গল্প

অ-এ অজগর, আ-এ আকাশ



পিয়ালী বসু ঘোষ


শিলং পিক যেন মেঘেদের এক গোপন আস্তানা, যেখানে পাহাড় আর আকাশ এক নিবিড় আলিঙ্গনে মিশে থাকে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় দাঁড়িয়ে যখন কেউ এই শিখরে পা রাখে, মনে হয় সে পৃথিবীর কোনো এক অলৌকিক ছাদে এসে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে কেবল পাইন আর ফার গাছের সারি, যাদের শাখাগুলোতে সারাক্ষণ কুয়াশা খেলা করে। নিচে তাকালে দেখা যায় খেলনার মতো সাজানো শিলং শহর, যার লাল-সবুজ ছাদগুলো রোদে ঝিলমিল করে ওঠে। দূরে সুউচ্চ জলপ্রপাতগুলো রূপোলি সুতোর মতো পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে। বাতাসের শব্দে এখানে কোনো কোলাহল নেই, আছে কেবল এক আদিম নীরবতা। যখন বিকেলের নরম আলো পাইন বনের ফাঁক দিয়ে চুইয়ে পড়ে, তখন শিলং পিক হয়ে ওঠে এক মায়াবী ক্যানভাস। সেখানে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস নিলে মনে হয়, ফুসফুস ভরে শুধু অক্সিজেন নয়, বরং পাহাড়ের নীলচে বিষণ্ণতাও শরীরে প্রবেশ করছে।

এই শিলং শহরের নামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের হোস্টেলে থাকে অয়ন। ক্লাস ফাইভ। ওর মা নেই। বাবা মাসে একদিন দেখা করতে আসেন। এবার এসেছেন মে মাসের মাঝামাঝি। অয়ন লক্ষ করল, বাবা একটা পাঞ্জাবি পরে এসেছেন যার পকেটের কাছে রক্তরাঙা একটা বর্ণমালা – 'অ'।

অয়ন জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কী লোগো?"

বাবা হাসলেন, একটু বিষণ্ণ শোনাল সেই হাসি। "এটা লোগো নয় রে, এটা একটা লড়াইয়ের ইতিহাস। আজ ১৯শে মে। আমাদের সিলেটি দাদু বলতেন, এই দিনে শিলচরে এগারোজন মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন শুধু 'অ' বলার জন্য।" অয়ন অবাক। স্কুলে সে শিখেছে ল্যাঙ্গুয়েজ মানে স্রেফ যোগাযোগের মাধ্যম। তার জন্য আবার জান দিতে হয়? সে কাঁচুমাচু হয়ে বলল, "বাট বাবা, হোয়াই? ইংলিশ তো সব জায়গায় চলে।"

বাবা এবার অয়নের হাতটা ধরে পাশে বসালেন। "শোন অয়ন, জল আর ওয়াটার মানে এক হতে পারে, কিন্তু তেষ্টা পেলে মায়ের হাতের এক গ্লাস 'জল' যে তৃপ্তি দেয়, 'ওয়াটার' শব্দটা ঠিক সেই মাটির গন্ধটা পায় না। ভাষা মানে শুধু কথা বলা নয়, ভাষা মানে শিকড়। তুই যে 'মা' ডাকিস, সেই ডাকটার মধ্যে তোর জন্মলগ্নের শব্দ লেগে আছে। বড়ো হলে জানবি ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেঁপেছিল রাষ্ট্রভাষার দাবিতে, তেমনি ১৯৬১-র এই দিনে শিলচর স্টেশনে রক্ত ঝরেছিল বাংলাকে সরকারি ভাষা করার দাবিতে।"

"কেন বাবা?" প্রশ্ন করে ছোটো অয়ন।

"কেননা তাঁরা জানতেন, নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলা মানে নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা", বাবা বললেন।

ছোট্ট অয়ন অতোশত সবটুকু বোঝেনি, কেবল সেদিন রাতে হোস্টেলের ঘরে ফিরে জানলার বাইরে তাকিয়েছিল। মে মাসের আকাশটা ঝকঝকে। অয়ন তার খাতার শেষ পাতায় পেন্সিল দিয়ে বড়ো করে একটা 'অ' লিখল। তার মনে হলো, এই 'অ' মানে শুধু বর্ণমালার প্রথম অক্ষর নয়, এই 'অ' মানে এক বিশাল আকাশ, যা তাকে ডানা মেলতে শেখাবে নিজের মতো করে।

