, দাদুর একটি হুঙ্কার-ই যথেষ্ট ছিল। এই ছেলেগুলো মোটরসাইকেলসহ উড়ে যেত ঝড়ে চারাগাছ উড়ে যাওয়ার মতো। বাবা কোনোদিনই জোরে কথা বলেনি। 'রাগ' বাবার রক্তেই নেই। মূলত, দাদু ছিল বাবার মাথার উপরে ছাতা, রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে সুরক্ষা। আজ দাদু নেই, বাবা কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। ছেলের বয়সী ছেলেগুলোর কী উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে উপস্থিত, সূর্যের রোদের মতো প্রকাশ্য, স্পষ্ট।

"কিন্তু তুমি কে? তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না?"

ছেলেটির তীর-তীর্যক চোখের মণি কেঁপে ওঠে, কিন্তু চোখ-কাঁপেনি, "আমি এই গ্রামেরই ছেলে?"

এই গ্রামের ছেলে! বাবা'র চোখে জিজ্ঞাসা চিহ্ন? এই সময় উৎসুক-দর্শকের সারি থেকে রাজ্জাক কাকা এগিয়ে এসে বলে, "ভাই, ও আমাদের রহিম ভাইয়ের ছেলে? চিনতে পারবেন কী করে? ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেনি বলে জেলে-যাওয়ার ভয়ে সে-ই যে রাতে অন্ধকারে বউ-বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় পালিয়ে গেল আর কী ফিরেছে কোনোদিন? হঠাৎ গতকাল রাতেই ছেলেটি বাড়ি এসে উপস্থিত। আমি নিজেই চিনতে পারিনি।"

বাবা এবার শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, কারণ, এই ছেলেটির বাবা কেন, তার তিন পুরুষের বেঁচে-বর্তে থাকার ঠিকানা ছিল ভূঁইয়া-বাড়ি। পালাক্রমে তাদের প্রত্যেকেই এই বাড়ির বাঁধা-মুনিষ ছিল। রাজ্জাক কাকার বাবার জন্ম এই বাড়িতে। তেইশ বছর বয়স পর্যন্ত এই বাড়ির সদস্য হয়েই ছিল। দাদু নিজ হাতে বিয়ে দিয়েছিল। তিনকাঠা জমির উপরে একটি দোচালা টিনের ঘর, হাড়ি-পাতিল-ঝাড় থেকে শুরু করে একজোড়া হালের বলদ, অর্থাৎ একটি পরিপূর্ণ সংসার গড়ে দিয়েছিল। সংগ্রামী পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন, সংসারটাকে গুছিয়ে ফেলেছিলেন। তারই মেজো ছেলে রহিম, যে-কিনা কাঁচামালের পাইকারি ছিল, ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের ভয়ে রাতের অন্ধকারে বউ-সন্তান নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল। এই পালানোর গল্প আমি ছোটবেলাতেই শুনেছি।

হঠাৎ বাবা উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে, কণ্ঠে পিতৃসুলভ আবেগ, "ওহ! তুমি আমাদের রহিমের ছেলে? তুমি সেই ছেলে! তোমার জন্মের রাতে প্রকান্ড কালবৈশাখী ঝড় উঠেছিল, ঝড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওঠে তোমার মা'র পেটের বেদনা। রহিম বাড়ি নেই, কাঁচামাল নিয়ে ঢাকায় গেছে। রাজ্জাক ছুটে আসে ঝড় ঠেলে।" এই বলে বাবা রাজ্জাক কাকার মুখের দিকে তাকায়, "বাবা, তোমার মনে আছে রাজ্জাক? কেউ বাড়ি থেকে বের হয় না, বের হবে কী করে - ঝড়ে মানুষে ঘর-বাড়ি উড়ে যাচ্ছে। তোমার ভাবি তখন ছুটে গিয়েছিল। সেই ছেলে এতো বড় হয়েছে গেছে?"

রাজ্জাক কাকা বলে, "ভাবিও তখন পোয়াতি? আপনার বড় ছেলে পেটে।"

বড় ছেলে বলতেই বাবার চোখ-দুটি কেঁপে ওঠে, মুহূর্তের মধ্যে চোখ ভিজে যায়। ঝাপসা-চোখে তাকায় ছেলেটির মুখের দিকে। কী জানি - বাবা হয়তো এই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তাঁর বড় ছেলেকেই খুঁজছে, যে ছেলে জন্মের মাত্র আড়াই মাস পরে, অর্থাৎ পঁচাত্তর দিনের মাথায় মারা গিয়েছিল।

নেতা ছেলেটির তীর-তীর্যক চোখের মণিটাও এখন আর কাঁপছে না। বাবার ঝাপসা চোখের দিকে তাকিয়ে আছে নিষ্ঠুর শিকারীর চোখে। শরীরে বিনয়ের পরিবর্তে চরম অস্বস্তি আর বিরক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে বাবার শরীর নুয়ে আসে বাঁকা তলোয়ার মতো; আর ছেলেটির চোখে-মুখে দুর্বিনীত হাসি ফুটে ওঠে। ভঙিমা এমনঃ পাপে-তাপে অনুতপ্ত এক পাপিষ্ঠ মানুষ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার দেবতার সামনে।

তাড়া আছে, মোটরসাইকেলে লাফিয়ে উঠে নেতা বলে, কাতল মাছটা কিন্তু আমাদের, আমরা পিকনিক করব। জালু জাইল্যা আগামী মাসের ৫ তারিখে জাল ফেলবে, কথা ফাইনাল। ষোল বছর ধরে একাই টন টন মাছ খেলেন, খেয়ে পুকুর সাবাড় করে দিয়েছেন। নেতা ছেলেটি বাবার পেটের দিকে তাকিয়ে বিশ্রী ইঙ্গিত করলে বাবার নিচু মাথা আরো ঝুঁকে পড়ে। বাবার সাথে উপস্থিত অনেকের মাথা নিচু হয়ে যায়।

আমি শুধু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, দাদাকে খুঁজছি।

এই তল্লাটে মাছটি ধরার চ্যালেঞ্জ নেবার মতো একজন-ই আছে - জালু জাইল্যা। বাবার বাল্যবন্ধু। এক-বিষয়ে রেফার্ড নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বছর তিনেক একটি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করে ছেড়ে দিয়েছিল মাছ-ধরার নেশায়। কাপড়ের রং উঠার মতো ধীরে ধীরে জালাল উদ্দিন নামটি সংক্ষিপ্ত হয়ে জালু হয়ে সঙ্গে জাইল্যা পদবি যুক্ত হয়। মাছ ধরার নেশা পরিণত হয় পেশায়। মৎস্যশিকারী, জালবন্দি মাছের ছটফটানি দেখে বলেই কিনা - সংসার-জালে ধরা দেয়নি। বউ যে বড়শির মতো বাঁকা হবে না, অথবা, স্কুলের হেডমাস্টারের মতো বদমেজাজি হবে না গ্যারান্টি নেই। পরলোকবাসী মা স্বাক্ষ্য দিয়ে গেছে - জন্মের পরে জালু কোনোদিন এক টুকরো মাছ মুখে তোলেনি। মাছের তরকারির গন্ধ-ই সহ্য করতে পারে না, পালিয়ে বেড়ায়। তবে, জেতা-তাজা মাছ-ই ছিল জালুর শৈশবের খেলার সাথী, মাছেদের সাথে কথা বলত, গল্প করত, মাছ কাটতে দেখলেই জুড়ে দিতো মরণ-চিৎকার। তাই, ছেলের সামনে কোনোদিন মাছ কাটেনি মা। এই সূত্রেই লোকমুখে প্রচার আছে - জালু জাইল্যা মাছেদের ভাষা বোঝে; পানির যতো নিচেই ঠিকানা হোক, জালুর চোখে পড়বেই। শরীরী অবয়বে জালু গড় বাঙালির মতোই, সাড়ে পাঁচ ফুট, মাঝারি গড়ন, শ্যামলা চামড়া, কিন্তু চোখ দু'টি গড় মানুষের চোখের তুলনায় ছোট, তাই বলে, মাছের চোখের মতো ছোট না, তথাপি লোকে বলে, পূর্বজন্মে জালু মাছ-ই ছিল। লোকমুখের এই সব প্রচারের বিষয়ে জালু নীরব, হাসিমুখে এড়িয়ে যায়। দশকাঠা জমির উপরে পৈতৃকবাড়িই জালুর সম্পত্তি, যেখানে এক বিধবা-বোন আর জালু থাকে। মাসে একদিন-ই মাছ ধরে, একটি পুকুরে। পানির নিচে মাছ বড় চালাক, যতোবড় জাল-ই হোক, তিনভাগের একভাগ থেকেই যায়। জালু মাছেদের ভাষা বোঝে এবং চলাফেরার গতিবিধি দেখে-শুনে বলে জাল ফেললে পোনা-দারকিনা পর্যন্ত উঠে আসে। বছরের শুরুতেই চারগুণ বেশি পারিশ্রমিকে জালুর খাতায় নাম লিখিয়ে আসতে হয়। যে-পুকুরে জালুর জাল পড়ে, সেই পুকুরের চারদিকে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে।

