কবিতা

ধ্রুপদি অন্ধকার



আঞ্জুমান রোজী


সন্ধ্যা নামলেই
আকাশটাকে ভীরু কাপুরুষ মনে হয়
কিছু গোপন রাখার অভিপ্রায়ে
ডুবে যায় অন্ধকারে।

তখন আকাশ এলোমেলো হয়ে ওঠে,
ভাবতে থাকে...
কোন রঙে নিজেকে সাজাবে!
গোধূলির আড়ষ্টতা বুকে চেপে
নীরবে করে আত্মসমর্পণ।

সন্ধ্যা এলেই মন ভারি হয়।
এই মহাযজ্ঞে আকাশের রঙিন বিভ্রমে
চেয়ে থাকতে থাকতে
ভাবনার পর ভাবনা জমে ওঠে।
অবশেষে সেই ভাবনার সপ্তডিঙা
অন্ধকারের ঘাটে এসে নোঙর ফেলে।

এখন মনে হয়,
দিনের কাছে আদতে কিছুই পাওয়ার নেই।
এত পথ ঘুরে ঘুরে
কেন এসে দাঁড়ালাম এই অন্ধকার ঘাটে?

হাত বাড়ালেই মুঠো মুঠো অন্ধকার,
নরম, উষ্ণ,
কখনো বা জড়িয়ে ধরে
পরম আদরে।

তবুও গভীর অন্ধকারে ভয় জাগে।
আলোর জোনাকিরা কানে কানে বলে,
ঐটুকু আলোই ভরসা,
অন্ধকারেই পথ চিনে নিতে হয়;
সেখান থেকেই শুরু হয় যাত্রা!

এলোমেলো ভাবনায় হাতড়াই,
"হেথা নয়, হোথা নয়,
অন্য কোথা, অন্য কোনখানে।"
সেই অন্য কোথা, কোথায়? জানি না,
তবে এটুকু জানি,
অন্ধকার পাহাড় ডিঙোতেই হবে।

তার সঙ্গে দেখা হয়
প্রায়-অন্ধকার পাহাড়ের কিনারে।
গভীর, গুরু কণ্ঠের সেই আহ্বান,
পুরোনো, আদিম, অকৃত্রিম,
"আমি চোখ মেললুম আকাশে,
জ্বলে উঠল আলো — পূবে পশ্চিমে।"

সে গোলাপের দিকে চেয়ে বলল, "সুন্দর",
আর তখনই সুন্দরের পসরা বসে যায়!
আমিও ধীরে ধীরে সুন্দর হয়ে উঠি।
সুন্দরের আলিঙ্গনে
গোলাপি আভা লেগে যায় গায়ে।

পাহাড়ের গায়ে আর সবুজ নয়,
রক্তজবা ফুটে ওঠে।
সুন্দর হাত বাড়িয়ে দেয়।
অন্ধকার নেচে ওঠে
জলোচ্ছ্বাসের উন্মত্ত নৃত্যে।

পরিচিতি: কবি ও লেখক। কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি।