প্রবন্ধ ও নিবন্ধ

আমি বাংলায় গান গাই



পল্লব সেনগুপ্ত


আমাদের প্রাচীন সাহিত্যে 'রাক্ষসিবেলা' বলে একটা শব্দ দেখা যায়, যার অর্থ হল 'গভীর দুঃসময়'। এদেশে এখন সেই 'রাক্ষসিবেলা' তার সমস্ত ভয়ংকরতা নিয়ে যেন হাঁ করে গিলতে চাইছে সকলকে। আপনারাই একটু ভেবে বলুন তো, যে-সময়ে নিজের দেশে দাঁড়িয়ে নিজের আপন ভাষা, মায়ের শেখানো ভাষায় কথা বললে কেউ খুন পর্যন্ত হতে পারে, হচ্ছেও – সেটার চেয়ে ভয়াল দিন-ক্ষণ আর খুঁজে পাওয়া যায় কি? তো, সেই ভয়ের মুহূর্তগুলোকে 'রাক্ষসিবেলা' ছাড়া আর কী বলতে পারি?... তাই বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষেও কিছু বলতে কিংবা লিখতে গেলে, পূর্বসূরিদের তৈরি ওই বিশেষ তাৎপর্যময় শব্দযুগল স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মুখে বা কলমের নিবের ডগায় এসে হাজির হয়। 'মাতৃভাষা দিবস' উদ্ যাপনের সবটুকু উদ্দীপনাই যেন তখন ক্রোধ, বিরক্তি, প্রতিবাদে আতীব্র হয়ে ওঠে। রুখে দাঁড়াতে চায় মন, প্রাণ।

।। ২ ।।

তবে, এটা সম্ভবত আমাদের আত্মবিস্মৃতির জন্য ইতিহাসেরই বরাদ্দ করা শাস্তি। বহুকাল আগেই বঙ্কিমচন্দ্র যে-কথাটা বলেছিলেন, "বাঙালি আত্মবিস্মৃত জাতি" – তার ব্যাপকতর যাথার্থ্যের প্রমাণ এখন মিলছে। নবান্নের চতুর্দশ তলে বসে ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলাভাষীদের হেনস্থা, লাঞ্ছনা, মায় হত্যার বিরুদ্ধে যতই তর্জন-গর্জন করা হোক, আসলে বাংলা ভাষাকে অবহেলা, তার অপহ্নব ঘটানোর উদ্যোগে মুখ্য ভূমিকা কাদের ছিল প্রাক্তন রাজ্য সরকারের আমলে – তাকে বিব্রত, নিন্দিত করার ব্যাপারে, তা তো তো কেউ ভোলেননি! প্রাথমিক শিক্ষায় "মাতৃভাষা যে মাতৃদুগ্ধ তুল্য" এই চেতাবনি উপেক্ষা করে, যাঁরা সেদিন দুধে-দাঁত পড়ার পর থেকেই মাতৃভাষার সঙ্গে (বা তার পরিবর্তে) বাচ্চাদের ইংরেজিতে বিদ্যা গলাধঃকরণে ব্রতী হয়েছিলেন, তাঁরাই তো আজ রাজ্যের শাসনে। ফলে, এই আমলে এসে ইংরেজিপটু এবং তাতে-অপটু, দুটো ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে ছেলেমেয়েরা; এবং চূড়ান্ত বিচারে, বাংলামাধ্যম প্রাথমিক স্কুলগুলো উঠে যাচ্ছে দ্রুত (দেড় দশকে প্রায় চার-দেড়ে ছ' হাজারের কম বেশি হবে সেই সংখ্যাটা)। আর টিমটিমিয়ে চলা বাংলামাধ্যমে হতদরিদ্র, তথাকথিত সরকারি পৃষ্ঠপোষণায় বাঁচা স্কুলগুলোরও অবস্থা তো অকহতব্য। শিক্ষক আছেন, কিন্তু ছাত্র নেই বললেই চলে; এমন স্কুলও গাঁয়ে-গঞ্জে অলভ্য নয়, যেখানে ছাত্রই নেই। সব, 'ড্রপআউট'। আবার শিক্ষকদেরও মধ্যে দুটো তরফ: যোগ্যতা নিয়ে ঢোকা, অথবা নাবান্নিকদের অনুগৃহীত ছড়িদারদের হাতে টাকা-গুঁজে-ঢোকা – যারা পড়ানোর পক্ষে উপযুক্ত নয় আদপেই। বস্তুতপক্ষে সে চেষ্টাও করেনা।

