
[এই নিবন্ধের লেখিকা পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হলেও এখন কর্মসূত্রে অযোধ্যার অধিবাসী। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে প্রাথমিক শিক্ষাপর্ব শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন রবীন্দ্রস্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং বিএড ডিগ্রি অর্জনের পর দেশের আরেকটি ঐতিহ্যমণ্ডিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ কার্য (Social Work) বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি অযোধ্যার একটি উন্নয়ন ক্ষেত্রে একজন সমাজকর্মী হিসেবে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। এই কাজের সূত্রে অযোধ্যা সহ উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষত নারীদের অবস্থান, আচার-সংস্কৃতি, উঁচুনিচু, জাতপাত, ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের প্রভেদ, বিদ্বেষ-বৈষম্য,অত্যাচার-অনাচার, প্রতিবাদের রূপ প্রভৃতি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ তিনি পেয়েছেন। নিজের অর্জিত শিক্ষা ও চেতনার আলোকে এই সমস্ত দিক যেমন তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তেমনি তিনি এই সমস্ত দিককে নির্মোহভাবে বিশ্লেষণের দক্ষতা কিছু পরিমাণে হলেও অর্জন করতে পেরেছেন। দেশের দু'টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আরও উন্নত জীবনগড়ার নিশ্চিত ছন্দে তিনি পা মেলাতে পারতেন। কিন্তু পেশাগত কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার পাশাপাশি তিনি কিছুটা সামাজিক দায়বদ্ধতায় তাঁর দেখা জগৎকে সকলের সামনে তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন। বয়সের তারুণ্য এবং চেতনাবোধ তাঁকে প্রাণিত করেছে এই সমস্ত দিক সকলের সমক্ষে তুলে আনতে। এতদিন নিজের প্রচেষ্টায় সমাজমাধ্যমে এই সমস্ত দিকের কিছু খণ্ড খণ্ড চিত্র তিনি তুলে ধরেছেন। আমাদের বিশেষ অনুরোধে এবারের সংখ্যা থেকে তিনি তাঁর এই অভিজ্ঞতার সঞ্চয় আমাদের পত্রিকার সংক্ষিপ্ত পরিসরে 'উত্তরের চিঠি' শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতে সম্মত হয়েছেন। এজন্য লেখিকার প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমাদের স্থির বিশ্বাস, তাঁর বিষয়ভাবনার মধ্য দিয়ে যেমন নতুন নতুন দিক পাঠক-পাঠিকাদের সামনে উঠে আসবে,তেমনি তাঁর লিখনশৈলী সবাইকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। আমাদের পত্রিকার এই নবসংযোজনা পাঠক-পাঠিকাদের মনকে কিঞ্চিৎ স্পর্শ করতে পারলে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাও সার্থক হবে – এই আমাদের বিনম্র প্রত্যাশা।]
"অধিকার বেশি কার বনের উপর
সেই তর্কে বেলা হল, বাজিল দুপুর।"
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এ লড়াই বহুদিনের। তবে এখানে কোন লড়াইয়ের কথা বলতে চাইছি বা তার শুরুটা কোথায় বোঝাতে হলে, সবটা গোড়া থেকে বলতে হবে। তাহলেই সবকিছু গুছিয়ে লিখতে সুবিধা হবে।
জীবনের শিক্ষা শুরু হয় সেই ছোটোবেলা থেকেই, চলে আজীবন। যতদিন মানুষ বাঁচে ততদিনই জীবনের শিক্ষা চলতে থাকে। আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। পড়াশোনার সূত্রে বিভিন্ন জায়গাতে থাকার সুযোগ আমার হয়েছে। কিন্তু আমি যে সমস্ত জায়গাতে থেকেছি তার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক রূপ আমি দেখেছি। কারণ, আমার প্রথম পড়াশোনা গ্রামের মধ্যে শুরু হলেও, স্কুলজীবন গ্রামে কাটলেও, প্রথম আমার বাইরে আসা শুরু হয় শান্তিনিকেতনের হাত ধরে। বিশ্বভারতীতে পড়াশোনার সূত্রে যে সংস্কৃতি আমি দেখেছি তা যখন পরবর্তী কোর্স করতে আমি বারাণসীতে আসি বা বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে আসি তখন আমার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা রকম হয়। এই শিক্ষাজীবন ছেড়ে যখন আমি আমার কর্মজীবনে পদার্পণ করি তার অভিজ্ঞতাও সম্পূর্ণ ভিন্ন, সেও এক আলাদা জীবনের কাহিনি।
আজও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা কোন কোন বিষয়ের হাত ধরে বা কোন কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছে সে নিয়ে বেশ কিছু অভিজ্ঞতার সঞ্চয় আমি করেছি। যতই আমরা মুখে বলি যে, আমরা এগোচ্ছি, আমাদের সমাজ এগোচ্ছে বা আমরা হয়তো সত্যিই দেশ দুনিয়া ছাড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছি এবং আজকের সমাজ এই নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগে যে, পরিবর্তন তো হচ্ছে, পালটাচ্ছে, সমাজ বদলাচ্ছে! কিন্তু আমার পক্ষ থেকে বা আমার জায়গাতে দাঁড়িয়ে যতজনই জীবনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন বা জেনেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে, যতটা এগোনোর কথা ছিল ততটা আমরা এগোইনি। সময়ের সাথে যতটা চলার কথা ছিল ততটা কিন্তু আমরা চলিনি!
