শিল্পী জুবিন গার্গ স্মরণে

মেটামরফোসিস (মূল অসমিয়া থেকে অনূদিত)



জুবিন গার্গ


আমি যদি ঈশ্বর হতাম
আজকের মানুষ সৃষ্টি করা বন্ধ করে দিতাম
নতুন করে সৃষ্টি করতাম
আরও এক ধরনের মানুষের মতো
জন্তু... যে মেরে কেটে
খেয়ে বসে শুয়ে বেঁচে না থেকে
আরও অনেক কিছু
করতো...।

দিতাম একটা মস্তিষ্ক
যার কাজ চিন্তা করা শুদ্ধভাবে
যে মস্তিষ্কে দৌড়াবে অনুভূতি, আবেগ
উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দূরদর্শনের অনিবার্ণ
অশ্বমেধ ঘোরা।
যে মস্তিষ্কে আস্ফালিত
হবে পরিবর্তন, আবর্তন এবং নিয়ন্ত্রণের
নতুন নতুন সূত্র।

দিতাম আরও একজোড়া High-Power চোখ
যার মধ্য দিয়ে সব
সত্য বস্তু দৃশ্যমান
দিতাম দুটো Extra কান
শুনতে সব অস্ফুট শব্দ, শ্বাস-প্রশ্বাস
দীর্ঘশ্বাস, হতাশা এবং সময়ের
পদধ্বনি...

দিতাম একটা সুন্দর পুষ্ট নাক
যার কাজ শুধু শ্বাস নেওয়া নয়,
যে শুঁকতে পারে সমস্ত দুর্গন্ধ
মানুষের গায়ের, মনের, দেশের,
পরিবেশের...

দিতাম একটি মুখ এবং একটা কণ্ঠ,
যার শব্দ নামাতে পারে ব্রহ্ম,
ভেদ করতে পারে সকল মিথ্যা এবং অমানবিকতা,

দিতাম একজোড়া বাহু
এক হাজার ভীমের শক্তিতে ভরপুর
যে টেনে আনতে পারে সমস্ত ভুল,
সমস্ত দুষ্কৃতি।

দিতাম একখানি বুক,
আকাশের মতো উদার
সাগরের মতো বিশাল...
যেখানে থাকে না কপটতা
যে বুকটাতে আশ্রয় পাবে হাজার মানুষের
দুঃখ, সুখ এবং স্বপ্ন।

দিতাম একটা পেট
যে কেবল খেতে না শিখে
ত্যাগ করতেও শিখবে
অন্যের জন্য।

দিতাম একটা যৌনাঙ্গ যেখানে
কিলবিল করতে থাকবে সহস্র বুদ্ধের বীর্য।

দিতাম দুটো পা দৌড়োবার জন্য,
ভবিষ্যতের জন্য, সুন্দর বসন্তের অভিমুখে
যার সাথে ধাবমান হবে
অসংখ্য অযুত স্বপ্ন, উদিত সূর্যের
রঙিন আভার সাথে বিলীন হতে।

কিন্তু আমি ঈশ্বর হতে পারব না
আমার সময় নেই, আমি সীমাবদ্ধ
নিজের মধ্যে, জীবনের দীনতার মধ্যে
আমাকে কিছু মনে করোনা।

(কাব্যগ্রন্থ: 'শব্দ অনুভূতি'। মূল অসমিয়া থেকে বাংলা রূপান্তর: সন্দীপ দে)

চিত্র: অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।