অসময়ে, সূর্যাস্তের ঠিক পূর্বমুহূর্তে পুকুরঘাটে বিষণ্ন মনে বসে আছি। এরমধ্যে বন্ধু দুইবার আসে। আমার উষ্ণ সাড়া না পেয়ে ফিরে গেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে উঠে আসব, হঠাৎ দেখি, পুকুরের দক্ষিণকোণে তিনজন লোক এসে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার অন্ধকারে ওদের মুখ দেখা যায় না। এগিয়ে গিয়ে দেখি, কাকা, বাবা আর জালু জাইল্যা। কাকা, বাবাকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বাবা'র একটি জবাব, না। বাবার কণ্ঠের 'না' শব্দটিই শোনা যায়, কারণ, কাকা নিচু স্বরে চাপাকণ্ঠে কথা বললেও, বাবা স্বাভাবিক কণ্ঠেই জবাব দিচ্ছে। হঠাৎ কাকা উত্তেজিত হয়ে ওঠে, অন্ধকার কেঁপে ওঠে, মনে হলো, অন্ধকারে দৈত্য জেগে উঠেছে। "তুমি আছো একটা মাছ নিয়া, বাড়ি-ঘরে যে আগুন জ্বলবে..., আগুনে না পুড়লে বোলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে..." কাকা কণ্ঠস্বর নিচে নামিয়ে আরো কিছু কথা বলে। বাবা কাকার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে নির্বিকার চোখে। কাকার শেষ বাক্যটি আমার কানে স্পষ্টই আসে; "আমি কথা দিয়েছি, তুমি পারলে ঠেকাও।" কাকা দক্ষিণের দিকে, বাবা উত্তর দিকে চলে গেল। জালু জাইল্যা একা দাঁড়িয়ে আছে।

দুই ভাইয়ের মধ্যে জালু জাইল্যা কেন? এই বিস্ময়ে উপরে ভর করেই এগিয়ে গেলাম। আমাকে দেখেই সে চমকে ওঠে, "তুমি কোত্থেকে? তোমার বাপ-চাচার কথা শুনে ফেলেছো? কত কষ্ট করে দুই ভাইকে একসাথে করলাম, কিন্তু লাভ হলো না। তোমাদের ঘরের ভেতরেই ঝড়, বাইরে তো তান্ডব চলছেই। একই বাপের একই রক্তের দুই ভাই, একজন উত্তরে তো আরেক জন দক্ষিণে। তোমার দাদুর রক্ত যে ছেলের শরীরে, সেই ছেলে কী করে!" এই বলে জালু জাইল্যা একটি গাঢ় দীর্ঘশ্বাস টেনে বের করে বুকের ভেতর থেকে! "তোমার দাদু কী নিজের ছেলেকে চিনতে পারেনি! এদিকে, তোমার বাপ কিছুতেই বুঝতে পারছে না - মাছটা উপলক্ষ্য মাত্র, নারিকেলের খোসার মতো, ওদের আসল লক্ষ্য তোমার দাদু।"

"কিন্তু দাদু তো আর নেই - মরে গিয়েছে!"