খুব বেশি ভূমিকা করব না। আমি আমার ব্যক্তিজীবনের কিছু ঘটনার উল্লেখ করব। আমার এই লেখা যে পাঠক বা পাঠিকাই পড়ুন না কেন, তাঁরাই বিচার করবেন আজকের সমাজ ব্যবস্থা এখনো কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বা সত্যিই যতটা চলার কথা ছিল ততটা কি চলতে পেরেছি বা এগোতে পেরেছি আমরা! এ বিচার আমি পাঠক বা পাঠিকার উপরেই ছেড়ে দিলাম। যে কথা বলতে চলেছি তার সূচনা হচ্ছে আমার কর্মজীবনের শুরু থেকে এবং আমার কর্মজীবনের শুরু হয়েছে বারাণসীর যাত্রা শেষ হওয়ার সাথে সাথে।
তখন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে আমার লাস্ট ইয়ার চলছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের। প্লেসমেন্ট হয়েছে। প্লেসমেন্টে আমি চাকরি পেয়ে বা প্লেসড হয়ে সদ্য সদ্য এসেছি অযোধ্যাতে। অর্থাৎ উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা ডিস্ট্রিক্টে। তবে আমি কাজের সূত্রে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার গ্রামীণ অঞ্চল দেখেছি, জেনেছি, বুঝছি বা এখানকার সামাজিক কাঠামোকেও বোঝার চেষ্টা করছি। এসবকে পেরিয়ে যখন আমি প্রথম ব্যক্তিজীবনে অযোধ্যাতে থাকতে শুরু করলাম বা কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করলাম তখন এক আলাদা রুঢ় কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন আমাকে হতে হলো। বাস্তব এতটাই কঠিন যে আজও মনে পড়লে মনে হয় যে সত্যিই কতটা এগোনোর কথা ছিল আমাদের সমাজের এবং আমরা কতটাই বা এগিয়েছি!