এ হেন পরিস্থিতি যখন 'কর্ত্রীকারক'-এর আশ্রিত 'কর্মধারক'-রা ঘনিয়ে রেখেছেন রাজ্যের আকাশে-বাতাসে, তখন দীন-দুখিনি বঙ্গভাষার তো এমন দুরবস্থা হবেই। ইতিহাসের চক্রযান যে বড়ো নির্মম গতিতে চলে!

।। ৩ ।।

ঠিক এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছল ও আর্থ-সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত পরিবারের ছেলেমেয়েদের বৃহদংশ এখন বাংলা শেখেনা – ইংরেজি, হিন্দির পরে নেহাতই হয়ত চক্ষুলজ্জার (যদি থাকে অবশ্য!) দায়ে বাবা-মা তাদেরকে 'তৃতীয় ভাষা' হিসেবে ক্লাস এইট অবধি বাংলাটা পড়াতে আপত্তি করেন না। স্পষ্টত, এখন বাঙালি ছাত্রদের মধ্যে সুস্পষ্ট দুটো আলাদা মাত্রা তৈরি হয়ে গেছে। ভালো বাংলা জানা, নির্ভুলভাবে মাতৃভাষা লিখতে-বা-বলতে পারা বহু পরিবারের ছেলেমেয়েদের কাছেই এখন লজ্জার বিষয়ে পরিণত হয়েছে! ইংলিশ মিডিয়ামে-পড়া ছেলেমেয়েদের বাবা-মায়েদের মুখে হামেশাই ছদ্ম-আফশোসের উচ্চারিত এ-ধরনের কথা শোনা যায় – "ওর আবার বাংলাটা ভালো আসেনা।" কারুর-কারুর গলায় আফশোসের বদলে অহঙ্কারের ঢংটাই বেশি শুনতে পাই। একটা বিজ্ঞাপন মাঝে-মাঝেই দেখি টেলিভিশনে, যেখানে এক বাঙালি মহিলা সলজ্জভাবে বলছেন "মাই ইংলিশ একটু-একটু" তো, ঠিক সেই আদলেই ওই 'অ্যাংলোফিল' ছেলেমেয়েদেরও মূল বক্তব্যটা হল যেন "মাই বেঙ্গলি, একটু একটু!" এবং তার মধ্যে সঙ্কোচের ছিটেফোঁটাও নেই, বরং বাংলা ভাষাকে দেখানো একটা তাচ্ছিল্যের ভাবই আছে। বাংলা যদি বা বলে, তার সঙ্গে ইংরেজি তো বটেই, হিন্দি এমনকি পাঞ্জাবি, উর্দু শব্দ মিশিয়ে যা দাঁড়ায় ব্যাপারটা, তাতে ভাষাগতভাবেই অস্বচ্ছলতর পরিবারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ওদের একটা শ্রেণিবিভাজন ঘটে যাচ্ছে।

