কবিতা

বিদ্যাদেবীর পুজোর দিনে



ড: মুকুলকান্তি মান্না


বিদ্যাদেবীর পুজোর দিনে হচ্ছে কীসব কাণ্ড,
মায়ের পায়ে নিবেদিত জ্ঞানের যত ভাণ্ড!
ফ্ল্যাটের পুজোয় সবাই জড়ো, আয়োজন সব সারা,
গোল বাঁধলো যখন কোনো বামুনের নেই সাড়া।

"আরে ভাই ভক্তি থাকলে মনে,
তোমরা পুজো সারতে এতক্ষণে।
ভক্তি বুকে টলোমলো
ফুল হাতে নাও, মন্ত্র বলো"।

তর্ক জুড়ে সবাই বলে, "আরে মশাই থামুন!
এত বেলায় হায়রে ভাই কোথায় পাবো বামুন?
বাচ্চারা সব শুকনো মুখে উপোস করে বসে,
এখন কোথাকার কে উনি এলেন জ্ঞান দিচ্ছেন কোশে"।

মায়ের পাশে জায়গাজোড়া ফল মিষ্টি বইতে -
খিদের জ্বালা বড়ো জ্বালা, আর না পেরে সইতে
ছোট্ট মিঠু একটা মিষ্টি হঠাৎ ফেললো মুখে তুলে
তাই দেখে তার মা তার কানটা জোরেই দিল মুলে।
হাত-পা ছুঁড়ে মিঠু এবার জুড়লো বেজায় কান্না।
বিদ্যাদেবী তাকিয়ে ছিলেন, বললেন এবার "আর না"।

ফুলের গন্ধ উঠল মেতে, উঠল বেজে বীণা
পুঁথির বিদ্যা এলোমেলো, ঘুমিয়ে আছে কিনা?
মা বললেন, "তোদের মধ্যে পড়েশুনে সবচেয়ে যে জ্ঞানী
আমার পূজা করবে সেই-ই, সেই যে সবার মানী"।

"আরে ওই তো আছেন হেডমাস্টার ওঁনাকেই নয় ধরো,
অনেক ডিগ্রি অনেক বিদ্যে, সময় নষ্ট কেন করো"?
"আরে ভাই কর কী কর কী, বামুন আমি নই, নেইও আমার পৈতে"!
মা বললেন, "হয়েছে অনেক, খিদের জ্বালা আর পারিনে সইতে"।

পুজো শেষে বামুন এলেন, "এসব কী অনাসৃষ্টি"?
মা বললেন, "বুঝবো সে সব, এখন সবাই খাক ফলমূল আর মিষ্টি"।