মানুষ মরে গেলে ছায়া হয়ে যায়। ফলবান বৃক্ষ মরে গেলেও তার বীজ থেকে দশটি গাছ জন্মায়; এমনকি বিশাল একটি অরণ্যও গড়ে উঠতে পারে। মানুষের সমাজে কিছু মানুষ ফলবান বৃক্ষের মতো। তোমার দাদু নিয়মিত কবর থেকে উঠে আসে, জীবিত মানুষের মতো হাঁটাচলা করে - এইসব গল্প-গুজব কাদের মুখে শোনো? কারা প্রচার করে? খেয়াল করো - তাদের শেকড় কোথায়? তারা থাকে এই গ্রামেই, জন্মেছে এই গ্রামে, এই দেশে, কিন্তু তারা কোনোদিনই তোমার দাদুকে মেনে নেয়নি, ভেতরে ভেতরে চরম ঘৃণা করেছে, আর সুযোগ পেলে গর্তের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে ছোবল দিয়েছে। এখন তাদের সুযোগ এসেছে।

অন্ধকারে দুইজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। মানুষটি বর্ণচোরা, নিজের প্রকৃত স্বরূপ লুকিয়ে রাখে সতর্কতার সাথে। বাইরে শান্ত-ধীর, সরলসোজা, আলাভোলা, ভেতরে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। জালু জাইল্যার গাঢ় দীর্ঘশ্বাসের উত্তাপ আমার মুখে লাগে: এই তো খেলা সবে শুরু, এর শেষ কতো দূর কে জানে! "বেঁচে থাকতে তোমার দাদু আমাকে ভুল বুঝেছিল, আমার উপরে অসন্তুষ্ট ছিল। তার বিশ্বাস ছিল, লোকের কাছে বলেও বেড়াত, সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে, আমার জন্যই তার ছেলে বিএ পাস করেনি। মাছ ধরার নেশায় পড়ে নিজেকে ধ্বংস করেছি, তার ছেলের সবর্নাশ করেছি। এখন যদি - আমি এই মাছটি ধরি, তোমার দাদু আমাকে কবর থেকে অভিশাপ দেবে, পরকালে দেখা হলে কী জবাব দেবো?"

বড় মানুষ যে এমন শিশুর মতো হাউমাউ করে কাঁদতে পারে, আমি আগে দেখিনি, ভাবিওনি। আমাকে জড়িয়ে ধরে, আমার ছোট্ট-কাঁধে মাথা ফেলে সে কী ফুপিয়ে কান্না। এই কান্না মানুষটার ভেতরে জমে ছিল মনে হয়; নয়তো, একজন মানুষের চোখের জল এতো বেশি আসে কী করে! কান্নার জল বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়ে আমার কাঁধে, পিঠে। এই মুহূর্তে অন্ধকার-ই আশীর্বাদ।

