আমাকে তো চেনো তুমি, আমি ফাল্গুন। গোবেট কবির সঙ্গে মস্করা করি বলে আমার অনেক দুর্নাম। চাদরের আঁচল তুলে নিশান ওড়ানো আর ধুলোয় দু-চোখ ঢেকে অচেনা বান্ধবীর প্রথম দর্শনের মুহূর্তকে এলোমেলো করে দেয়া আমার বিচ্ছিরি অভ্যেস... আমাকে তো চেনো তুমি, আমি ফাল্গুন।
শুকনো পাতার চিঠি জানলা দিয়ে আমিই বিলোই; শুকনো পাতায় থাকে যে সব খবর তার কথামাত্র আমাকে শোধো না; আমি জানি ওই সব জানা বড়ো ঠিক নয়...
আমাকে তো চেনো তুমি, আমি ফাল্গুন, বড়োই আপন আমি যেন ভারি দুষ্টু রঙিলা বালক দিদির সখীরা কেউ টফি দিয়ে আমাকে ভোলায় আমাকে এগিয়ে দেয় নতুন বন্ধুর গতিবিধি বুঝে নিতে-আমি টুটু... সোনামণি আমিই ফাল্গুন।
চেনো কি আমাকে, সত্যি? আমি যে ফাল্গুন আমি কেবল নিশ্বাস, ধুলো আর ধূসর সূর্যের আর লালচে সন্ধেচাঁদের অন্ধকার।
আমার শ্বাসের জেরে এরণ্ড-র রক্তকণা ফাগ হয়ে ওড়ে, আমডালে বেগুনি কুঁড়ির দল আলোকের অশ্রু ঝরায়...
আমাকে কি চেনো তুমি? আমিই ফাল্গুন।
শিমুল ফুলের সেই পেয়ালাতে ভরা রঙিন খবর পলাশের আধজ্বলা আগুনে সে তপ্ত (বন্ধুর স্টোভে তৈরি বড়ো আদরের ঈষদুষ্ণ সোনালি বরণ চা) আমি যাচি পৃথিবীকে, অন্যপূর্বা এই পৃথিবীকে। শীতের মজাটা সেরে আসবে কি তুমি পৃথিবী বন্ধুর আঙনদোর প্রতীক্ষায় করবে মধুর চিরকাল চেনাজানা অচিন বন্ধুর জন্যে-আমি যার এনেছি খবর।
আমি যে ফাল্গুন, হায়, আমি শুধু সংবাদবাহক নতুন খবর বলে হয়তো বা আনি আমি সনাতন আদিম খবর যে খবর লেখা আছে বর্ষার অশ্রুপাতে শরতের বৈশাখী মেঘে হেমন্তের ঘোলা আকাশে একই খবর সেই আদিতম প্রথম প্রেমের।
বর্ষার চোখের জল হিম হল কতোদিন আগে? শরতের হাসি বুঝি ভাসমান কাশেদের আঁশে আঁশে উড়ছে না আজো? উলে-বোনা ব্লাউজটা এখনও যুবতীর যাতনায় স্বস্তি/সুখ দেয় কি-না? ফাল্গুন জানে না কিছু জানে শুধু একটি কথাই স্মৃতি মানে এক আরম্ভ, অশেষ স্বপ্ন গতিপথ তার প্রেম তার পরিণতি না আছে সূচনাই যার।
কিছুই হারায় নি তো চিরতমা পৃথিবীর প্রথম প্রেমের। শীত আর বর্ষার, শরতের, হেমন্তের বিভিন্ন আকাশ তোমার প্রেমেই লেখে কবিতা বিশ্বের
আমি যে ফাল্গুন শুধু, কেবল ফাল্গুন আমি তাতে দু'ফোঁটা লেখার কালি, দু'পাতা কাগজ আর...
নবকান্ত বরুয়ার কবিতা 'চকুপানী: ফাগুনৰ'
বাংলা রূপান্তর: উষারঞ্জন ভট্টাচার্য