কোনোকিছুতেই আর আনন্দ আসে না
তুমি যেভাবেই ডাকো সাড়া দিতে মন চায় না
এই যে রঙিন নিশান, হাওয়াই মিঠাই
বাঁশির ভেপু, টেমটেমি আর ডুগডুগির আওয়াজ
সব, সবকিছু বড়ো মধুর যন্ত্রণাময়
আমার শৈশবের প্রিয় স্মৃতির ঘ্রাণ।
আনন্দগুলো হারিয়ে গেছে ইট-পাথরের শহরে
বৈশাখী হাওয়ায় পতপত করে ওড়ে
রঙিন কাগজের ঝালর,
খোকা-খুকুর হাতে কাগজের পাখি ফুল চরকা
চারিদিকে এত আনন্দ এত খুশির জোয়ার
তবু আমার আনন্দরা কেন যেন জেগে ওঠে না!
আমি কেন বাজাতে পারি না পাতার বাঁশি
ডুগডুগি ঢোল আর বাঁশের বাঁশি
কেন বাঁধতে পারি না রঙিন ফিতা দু'হাত ভরে কাচের চুড়ি
সুগন্ধি তেল আলতা, চার পয়সা দামের লজেন্স আর তেলেভাজা
কেন আর ভালো লাগে না সেই আগের মতো বেতফল আর মুড়ির মোয়া!
এখন আনন্দ বাঁধা পড়েছে পোশাক আর সাজসজ্জাতে
চড়া দামের পচা পান্তায় ইলিশের ঝলকানিতে,
বৈশাখ এখন উৎসব নয় পরিণত হয়েছে উৎপাতে,
তবু চৈত্র যায় বৈশাখ আসে, আসে তার নতুন বার্তা নিয়ে
খরার বুকে উঁকি দেয় সবুজ প্রাণ
চৌচির মাটির বুকে নামে প্রথম বৃষ্টির কোমল পরশ
চারিদিক আমোদিত হয় আমের বোলের ঘ্রাণে
নতুন উদ্দীপনায় জেগে ওঠে জরাজীর্ণ প্রাণ
শুধু আমার বৈশাখ হারিয়ে গেছে কোনো এক বিস্মৃতির অতলে।

পরিচিতি: কবি ও লেখক। নিবাস: ঢাকা, বাংলাদেশ।