এরপর বেশ কয়েক বছর কেটেছে। একটু বড়ো হয়েছে অয়ন। এখন ক্লাস নাইন তার। ওদের স্কুলের বারান্দা থেকে শিলংয়ের পাহাড়গুলো দেখা যায়। আর দেখা যায় বরাক নদী। শিলংয়ের সেই পাহাড়ি উচ্চতা থেকে নেমে এসে সমতলে যেখানে বরাক নদী তার সজল আঁচল বিছিয়ে দেয়, সেখানেই শুরু হয় বরাক উপত্যকা। বরাক নদী এখানে কেবল এক জলাধার নয়, সে এ অঞ্চলের প্রাণভোমরা। তার ধীরস্থির চলন আর বাঁকে বাঁকে জমে থাকা চরের মধ্যে এক অদ্ভুত করুণ সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে। সেখানে দাঁড়িয়েই অয়ন খানিকটা আনমনা হয়ে আছে।

আজ বাবা আসবেন। বাবার কথা ভাবলেই এসব মনে হয় অয়নের। ভাবালু হয়ে ওঠে ও। বাবা বলেন, শীতের সকালে যখন বরাকের বুকের ওপর কুয়াশার চাদর বিছানো থাকে, তখন নৌকা নিয়ে মাঝনদীতে গেলে মনে হয় সময় থমকে দাঁড়িয়েছে। দু'পাশে দিগন্তবিস্তৃত ধানখেত আর মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ছোটো ছোটো টিলা। বর্ষায় আবার এই রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন, তখন বরাক রুদ্রমূর্তি ধারণ করে, তার দু'কুল ছাপানো জলরাশি যেন কোনো বিবাগি বাউলের গান।

স্কুলের চওড়া করিডোর দিয়ে হাঁটছিল সে। ওর সঙ্গে ওর বন্ধু বিভান। ওদের হাতে যার যার প্রজেক্ট ফাইল – অয়নের বিষয়: 'Global Languages and Communication'। অয়ন মেধাবী ছাত্র, তার বাচনভঙ্গি পরিষ্কার, ইংরেজিতে কথা বলার সময় তার উচ্চারণে একটা সাহেবি টান থাকে যা স্কুলের টিচারদের খুব পছন্দের।

কিন্তু আজ কিছুদিন বিভান লক্ষ করেছে অয়ন স্কুল থেকে ফেরার পথে গাড়িতে বসে বাংলা বই পড়ে। জিজ্ঞাসা করলে বলে, জানিস বাংলা বই পড়লেই বাবার কথা মনে পড়ে। বাবাকে মিস করি তো তাই, বলে লজ্জা মেশানো মুচকি হাসি হাসে।

হোস্টেলে ছুটির সময় হয়েছে। সকলেই বাড়ি যাবে। সেইজন্যই অনির্বাণবাবু এসেছেন ছেলের হোস্টেলে, ছেলেকে নিয়ে যেতে। গাড়িতে বসে অয়ন দেখছে, বাবার হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি। অনির্বাণবাবু পেশায় সাংবাদিক, কিন্তু আজ তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি যেন কোনো স্মৃতির গভীরে ডুব দিয়েছেন। অয়ন জিজ্ঞেস করল, "বাবা, আজ তুমি কি কোনো স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্টে যাচ্ছ?"

বাবা জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে বললেন, "অ্যাসাইনমেন্ট নয় রে, আজ একটা ঋণের দিন। তুই তো স্কুলে গ্লোবাল ল্যাঙ্গুয়েজ শিখছিস, কিন্তু জানিস কি, এই বাংলা ভাষার জন্য একদিন কত মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল? আজ সেই উনিশে মে।"

অয়ন একটু হেসে বলল, "বাবা, দ্যাট ওয়াজ হিস্ট্রি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা – ওটা তো সবাই জানে। তুমি এই এক বিষয়ে আটকে আছো আজীবন। বাট হোয়াই? এখন তো ল্যাঙ্গুয়েজ মানে স্রেফ ক্যারিয়ার।"

