মায়ের হাতেবোনা সেই সোয়েটারটা
আজও পরি, শীত পড়লেই।
বুনন কিছুটা খুলে গেছে।
জায়গায় জায়গায় রিপু করা,
যদিও বোঝার উপায় নেই
মায়ের নিপুন হাতের কারুকাজে।
আজ আমার বেশকয়েক আলমারিভর্তি জামা-কাপড়,
শীতের পোশাক, সোয়েটার, স্যুট-প্যান্ট,
রাখার জায়গা নেই। তবু,
মায়ের হাতেবোনা সেই সোয়েটারটা
আজও পরি, শীত পড়লেই।
ন্যাপথলিনের গন্ধ মেখে, মায়ের হাত ধরে
প্রতিবছর যে একবার বেরোতো টিনের তোরঙ্গ থেকে।
আজ মা নেই!
কতদিন মা নেই!
সোয়েটারটা বুকে জড়ালেই
মনে হয় মায়ের সেই ডাক শুনতে পাচ্ছি, -
"খোকা, খোকা কোথায় গেলি?
দেখনা বাবা, উলের গোলাটা
কোথায় পড়ল?"
উলের গোলা তখন দুরন্ত মেষশাবক,
দৌড়াতে দৌড়াতে লুকলো খাটের নীচে।
তারপর তাকে ধরে মায়ের কোলে ফেলে দিতেই
মা আধবোনা সোয়েটারটা আমার গায়ে ফেলে
দেখে নিত, - মাপ ঠিক আছে কিনা।
সোয়েটারটাতো ছোট হয়নি,
আমি বড় হয়ে গেলাম।
মা সোয়েটারটা কিছুটা খুলে
আবার বড় করে দিত।
এক রঙের সঙ্গে অন্য রঙের সংঘর্ষেও
সোয়েটারের গায়ে রূপকথার রামধনু উঠতো।
মা আজ নেই!
কতদিন মা নেই!
উলের গোলা আর মেষশাবক হয়ে দৌড়ায় না। তবু,
মায়ের হাতেবোনা সেই সোয়েটারটা
আজও পরি, অন্তত একবার পরি
ঝাপসা কুয়াশা চোখে, শীত পড়লেই।