এই পরিপ্রেক্ষায় মাতৃভাষার জীবনীশক্তি তো ক্রমশই হয়ে যাচ্ছে ক্ষীয়মাণ। সমাজে, রাজ্য/রাষ্ট্রব্যবস্থায়, অর্থনৈতিক জীবনে যে-সার্বিক অবক্ষয় দ্রুত-বর্ধমান, সেখানে 'বাংলা ভাষা বিপন্ন' এমন জিগির তোলাটা তো একটা অসহায় হতাশার আর্তনাদ ছাড়া আর কিছুই নয়। স্বেচ্ছায় বাংলা ভাষাকে দুয়োরানির ছেলেমেয়ে করে রাখছে এক পক্ষ। আর এক পক্ষ, বাংলার মাধ্যমে কেন, কোনও কিছুর মাধ্যমেই জীবনে এগোনোর দিশা পাচ্ছে না এই আর্থ-সামাজিক-রাষ্ট্রিক পরিবেশে; তাই তাদের বৃহত্তর সংখ্যক পড়াশোনার প্রতিই সানীহ হয়ে উঠছে। শুধু বাংলাভাষার প্রতি অবহেলাই তার একমাত্র অভিব্যক্তি নয়। বরং একটা নিষ্ফল-আক্রোশের প্রকাশই ঘটে যাচ্ছে, যখন পরীক্ষা শেষ হলে পড়ার বইগুলো কুচি-কুচি করে ছিঁড়ে রাস্তায় ছড়িয়ে দিচ্ছে কেউ-কেউ। এবং সেটা ঘটছে, একটা নয় – অনেক জায়গাতেই।... এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যা-শিক্ষা-সহবত সবই যেখানে উচ্ছন্নে যাচ্ছে, সেখানে মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা (নিজেদের কাছে) এবং অবমাননা (অন্যদের এবং নিজেদেরও কাছে) যা ঘটে চলেছে, তার চূড়ান্ত পরিণাম ভয়ংকর। শাসনতখ্তে বসে থাকা মুরুব্বি-মুরুব্বিনিরা সেটা বুঝছেন না বা বোঝাতে চাইছেন না রাজনীতির স্বার্থে।

।। ৪ ।।

অথচ, একটা জাতির অস্তিত্বের শিকড় কিন্তু লুকিয়ে থাকে তার ভাষার গভীরেই। তাই ভাষার জমিনটা অবহেলায়, উপেক্ষায় শুকিয়ে গেলে, অস্তিত্বের সেই শিকড়ও তো ক্রমে-ক্রমে নিস্তেজ হয়ে যায়। তথাপ্রথিত সম্ভ্রান্ত, সুশিক্ষিত, পদস্থ মানুষেরাও সে-কথা বোঝেন না, কিংবা বুঝতে চান না। একটা অসামান্য সত্যভাষণ একদা শুনেছিলাম পূর্ববাংলা থেকে দাঙ্গার কারণে ছিন্নমূল হয়ে-আসা এক প্রায়-নিরক্ষর বৃদ্ধার মুখে। কলকাতায় যে লতায়পাতায়-আত্মীয়দের কাছে তিনি আশ্রয় পান, সেখানে তাঁর পূর্ববঙ্গীয় ভাষা অনেকেই বুঝতে না-পেরে মাঝে-মধ্যে ওঁর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠতেন। এই রকম কোনও একটি সময়ে তেমন ব্যাপারটার সাক্ষী ছিলাম। ওই বাড়ির ছেলেমেয়েরা অসহায় বৃদ্ধার বক্তব্য বুঝতে না-পেরে একটু বিরক্তি দেখালে এবং ওঁকে কলকাতার ভাষায় কথা বলাতে চেষ্টা করলে, উনি যা বলেছিলেন তা আজও বর্ণে-বর্ণে স্মরণে আছে: "হ্যারা আমারে ওগো লাহান কথা কইবার কয় – হেইডা পারুম ক্যামনে... ওহান থিক্যা তো আইর কিসুই আইনবার পারি নাই, লগে আইছে হুদু ওই মুখের কথাগুলিনই... হেইডা আর ছাইড়্যা ফ্যালাইতে কইস না মনু, হেইটুকাই তো বাফ্পিতম'র সাইত শ্যাস সম্বন্ধর গিটা। হেডা ছাইড়ল্যে তো আর আমি, আমি থাকুম না রে মনা!"