অনির্বাণবাবু গাড়িটা একপাশে থামালেন। অয়নের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন, "শুধু ৫২ নয় অয়ন, আমি ১৯৬১ সালের ১৯শে মে-র কথা বলছি। শিলচর স্টেশনের কথা বলছি। তুই কি জানিস, সেদিন কেন এগারোজন তরুণ-তরুণী পুলিশের গুলিতে বুক পেতে দিয়েছিল? কারণ তাঁদের বলা হয়েছিল, তাঁদের মাতৃভাষা 'বাংলা' সরকারি ভাষা হতে পারবে না। তাঁদের ওপর জোর করে অন্য ভাষা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তাঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, কারণ তাঁরা জানতেন – ভাষা কেড়ে নেওয়া মানে একটা মানুষের সত্তা কেড়ে নেওয়া।

অবশ্য তুমি এসব কী করেই বা বুঝবে! পড়ো তো সব ইংরেজি। মাতৃভাষা নিয়ে কোনো মমতা আছে নাকি তোমাদের?"

বাবা এক্সাইটেড হয়ে উঠলে অয়ন তাকে শান্ত করে, সে জানে বাবার কাছে এটি একটি সেনসিটিভ ইস্যু।

বাড়ি ফিরে অয়ন তার প্রজেক্ট ফাইলটা টেবিলের ওপর রাখল। কিন্তু তার মাথায় বাবার কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। সে তার ল্যাপটপ খুলল। কিন্তু কিবোর্ডে হাত দেওয়ার আগে তার মনে পড়ল দাদুর কথা। তার দাদু ছিলেন বরাক উপত্যকার মানুষ। দাদু প্রায়ই বলতেন, "বর্ণমালাগুলো শুধু কালির দাগ নয়, ওগুলো এক একটা প্রাণের স্পন্দন।" অয়ন ভাবে দাদু থেকে বাবা সকলেই বাংলা ভাষার জন্য এতো সেনসিটিভ, কিন্তু সে কেন কিছুই ফিল করে না আলাদা করে এ বিষয়ে?

অয়ন ডায়েরিটা খুলে পড়তে শুরু করল। সেখানে লেখা ছিল কমলা ভট্টাচার্যের কথা – সেই ষোলো বছরের মেয়েটি, যে ১৯৬১-র ১৯শে মে শিলচর স্টেশনে ভাষার জন্য শহিদ হয়েছিল। সে চমকে উঠল। কমলা তো তার থেকে মাত্র এক বছরের বড়ো ছিল! সে কল্পনা করার চেষ্টা করল – স্রেফ নিজের ভাষায় কথা বলার অধিকার রক্ষার জন্য একটা যোলো বছরের মেয়ে কীভাবে রাইফেলের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিল!

হঠাৎ ওর মনে হলো, সে যে রোজ আয়নায় নিজেকে দেখে, সেই প্রতিচ্ছবিটার ভেতরে কোথাও একটা বড়ো ফাঁক থেকে গেছে। সে গ্রিক, ল্যাটিন বা ফ্রেঞ্চ শব্দের ব্যুৎপত্তি জানে, কিন্তু নিজের ভাষার বর্ণমালা যে রক্তের অক্ষরে লেখা, সেটা সে কখনও অনুভব করেনি।

সেদিন রাতে অয়ন তার প্রজেক্টের বিষয় বদলে ফেলল। সে লিখতে শুরু করল – "My Mother Tongue: A Journey from Dhaka to Silchar"। সে লিখল কীভাবে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকদের রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। কীভাবে সেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯৬১-র আসামের বরাক উপত্যকায়। সে অনুভব করল, এই দুই তারিখ আসলে আলাদা নয় – এরা একই লড়াইয়ের দুই পরিচ্ছেদ।

অয়ন লিখল, "আমরা যখন বাংলা বলি, তখন আমরা শুধু কথা বলি না, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের লড়াইকে সম্মান জানাই। মাতৃভাষা হলো সেই নাড়ির টান, যা পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই না কেন, আমাদের শিকড়ের সাথে বেঁধে রাখে। ২১শে ফেব্রুয়ারি আর ১৯শে মে কোনো ক্যালেন্ডারের সাধারণ ছুটির দিন নয়, এগুলো হলো আমাদের অস্তিত্বের বাতিঘর।"

