শিল্পী জুবিন গার্গ স্মরণে

প্রকৃত জুবিন গার্গকে আমরা চিনতে পেরেছি কী?



কমলেশ গুপ্ত


নবপ্রজন্মের হৃৎস্পন্দন, নির্ভীক, মুক্তমনা, মানবদরদী, বিস্ময়কর প্রতিভার অনন্য শিল্পী জুবিন গার্গের অকাল এবং আকস্মিক মৃত্যু সংবাদ গোটা অসমকে কতটা শোকস্তব্ধ করেছিল সারা বিশ্ব তা প্রত্যক্ষ করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ - জুবিন অনুরাগী, অনুগামী, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, কৃষক, গৃহিনী, যুবক-যুবতী, এমনকী সন্তান কোলে নিয়ে যুবতী মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত, আক্ষরিক অর্থেই জনস্রোত বয়ে গেছে গুয়াহাটির রাজপথে প্রিয় শিল্পীকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য। কেউ সহজভাবে আজও মেনে নেয়নি এই মৃত্যুকে। ন্যায়বিচার চেয়ে আন্দোলনের ঝড় তুলেছে। সে ঝড় আছড়ে পড়ছে গণমাধ্যমে, রাজপথে, বিধানসভায়, জুবিনের সমাধিক্ষেত্রে।

এই জুবিন গার্গ মাত্র ৫২ বছর ১০ মাসের সংক্ষিপ্ত জীবনে গান গেয়েছেন প্রায় ৩২ বছর ১০ মাস। এই সময়ের মধ্যেই অসমিয়া, বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, তামিল, তেলুগু, কন্নর, ওড়িয়া সহ বিভিন্ন জনজাতির চল্লিশটি ভাষায় আটত্রিশ হাজারের বেশি গান, বেশ কয়েকটি সিনেমা পরিচালনা, অনেক কটা সিনেমা-থিয়েটারে সংগীত পরিচালনা, গান গাওয়া, গান লেখা, সুরারোপ করা, চিত্রনাট্য, অভিনয়, ফুটবল, জনকল্যাণমূলক কাজ সর্বোপরি গভীর অধ্যয়ন - সব মিলিয়ে বৃহদাকার সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োজিত থেকেও যিনি নিজেকে 'সোশ্যাল লেফটিস্ট', 'কমিউনিস্ট' বলে ঘোষণা করেন তাঁকে সেলাম না জানিয়ে পারা যায়! জনসমক্ষে যিনি ঘোষণা করেন, "আমার কোনো জাত নেই, আমার কোনো ধর্ম নেই, আমার কোনো ভগবান নেই, আমি মুক্ত" - তাকে তো সেলাম জানাতেই হয়। দেশের চারদিকে যখন ধর্মান্ধতার বাতাবরণ, জাতি, ধর্ম, ভাষা নিয়ে হানাহানি, তার মাঝে দাঁড়িয়ে ক'জন পারে এমন দুঃসাহসিক মন্তব্য করতে! একি তাঁর খেয়ালি মন্তব্য? না। সুচিন্তিত মন্তব্য। হিন্দুত্ববাদীরা 'সামাজিক বামপন্থী' এই মন্তব্যকে না ভেবে করা 'হালকা মন্তব্য' বলে চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারেনি।

জুবিন ছিলেন অধ্যয়নশীল। কবি, লেখক পিতা মোহিনী মোহন বরঠাকুরের ব্যক্তিগত লাইব্রেরির কয়েক হাজার বইয়ের মধ্যেই জুবিনের বেড়ে ওঠা। দেশ-বিদেশের রাজনীতি, ডান-বাম-মধ্যপন্থা, পুঁজিবাদ-সমাজবাদ ইত্যাদি ভালোভাবেই জানতেন। তাঁর প্রিয় যে তিন ব্যক্তির নাম তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন - চার্লি চ্যাপলিন, চে গুয়েভারা এবং বিষ্ণু প্রসাদ রাভা। এঁরা তিনজনই ছিলেন বামপন্থী এবং কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী। এদের আদর্শে অনুপ্রাণিত জুবিন নিজেকে বামপন্থী বা কমিউনিস্ট বলছেন এমন একটা সময়ে যখন শাসকদের কাছে 'বামপন্থী' বা 'কমিউনিস্ট' শব্দগুলো দেশদ্রোহীর সমতুল্য।