কী স্পষ্ট বাচনে আত্মপরিচয় ঠিক কোথায় স্থিতিময় হয় – সেটা ওই অনক্ষরপ্রায়, গ্রামীণ সীমাবদ্ধতার মধ্যে আজন্ম বন্দি-থাকা বৃদ্ধা বুঝিয়েছিলেন সেদিন। আর সব পত্রপল্লব, শাখাপ্রশাখা মায় আত্মপরিচিতির কাণ্ডটিও যদি নষ্ট হয়ে যায় পরিস্থিতির কারণে, তবু ভাষার শিকড় অনাহত থাকলে আপন পরিচয় কখনও হারায়, অস্তিত্বের অস্মিতা তখনও নিটুট থাকে।

।। ৫ ।।

ঠিক এই কথাটাই পৃথিবী জুড়ে নানা ভাষার বরেণ্য লেখকরা বোঝাতে চেয়েছেন। ১৯শ শতকের বিখ্যাত লেখক অলফঁস দোদে-র একটা গল্প আছে, ইংরেজি অনুবাদে – তার শিরোনাম 'দ্য লাস্ট লেসন'। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সীমান্ত থেকে জার্মানরা আলসাস-লোরেইন অঞ্চলটা দখল করে নিয়ে সেখানে সর্বক্ষেত্রে জার্মান ভাষা চালু করে। ওখানকার একটি গ্রামের স্কুলের বৃদ্ধ শিক্ষক এর ফলে চলে যেতে বাধ্য হন স্কুল ছেড়ে। স্কুলের শেষ যে-ক্লাস নেন তিনি, সেখানে ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে দুটো কথা লিখেছিলেন: "ভিভ্ লা ফ্রাঁসে! ভিভ্ লা ফ্রাঁস!", ..."ফরাসি ভাষা বাঁচুক, ফরাসি দেশও বাঁচবে!" এটাই ছিল তাঁর শেষ শিক্ষা – দ্য লাস্ট লেসন।

বিশ শতকের একটা বহু-আলোচিত আমেরিকান উপন্যাস অ্যালেক্স হেলির 'রুটস'। হেলির সাতপুরুষ আগে আমেরিকায় ক্রীতদাস হয়ে এসেছিলেন পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়ার এক তরুণ – কুন্টা কিন্টে। তাঁকে ধরে এনেছিল মার্কিন দাসব্যবসায়ীরা। তাঁর সপ্তম উত্তরপুরুষ ছিলেন অ্যালেক্স। মাঝের দু-শতাব্দী ধরে অজস্র ঘটনা ঘটে গেছে। কুন্টা কিন্টের উত্তরপ্রজন্মের নারী-পুরুষরা ভুলে গেছেন তাঁদের পিতৃপুরুষেরভাষা, হারিয়ে গেছে পূর্বপ্রজন্মের ধর্মধারা, তাঁরা জানেন না নিজেদের অতীত সমাজ-সংস্কৃতির পরম্পরা কী ছিল, এমনকি কোথায় ছিল তাঁদের দেশভুঁই। সব হারিয়েছে। ভাষা, হারিয়ে গেছে তাদের। ওই দু-শতাব্দী ধরে যা টিকে ছিল, তা হচ্ছে সাতপুরুষ আগে যাঁকে ধরে এনেছিল দাসব্যবসায়ীরা সেই মানুষটির কাহিনি। আর চালু ছিল গোটাদুয়েক অর্থবিলুপ্ত শব্দ – যা পরিবারের মানুষরা শুনে এসেছিলেন এতদিন ধরে, মানে না-জেনেও। ...অ্যালেক্স খুঁজতে ব্রতী হন তাঁর পূর্ব-প্রপিতামহদের দেশকে, সেখানকার মানুষজন কারা, তাদের চিনতে, জানতে। ওই শব্দযুগলকে সম্বল করেই।

