কবিতা

হারমোনির টিকিট



অয়ন মুখোপাধ্যায়


সলিল যখন বম্বে যাচ্ছেন,
পিছন থেকে এক কমরেড হুঁকো নামিয়ে চেঁচাল –
"কমরেড, পালকির গানের শেষে এত ক্লান্তি কেন?"
পালকি-বাহক কপাল মুছে বলল –
"কমরেড, তুমি একদিন টেনে দেখো –
তারপর বলো, গান কতটা বিপ্লবী।"
হেমাঙ্গ বিশ্বাস হঠাৎ হারমোনিয়াম ছেড়ে ফুঁসে উঠলেন –
"গণসংগীতে বিদেশি নোট কেন থাকবে?"
সলিল মুচকি হেসে বললেন –
"তাহলে নিউটনকেও ফেরত পাঠাও,
কারণ সে তো ইংল্যান্ডে জন্মেছিল!"
লতা বাংলায় তোতলাচ্ছে –
"সুপ্রভাত... আমি আজ ভাত খেয়েছি!"
দ্বিজেনবাবু গলা মেলালেন,
আর বম্বে ইউথ কয়্যার একসাথে গাইতে লাগল –
"এই দুনিয়ায় ভাই সবই হয়!"
পাশের এক মাতালও কাঁপা কাঁপা গলায় কোরাস ধরল।
এদিকে বেকার যুবকরা এমার্জেন্সির জাল ছিঁড়ে বলল –
"সলিলদা, প্লিজ একটা কাজ জোগাড় করে দিন।"
সলিল পকেট থেকে বাঁশি বের করে শিস দিলেন –
"চাকরি নেই, কিন্তু গান তো আছে,
তাহলেই বা কম কী!"
শেষে যখন সলিল
পৃথিবীর গাড়িটাকে থামাতে চাইলেন,
ড্রাইভার হর্ন বাজিয়ে বলল –
"স্যার, এখানে নামা নিষেধ।
এ গাড়ির সব আসনেই
আপনার গানের টিকিট কাটা আছে।

শিল্পী: মণীষ দেব