'বামপন্থী' শব্দটি ফরাসি বিপ্লবের সময়ের। ১৭৮৯ সালে বিপ্লবের সমর্থকরা ফ্রান্সের সংসদে অধ্যক্ষের বাঁদিকে বসতেন। তাঁরা রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রগতিশীল সমাজ গড়ে তোলার পক্ষে ছিলেন, আর যাঁরা রক্ষণশীল, রাজতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন তাঁরা বসতেন অধ্যক্ষের ডানদিকে। সেখান থেকেই বামপন্থী আর দক্ষিণপন্থী বিভাজনের সৃষ্টি। দক্ষিণপন্থীরা ছিল রক্ষণশীল, পরিবর্তন বিরোধী স্থিতাবস্থার সমর্থক,আর বামপন্থীরা উদার, পরিবর্তনশীল এবং স্থিতাবস্থার বিরোধী। দেখা যায় মার্কসবাদের উদ্ভবের অনেক আগেই বামপন্থার উদ্ভব হয়েছিল। মার্কস-এঙ্গেলস যেহেতু পুরোনো শোষণ ভিত্তিক পুঁজিবাদকে সরিয়ে সমাজবাদী সমাজ গড়ে তোলার পক্ষে কাজ করেন, তাই মার্কসবাদীরাও বামপন্থী। যদিও সব বামপন্থীরা মার্কসবাদী নাও হতে পারেন। ফরাসি বিপ্লবের সময়ে মার্কসের জন্মই হয়নি। তাই মার্কসবাদেরও আবির্ভাব হয়নি। রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক বিপ্লবের বিজয়ের পর দেশে দেশে কমিউনিস্টরা সবচাইতে বেশি প্রগতিশীল এবং সমাজের রূপান্তরকারী শক্তি হয়ে ওঠে। তাই 'কমিউনিস্ট' এবং 'বামপন্থী' শব্দ দুটি প্রায় সমার্থক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ বামপন্থী মানেই কমিউনিস্ট বা মার্কসবাদী - এমন একটি ধারণা সৃষ্টি হয়। জুবিন গার্গ প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু সন্ত্রাসবাদ,জাত-পাত, মানুষ ও সমাজের পরিপন্থী নীতি ও পদক্ষেপ, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর স্থিতি ছিল স্পষ্ট এবং বলিষ্ঠ। সর্বোপরি ছিলেন স্থিতাবস্থা বিরোধী প্রগতিশীল শিল্পী। এই সবগুলোই হচ্ছে 'সামাজিক বামপন্থা'র বৈশিষ্ট্য। অধ্যয়নশীল জুবিন বামপন্থী চিন্তা, গতিবিধি ভালোভাবে জেনেই নিজেকে 'সামাজিক বামপন্থী' বলে পরিচয় দিতেন।

(দুই)

জুবিন গার্গ ছিলেন সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ শিল্পী। ঐতিহাসিক পটভূমি, একটি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংকট, সন্ত্রাস এবং চ্যালেঞ্জ, নব্য সাম্রাজ্যবাদের সাথে সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বোঝাপড়া প্রভৃতি দিকগুলোর বিস্তৃত পর্যালোচনা ছাড়া জুবিনের সৃষ্টি এবং অবদানের আলোচনা করা যায় না। নব্বইয়ের দশকে দেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে ভারতে উদারবাদী অর্থনীতি চালু হলো। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের জন্য বিদেশি পুঁজির দরজা খুলে গেল, তেমনি সরকারি ক্ষেত্রগুলো পর্যায়ক্রমে ব্যক্তিগত মালিকানার হাতে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। এই মুক্তবাজার অর্থনীতিতে নতুন ছন্দ এনে দিলো তথ্য প্রযুক্তির অভুতপূর্ব উন্নতি। বিনোদনের জগতে এলো তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব। মুক্ত বাজারের হাত ধরে উপলব্ধ হতে থাকল বিশ্বমানের সুযোগ সুবিধা। যুব প্রজন্মের কাছে উপস্থিত হলো পূর্বে না দেখা এক পরিবেশ, এক তীব্র প্রতিযোগিতামুখী পরিবেশ। কঠোর শ্রমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা কর অথবা দিগন্তে হারিয়ে যাও। নতুন সুযোগ যেমন এলো তেমনি চ্যালেঞ্জ এলো সামাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতার ক্ষেত্রে।