অ্যালেক্স লিপিবদ্ধ করেছিলেন বংশানুক্রমে প্রচলিত কাহিনি – যেটা মুখে-মুখে চলে এসেছে সাতপুরুষ ধরে। যে-গ্রাম থেকে কুন্টা কিন্টেকে ধরে আনা হয়েছিল, তার প্রাকৃতিক বর্ণনাও ছিল সেই মৌখিক কাহিনিধারায়। আর ছিল ওই দুটি শব্দ: 'কাম্বি' এবং 'বলোঙ্গো'। ওই শব্দদুটি ধরেই এক ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিতের মাধ্যমে অ্যালেক্স জেনেছিলেন ওগুলো হল গাম্বিয়া দেশের উপকূলবাসী মানুষদের ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ। এই দুটি গাম্বিয়ান শব্দের পুঁজি নিয়েই একসময় অ্যালেক্স পৌঁছেছিলেন তাঁর পূর্বপুরুষের জন্মভূমিতে, গাম্বিয়া নদীর তীরে জুফ়রে গ্রামে। সেখানে পৌঁছানোর পরে সঙ্গের দোভাষীর মাধ্যমে গ্রামের সবার সঙ্গে পরিচয় হল অ্যালেক্স হেলির... গ্রামবাসীরা খুঁজে পেলেন তাদের হারিয়ে যাওয়া এক পূর্বজের বংশধরকে; আর হেলি খুঁজে পেলেন তাঁর অস্তিত্বের শিকড়। গাম্বিয়ার মানুষের মুখের ভাষার দুটিমাত্র শব্দ ঘটালো এই আশ্চর্য ঘটনা!

সাঙ্গ করব বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখিকা সেলিনা হোসেনের একটি বিখ্যাত উপন্যাস 'নীল ময়ূরের যৌবন' নিয়ে দু-চারটে কথা বলে। চর্যাপদের সমকালীন হাজার বছর আগের বাংলার পটভূমিতে কল্পনা করা এই কাহিনিতে প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ভাষা-আন্দোলনই পরোক্ষে প্রতিবিম্বিত হয়েছে। সেখানেও শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষার প্রতি খড়গহস্ত। বাংলায় যারা কথা বলে, লেখে – তাদেরকে অত্যাচারে জর্জরিত করে তারা। চর্যাকার অনেকেই এ উপন্যাসের কুশীলবরূপে চিহ্নিত। গল্পের শেষে তাঁরা যুদ্ধের সাহায্যে পরাধীনতা ঘুচিয়ে স্বাধীন হবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেখি আমরা। আর তখনই তাঁরা বলে ওঠেন যে, বাংলা ভাষায় কথা বলেই, বাঙালি হয়েই তাঁরা সেই মুক্তিযুদ্ধের শক্তি অর্জন করবেন। ওটাও যুদ্ধের অস্ত্র।রূপকাশ্রিত হলেও, মাতৃভাষাই যে মানুষের জাতিসত্তার মূল কারিগর – সেটাই সেলিনা হোসেন ব্যক্ত করেছেন এই সঙ্কেতের সাহায্যেই।

দোদে, হেলি, সেলিনা – এঁরা প্রকৃতপক্ষে ভিন্ন দেশের, ভিন্ সময়ের মানুষ হলেও, একই সত্য উচ্চারণ করেছেন। এখন তো সেই সত্যটা স্মরণ করে আত্মশক্তি অর্জনের সাধনার প্রয়োজন তাই সকলেরই। বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি – যা বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের শুরুর তারিখ – তাই এখন সারা পৃথিবীর মানুষের কাছেই শ্রদ্ধা এবং উদ্দীপনার উৎস।

সে কথাটা ভোলা মানে, নিজেকে বিলুপ্ত করা।

শিল্পী: মণীষ দেব

পরিচিতি: বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বিদ্যাসাগর অধ্যাপক, এশিয়াটিক সোসাইটির প্রাক্তন সভাপতি, কলকাতা।