আমার সাথে একই অর্গানাইজেশনে একই সেশনে জয়েন করেছিলেন আমার বিহারের এক কলিগ, যিনি আমার বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির ব্যাচমেট ছিলেন তবে অন্য ডিপার্টমেন্টের। পাশাপাশি আরেকজন এসেছিলেন যিনি রাজস্থান থেকে, তবে তার প্রিভিয়াস এক্সপেরিয়েন্স ছিল অন্য অর্গানাইজেশনে। তিনজনই এই অর্গানাইজেশনে প্রথম আমরা কাজ করতে আসি এবং জয়েনিং হয় প্রায় সাথে সাথেই। পরিচয় কথাবার্তা এবং ট্রেনিং সেন্টারে থাকার সুবাদে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের পাশের যে এলাকা রয়েছে, সেইখানে আমরা রুম দেখব বা রুম খোঁজাখুঁজি শুরু করব। তিনজন আমরা একসাথে বেরোলাম। সদ্য জয়েন করার জন্য আমার কাছে কোনো ভেহিকেল অর্থাৎ স্কুটি বা বাইক ছিল না। ওদের সাথে যাতায়াত করতেই আমি বাধ্য হচ্ছিলাম একরকম। ভালো বন্ধুত্ব, ভালো বন্ডিং তৈরি হওয়ায় এই যাতায়াতে একে অপরের সহযোগিতায় কোনও বিড়ম্বনা তৈরি হয়নি।
যাঁরা কখনো বাইরে থেকেছেন বা বাইরে থাকার বন্দোবস্ত যাদেরকে করতে হয়েছে তাঁরা আমার এই কথাগুলোর সাথে নিশ্চয়ই নিজেদের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পাবেন। এই যে থাকতে শুরু করার যাত্রা, এটা কতটা কঠিন হয়! আপনার লাগেজ সাথে থাকবে, সম্পূর্ণ একলা রুম খুঁজতে বেরোবেন, আপনার ক্রাইটেরিয়া মতো রুম দেখবেন, দিনের পর দিন। এবং আপনার ক্রাইটেরিয়ার সাথে যে বাড়ির ওনার তাঁর ক্রাইটেরিয়া ম্যাচ করার বেশ এক মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা কাজ করে এসময়। একই রকম রুম খুঁজে পেতে রীতিমতো একটা হেক্টিক পরিস্থিতি কিন্তু চলে ওই সময়টাতে। এত কিছুর মাঝেও যখন আমরা তিনজন বেরোলাম তখন মনের মধ্যে আশা ছিল যে, আমরা অবশ্যই রুম পাবো এই এরিয়াতে। প্রত্যেকটা কলোনি প্রত্যেকটা গলি প্রত্যেকটা বাড়িতে কথা বলে বলে, খুঁজে খুঁজে, আমরা হয়রান। এমন একটা সময়ে একজন খবর দিলেন যে, অমুক গলিতে একটি বাড়ি আছে (সম্পূর্ণ তথ্য বা ঠিকানা লিখছি না) যেটি ভাড়া দেন।
যথারীতি আমি,আরো দু'জন কলিগ তারাও গেলেন আমার সাথে। যে বাড়িতে আমরা কথা বলতে গেলাম সেই বাড়ির ভদ্রমহিলার বয়স হবে পঞ্চাশোর্ধ্ব। তিনি তাঁর বাড়ির মেইন গেট থেকে সরে এসে পেছনের দিককার একটি গলির দিকের একটি দরজা খুলে দিলেন, কিন্তু আমাদেরকে বাড়ির ভেতরে আসতে বলেননি, উনি নিজের বাড়ির ভেতরে চৌকাঠের ওপারে দাঁড়িয়ে থেকে দরজার গরাদে হেলান দিয়ে প্রথম যে কথাটি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন সেটি হলো:
– আপ লোগকা নাম ক্যা হ্যায়?
– কাঁহা সে আয়ে হ্যায়?
– তারপরে উনি সোজা জিজ্ঞেস করলেন, কন সে কাস্ট কে হ্যায় আপ লোগ?
এই কথাটা শোনার সাথে সাথে আমি একেবারে মুষড়ে পড়ি। এরকম দিনের সম্মুখীন কখনো হইনি যেখানে বাড়ি দেখতে যেতে, বাড়িতে ঢুকতে দিতে চেয়ে কোনো বাড়ির মালিক যারা বাড়ি ভাড়া খুঁজতে এসেছেন, তাদের জাত জানতে চান! আমি মুষড়ে পড়াতে কনভারসেশন করতে পারছিলাম না। আমার যিনি বিহারের বন্ধু ছিলেন তিনি পুরো কনভারসেশনটি চালাচ্ছিলেন। ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করলেন,
– আপকা ধর্ম ক্যা হ্যায়? তো আমার বন্ধুটি বললেন উনি ব্রাহ্মণ।
– কন সে গোত্র কে হ্যায়?
– কন সে কুল কে হ্যায়?
– কন সে দেবতা কো পুজতে হ্যায়?