* * * * * *

সমাধিস্থলের নীরবতা বাড়ির মধ্যে। কাকার ঘরে একশো ভোল্টের একটি লাইট জ্বলছে। উঠানে, মা'র ঘরে, আমার ঘরের লাইট জ্বালানো হয়নি। কে জ্বালাবে? মা'র ঘরের জানালা খোলা, কাকার ঘর থেকে আসা আলোয় উঠানে দাঁড়িয়ে যতোটুকু দেখা যায়, বাবা লাশ হয়ে শুয়ে আছে। বাজপাখির ছোবল হতে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য মা-মুরগি যেভাবে সুরক্ষাব্যূহ তৈরি, মা ঠিক সেই ভঙ্গিতে বসে আছে বাবা'র সিঁথানে, ঝুঁকে আছে বাবার মুখের দিকে, পিঠ জানালার দিকে অর্থাৎ আলোর দিকে। উদ্দেশ্য বাবার চোখে-মুখে যেন কিছুতেই আলো না লাগে। কান পেতে শুনি - মা গুণগুণ করে গান গাইছে! মা-কী বাবাকে ঘুম পাড়ানির গান শোনাচ্ছে! বাবা কি ঘুমিয়ে পড়েছে? মা লজ্জা পাবে, তারপরেও জানালা পর্যন্ত এগিয়ে গেলাম। আমার ধারণা ভুল। মা গান গাইছে না, মা কাঁদছে! বাবা ঘুমায়নি, বাবা জেগে আছে। শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। জীবনে যা-কোনোদিন দেখিনি-মা'র পরণের শাড়ি কোমরে গুটিয়ে আছে, পরণে লালরঙের একটি ছায়া, শরীরে সবুজ রঙের ব্লাউজ, পিঠ উদোম, অথচ, জানালা খোলা! মাথায় আঁচল-ছাড়া মা-কে কেউ কোনোদিন দেখেনি। মা ক্রমেই ঝুঁকে আসছে বাবার মুখের দিকে। ছোট্ট বুক - এতো বড় মানুষের কী জায়গা হয়! তথাপি মা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাবাকে বুকের ভেতরে লুকিয়ে ফেলতে! ইউনূস নবি মাছের পেটে, জাকারিয়া নবি গাছের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। গাছের ভেতরে ঢুকেও প্রাণে বাঁচেনি, জামার আঁচল বেরিয়ে ছিল, এই দেখে কাফেরবাহিনী গাছটাই কেটে দুই ভাগ করে ফেলেছিল, নবিও কেটে দুই ভাগ হয়েছিল। মা কী এই ভয়ে পরণের শাড়ি গুটিয়ে ফেলেছে!

দিনে তো বটেই, এখন গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি বাইরে ব্যস্ত থাকে কাকা। কোনোদিন বাড়ি ফেরে না। কাকা তাহলে বিভীষণ হয়ে গেল! রাত গভীর হচ্ছে আর কাকার ঘরের আলো ক্রমশ দাপটশালী হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। মা'র ঘরের দরজা খুলে যাচ্ছে দেখে মধ্য-উঠোন ছেড়ে এককোণে দাঁড়াই, যেখানে হালকা অন্ধকার। বাবা বেরিয়ে যাচ্ছে, মা পেছনে। পুকুরঘাটের যেখানে বসে কাতল মাছটিকে খাবার দেই, গল্প করি দুই বন্ধু, বাবা সেখানেই গিয়ে বসে, মা পেছনে দাঁড়ায়। সর্বনাশ! বাবা কী সত্যিই মাছের পেটে ঢোকার চেষ্টা করবে! অথবা - দাদুর জন্য অপেক্ষা করছে। দাদু কবর থেকে উঠে আসবে।

মা কী পিরামিড হয়ে গেল! সকালে মা বিছানায় শুয়ে আছে পিরামিড হয়ে। বাবার মোবাইলটা হাতের মুঠোয়, চার্জ নেই, বন্ধ হয়ে গেছে।