অসমের মতো পিছিয়ে পড়া রাজ্যে বিশ্বায়নের মুখোমুখি হয়ে ভাষা সংস্কৃতির বিকাশের ধারা কী হবে, যুগ যুগ ধরে বসবাস করা জাতি জনগোষ্ঠীর বিকাশের গতিপথ কী হবে তার উত্তর রাজ্যের মানুষের কাছে ছিল না। কিন্তু প্রশ্নগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করে তুলছিল। একাংশ সুযোগ গ্রহণ করতে পারলেও অপর এক বৃহৎ অংশ চরম হতাশায় ডুবে পথ হারালো। বেছে নিল সন্ত্রাসবাদের পথ। সমাজে হত্যা, লুণ্ঠন, অরাজকতার চরম অবস্থা চলতে থাকল।

এমন একটা প্রেক্ষিতে অসমের মতো প্রান্তিক রাজ্যে, ১৯৯২ সালে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে প্রায় ৩৩ বছর ধরে অসমের সংস্কৃতির জগৎটাকে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্বে দিয়েছেন জুবিন। প্রায় একক প্রচেষ্টায় অসমের সংস্কৃতি এবং বিনোদনের জগৎটাকে বহনক্ষম উদ্যোগ রূপে গড়ে তুলেছেন। এ'কাজে জুবিন সবক'টা সুযোগই গ্রহণ করেছেন। গানের চিরায়ত মঞ্চ ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার, ভিসিডি, সিনেমা প্রভৃতি সম্ভাব্য সকল মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

অসম আন্দোলনের বিভীষিকা জুবিন ভালোভাবে দেখেন নি, কারণ তখন সে অনেকটাই ছোটো। কিন্ত নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিভীষিকা জুবিন দেখেছেন। জুবিন অনুভব করেছিলন যে, শব্দ মানুষের সামাজিক শ্রমের অনুপম সৃষ্টি অর্থাৎ কথা বলার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। সত্য যেন কারারুদ্ধ হয়েছে। জুবিন সইতে না পেরে মুক্তকণ্ঠে গাইলেন -
"শব্দ যদি প্রেরণা হয়/ শব্দ যদি শক্তি হয়/ শব্দ আজি কিয় শংকিত/ শব্দ যদি ব্রক্ষ্মবৃক্ষ/ শব্দ যদি চির শুদ্ধ/ শব্দ আজি কিয় সংকুচিত/ শব্দ আজি বাক্‌রুদ্ধ/ শব্দ আজি নিজেই নিজেত আবদ্ধ।"

'সোণেরে সঁজোয়া পঁজা' গানটিতে জুবিন সেই সময়ের সন্ত্রাস জর্জর অসমের গ্রাম্য জীবনের ছবি এঁকেছেন - "বুঢ়ী আইর জুহালতে চকুলো শুকায়/ দেউতারো এক দশা পদুলিলৈ চায়/ বহুদিন হল সরু বোপার মুখ দেখা নাই/ হালর গরু গোহালিতে পথারো শুকায়/ রাত্রি হলেই গুলির শব্দই রজনজনায়।"

(বৃদ্ধা মায়ের অশ্রু রান্নাঘরে শুকোয়/ পথ চেয়ে বাবারও একই দশা/ হালের গোরু গোয়ালঘরে বাঁধা আর খেতের জমি যায় শুকিয়ে/ রাত হলে শুধুই গুলির শব্দের ঝঙ্কার।)

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জুবিন আরো বললেন - "মৃত্যু এতিয়া সহজ/ মৃত্যু এতিয়া উছব" (মৃত্যু এখন সহজ/ মৃত্যু এখন উৎসব)।

জুবিন সোনার অসম গড়তে শান্তি চাইলেন, শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ থেকে মুক্তি চাইলেন - "শান্তি দিয়া/ মুক্তি দিয়া/ সোণর অসম গঢ়িবলৈ।" (শান্তি দাও/ মুক্তি দাও/ সোনার অসম গড়তে।)

শুধু গান লেখা বা গাওয়া নয়, রাজপথে নেমে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন বারে বার। এখানে দুটো ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে যেখানে এই লেখকও প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন।

২০০৪ সালের ১৫ আগস্ট ধেমাজি কলেজ প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে আলফার ঘটানো ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে ১৮ জন শিশু সহ অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়। অসমের ইতিহাসে এটি একটি মর্মস্পর্শী ও দুঃখজনক ঘটনা। সেই ঘটনার পর শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদী সমাবেশ করলেন গুয়াহাটির লতাশীল মাঠে। শিল্পীরা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে, ধিক্কার জানিয়ে, ছবি আঁকলেন, কবিতা আবৃত্তি করলেন, গান গাইলেন, বক্তৃতা দিলেন, মৃত শিশুদের ছবিতে ফুল মালা দিয়ে আলফার এই কুকর্মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেলন। সেই সমাবেশে সম্পূর্ণ সময় জুবিন শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, গানে-কথায় আলফার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে কসুর করেননি। অনেক তাবড়ো তাবড়ো শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী এই অনুষ্ঠান থেকে পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু প্রথম সারিতে ছিলেন জুবিন গার্গ। তাঁর মৃত্যুর পর মুক্তি পাওয়া তাঁর শেষ সিনেমা 'রৈ রৈ বিনালে'-তেও ধেমাজি বিস্ফোরণের চিত্রায়ণ পরিলক্ষিত হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি কতটা সংবেদনশীল ছিলেন এর থেকে স্পষ্ট অনুমান করা যায়।

৩০ অক্টোবর, ২০০৮ সাল। সন্ত্রাস জর্জর অসমের একটি ভয়ংকর দিন। গুয়াহাটির গণেশগুড়ি, কাছারি, পানবাজার, মালিগাঁও সহ বরপেটা, বঙাইগাঁও, কোকরাঝার প্রভৃতি পশ্চিম অসমের কয়েকটি স্থানে একইদিনে একই সময়ে ধারাবাহিকভাবে ১৮টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন 'ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যাণ্ড' (এনডিএফবি)। রঞ্জন দৈমারী ছিল এই ঘটনার মূল মাথা। বিস্ফোরণে প্রায় ৬১ জনের মৃত্যু হয়। ৪৭০ জনের বেশি মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়। এর বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাতে এক প্রতিবাদী কর্মসূচি গ্রহণ করে 'ভারতীয় গণনাট্য সংঘ'-র গুয়াহাটি শাখা। সকল শিল্পী-সাহিত্যিককে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আবেদন জানানো হয়। তখন জুবিন ছিলেন মুম্বাইয়ে। খবর পেয়ে গুয়াহাটি উড়ে আসেন এবং সারাদিন ট্রাকে করে গণেশগুড়ি থেকে জালুকবাড়ি - গুয়াহাটির রাজপথের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকেন এবং অংশগ্রহণ করেন। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার সাহস সে সময় অনেক শিল্পীই দেখাতে পারেন নি। কিন্তু নির্ভীক জুবিন ছিলেন প্রথম সারিতে।

জীবনকালে জুবিনকে হয়তো আমরা সঠিকভাবে চিনে উঠতে পারেনি। সামাজিক জুবিন, সমাজবাদী জুবিনকে আমরা চিনতে ভুল করেছি। আলফার বিরুদ্ধে হাতে গিটার নিয়ে রাজপথে নামা জুবিনকে হয়তো আমরা অগ্রাহ্য করেছি। জুবিনের গান, তাঁর জীবনকালের কাজকর্ম, এই প্রতিবাদী এবং সমাজ প্রগতির পক্ষের জুবিন গার্গকেই প্রতিফলিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে হিন্দু-মুসলমান, জাতপাত ভুলে অসমের মানুষ একই মঞ্চে সমবেত হয়েছিলেন, বলা ভালো জুবিনের মৃত্যু সবাইকে জোটবদ্ধ করেছে। এই জুবিনকে কীভাবে সজীব রাখা যাবে তার ওপর নির্ভর করবে অসমের ভবিষ্যৎ।

চিত্র: অন্তর্জাল থেকে প্রাপ্ত।

পরিচিতি: নিবন্ধকার। অসমিয়াতেও ‌লেখেন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী। নিবাস: গুয়াহাটি, অসম।