সমস্ত প্রশ্নের একেবারে সঠিক সঠিক জবাব আমার বিহারের কলিগ বন্ধুটি যখন দিলেন (যদিও জাত, কুল, গোত্র আমার মনে নেই) তখন মনে হলো, হতে পারে আমার বিহারের কলিগ বন্ধুটি ওই বাড়িওয়ালি যে ভদ্রমহিলা ওনার চেয়ে উঁচু স্তরের ব্রাহ্মণ কিংবা ওনার সমগোত্রীয় বা সমস্তরীয় ব্রাহ্মণ। সেজন্য ওই ভদ্রমহিলা আমার বিহারের বন্ধুটিকে এবং আমরা তিনজনই একই স্তরীয় মনে করে ঢুকতে দিতে রাজি হলেন। আমার বন্ধুটি সমগোত্রীয় ব্রাহ্মণ অথবা সমস্তরীয় ব্রাহ্মণ এ নিয়ে আমার ভাবনা ছিল না। আমার সমস্যা ছিল মানসিকতাতে। তাই আমি বন্ধুটিকে বললাম যে,
– তুমকো রুম দেখনা হ্যায়! তুম চলে যাও। তুম দেখকে আ যাও। লেকিন ইস ঘর মে মুঝে রুম লেনা হি নেহি হ্যায়। মুঝে ইস ঘর মে কোই কামরা দেখনা ভি নেহি হ্যায় অর ইস ঘর মে মুঝে ঘুসনা ভি নেহি হ্যায়!
বলে আমি সাইডে সরে এলাম। আমার বিহারের বন্ধুটি ওপরে গেলেন। তিনি রুম দেখে ফিরে এলেন।
জাত-ধর্ম-বর্ণ-বয়স-রং নির্বিশেষে সবাই যে দিনশেষে মানুষ, সবাই যে দিনশেষে মনুষ্যধর্মের, আমরা সবাই এই কথাটি বোধহয় ভুলে যাই আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে। আজকের সমাজে দাঁড়িয়ে আমরা মনুষ্যধর্মকে এড়িয়ে যাই, আমাদের মনুষ্যধর্ম পরাজিত হয় এই নাকউঁচু জাতি-ধর্ম-বর্ণবৈষম্যবিশিষ্ট ধর্মের কাছে। আমাদের মনুষ্যত্ব হেরে যায় এই বিভেদের কাছে। আমাদের মনুষ্য জাতির পরাজয় ঘটে এই নাকউঁচু, নিজেকে সুপিরিয়র ভাবা মানসিকতার কাছে। এই পরাজয় কি সমস্ত মানবজাতির পরাজয় নয়! এই পরাজয় কি শুধু আমার বা আমার বন্ধুর! এই পরাজয় কি আপনার নয়! এই পরাজয় কি আপনাদের সকলের নয়! এই পরাজয় কি সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রশ্ন তোলে না! আজও আমরা এই জাতি-ধর্ম-বর্ণবৈষম্য নিয়ে চলি, আজও আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণবৈষম্য নিয়ে ঘরে ঢুকতে দিই মানুষকে। এর দায় আপনার না আমার! এর দায় সমগ্র মানবজাতির যেখানে!
আমি ভীষণ রকম আশাবাদী। এ সমস্ত দেখে কখনো আশা ছাড়ি না সমাজের প্রতি। রবি ঠাকুর তো বলেছেন, মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ। আমিও তাই মনে করি। মানুষের প্রতি, মনুষ্যধর্মের প্রতি, মনুষ্যত্বের প্রতি বিশ্বাস হারানো মহাপাপ। তাই বিশ্বাস হারাই না মনুষ্য জাতির উপরে, মনুষ্যত্বের উপরে। আমার মনে হয় এই সমাজের এই শিকড় বহু গভীরে রয়েছে। একদিনের সৃষ্টি নয় এই বিভেদ, এই বৈষম্য। একদিনের সৃষ্টি নয় বলেই একে একদিনে ভেঙে ফেলা অসম্ভব। সময় লাগবে, দীর্ঘ সময় লাগবে, দীর্ঘ লড়াই লাগবে। কিন্তু একদিন না একদিন বদল হবেই হবে। একদিন না একদিন সমাজের শুভ পরিবর্তন আসবেই আসবে।
আমরা দেশ,সমাজ ও মনুষ্যজাতির ভেদাভেদ করছি বিবেচনাহীনভাবে। এমন ধারা চলতে থাকলে এই মুমূর্ষু দেশকে কে বাঁচাবে? তাই আজ সমতার বীজ বপনের প্রয়োজন, যাতে আগামী প্রজন্ম একটি সুস্থ সমাজ ও দেশের সুস্থ নাগরিক হয়ে দেশ গঠনের কাজ করতে পারে। তাই এই সময়ে বোধহয় কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমোঘ পঙ্ক্তি উচ্চারণের সময় এসেছে –
"গাহি সাম্যের গান –
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান্
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।"