সকালে এই খবর রোদের মতো ছড়িয়ে পড়ে, বাবা পালিয়েছে। নিশুতি রাতের নিকষ অন্ধকারে, কিন্তু সুবহে সাদিকের পূর্বে, যে সময়ে দাদু কবর থেকে উঠে আসে বলে প্রচার আছে, ঠিক সে সময়ে যে বাবা পালিয়েছে, এই ব্যাপারে দ্বিমত নেই। কিন্তু কীভাবে পালালো, আর, পালিয়ে কোথায় গেল, এই নিয়ে তর্ক-বিতর্কে দশগ্রাম উত্তাল। বেঁচে থাকতে যে মানুষ হারেনি, মাথা নোয়ানো তো দূরের কথা, ঘাড়টা পর্যন্ত বাঁকা করেনি, সিংহের মতো গর্জন করে গেছে, সে কী করে ছেলের দুর্দিনে নীরব থাকে! নির্ঘাত মৃত বাপ কবর থেকে উঠে এসে ছেলেকে নিয়ে গেছে। অথবা, পুকুরের কাতল মাছটির পেটের ভেতরে লুকিয়ে পড়তে পারে, ইউনূস নবির মতো। দৈতের মতো শরীর, তিনভাগের আড়াইভাগই পেট। এক দুই জন মানুষকে পেটের ভেতরে লুকিয়ে ফেলা মাছটির কাছে মামুলি ব্যাপার। এই বিতর্কও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এবং একজন স্বাক্ষী দাঁড়িযে যায় - গভীর রাতে বাবাকে পুকুর ঘাটে বসে থাকতে দেখেছে।

রাতের অন্ধকার তখনো শেষ হয়নি। গ্রাম ভেঙে পড়ে পুকুরে! ছোট-বড় বহু মাছ ধরা পড়ে। মানুষের উল্লাসে আর চিৎকারে পুকুরের পানিতে সমুদ্রের গর্জন ওঠে! বাড়ি-ঘর কাঁপছে। কিন্তু আশ্চর্য - কাতল মাছটা গেল কোথায়! কিছুতেই তার হদিস মেলে না। তখনি মনে পড়ে, জালু জাইল্যা'র কথা।

জালু জইল্যাকে ডাকতে গিয়েছিল যে তরুণ, পড়িমরি করে ছুটে এসে খবর দেয়ঃ জালু জাইল্যার বাড়িতে মানুষের সাড়াশব্দ নেই। ঘরের দরজা বন্ধ, তবে খোলা জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেছে: জালু জাইল্যার বিছানায় কাতল মাছটা ঘুমিয়ে আছে।

হতে পারে - অবিশ্বাসের কিছুই নেই। জালু জাইল্যা যাদু-টোনা জানে। মুহূর্তের জন্য বিতর্ক তৈরি হয়। বিতর্ক ক্রমশ বিরোধে রূপ নিচ্ছে এবং ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। কামরুখ-কামাক্ষা জয় করে আসা দশগ্রামের একমাত্র শুভ্রকেশী অশীতিপর প্রবীণ, যে-কিনা এখনো পুকুর ঘাটে আসেনি তাকে ডেকে আনতে লোক পাঠানো হলো। এই সময় সূর্যশক্তির ছেলেগুলো আসে। শুভ্রকেশী অশীতিপর প্রবীণের কথার সূত্র-ধরে উপস্থিতরা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়; জালু জাইল্যা আদতে মানুষই ছিল না, মাছই ছিল। কাতল মাছটি আদতে জালু জাইল্যার একই অঙ্গের দুই রূপ।

সূর্যশক্তির ছেলেগুলো দুই ভাগ হয়ে প্রবীণের দুই পাশে দাঁড়ানো। দুইজনের কাঁধে হাত রেখে প্রবীণ কথা বলেন: তোমাদের ভয় নেই, আমি আছি। জালু জাইল্যা কতো বড় যাদুকর আমি দেখবো! এই পুকুরে কেন, এই গ্রামেই আর তার ঠাঁই হবে না। এতোদিন আমি তোমাদের কিছুই বলিনি। কিন্তু আমি সবই জানতাম। খেলা কোনদিকে যাচ্ছে, জাল কোন দিকে দিকে পড়ছে, আমি জানতাম, আমি সবই জানতাম। আমাকে তোমরা চিনতে পারো নি। আমি কামরুখ-কামাক্ষা জয় করে এসেছি।

গ্রামবাসী এবার দ্বিগুণ উদ্যম আর শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাছ ধরায়; চিৎকার আর উল্লাসে জল-মাটি-আকাশ কাঁপে।

চিত্র: লেখায় ব্যবহৃত ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি।

পরিচিতি: অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশিষ্ট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক - 'গল্পকথা'। নিবাস: রাজশাহী, বাংলাদেশ।