ছুটির সময়টাতে সে বাবার সাথে ঘুরে বেড়ালো বরাক উপত্যকার আনাচে-কানাচে। ছুঁয়ে দেখলো সেই স্মৃতির বিপ্লবকে। স্পর্শ নিলো সেই মাটির – যে মাটি লাল হয়ে আছে তার ভাষার গর্বে। সে অনুভব করলো বরাক উপত্যকা মানে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, এ হলো সেই সব সহজিয়া মানুষের জীবনসংগ্রামের এক সজীব উপাখ্যান। এখানকার বাতাসে মিশে থাকে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ। বড়ো পবিত্র মনে হয় এই সবটুকু ওর। জন্মের পরে রক্তমাংসের মা'কে সে ছুঁয়ে দেখেনি কখনো। এই মাটি স্পর্শ করলেই ওর মনে হয় এই উপত্যকাই ওর মা।

ছুটি শেষে স্কুলে যখন অয়ন তার প্রেজেন্টেশন দিল, গোটা হলঘর নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার সাহেবি ইংরেজি টানের আড়ালে বাংলায় দেওয়া স্পিচে সেদিন একটা অদ্ভুত আবেগ ছিল। সে বলছিল, "১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছিল সেই অগ্নিগর্ভ দিন, যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শাসকরা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ভুলে গিযেছিল, মানুষের মুখের ভাষাকে বুলেটের জোরে স্তব্ধ করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যখন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করল, তখন রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মম গুলি স্তব্ধ করে দিয়েছিল সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারদের। কিন্তু সেই রক্ত থেকেই জন্ম নিল এক অবিনাশী চেতনা। এই দিনটি আজ 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃত। এটি প্রমাণ করে যে, ভাষা কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, এটি বিশ্বজনীন এক মানবিক অধিকার।

ঢাকার ঘটনার মাত্র ন'বছর পর, ১৯৬১ সালে ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকায় পুনরায় বেজে ওঠে মাতৃভাষার ঘণ্টা। আসাম সরকার ঘোষণা করেছিল যে, অসমিয়া হবে রাজ্যের একমাত্র সরকারি ভাষা। কিন্তু বরাকের বিপুল সংখ্যক বাঙালি জনগোষ্ঠী এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। ১৯৬১ সালের ১৯শে মে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহীরা যখন শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল, তখন পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহিদ হন এগারোজন বীর সন্তান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কমলা ভট্টাচার্য – বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ভাষাশহিদ। ১৯শে মে আমাদের শেখায় যে, মাতৃভাষার লড়াই কোনো সাম্প্রদায়িক বা সংকীর্ণ লড়াই নয়, এটি নিজের অস্তিত্ব রক্ষার এক মৌলিক সংগ্রাম।"

সে যখন শেষ করল তখন তার টিচারদের চোখেও জল।

স্টেজ থেকে নামতেই অনির্বাণবাবু জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে।

– "কিরে কেমন লাগছে আজ তোর?"

– "গর্ব হচ্ছে বাবা, নিজের মাতৃভাষায় আজ আমি নিজের ভাষার কথা বলতে পেরেছি।"

অনির্বাণবাবু কিছু বললেন না। শুধু হাত দিয়ে ছেলের কপালে ঝুঁকে থাকা চুলগুলো গুছিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, "চল, আজ আমরা এই আনন্দে সিঁদল শুঁটকির ভর্তা খাবো দুজনে।"

অয়ন বলল, "ওহ নো। বাবা। আই ডোন্ট লাইক দিস”।

অনির্বাণবাবু চোখ পাকালেন।

অয়ন জিভ কাটলো, "ভুল হয়ে গেছে বাবা, আজ থেকে আমি শুধু ইংরেজি বলব না, চেষ্টা করব বেশিরভাগ মৌখিক কথা বাংলায় বলার। আর শুধু বলব না অনুভবও করব। কারণ এখন আমি জানি 'অ' মানে শুধু অজগর নয়, 'অ'-এর পাশে একটি লাঠি দিলেই তৈরি হয় 'আ'। আমার আকাশ। আমার আত্মপরিচয়।"

পরিচিতি: কবি ও গদ্যকার। নিবাস: কলকাতা।