'মনের ক্ষত' ছুঁয়ে দেখেছেন কখনো? কখনো মনে হয়েছে শেষ ২ ঘণ্টা আপনার জীবনের মানে কী ছিল? শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে অথচ আপনি মুখটা বালিশে চেপে কেঁদে গেছেন রাতের পর রাত, কিন্তু বোঝেননি এত কষ্ট কেন পেয়েছেন? আসলে মনের জ্বর এগুলো। paracitamol কিংবা ibrufen এদের কাবু করতে নারাজ। তাই আপনি হাত বাড়ান 'medicine' হয়ে, ভাবছেন তো কি বোকা বোকা কথা বললাম! লেখার হাত ধরুন, যিনি শুনতে চান তাঁর হাত ধরুন, কবির কথায়: "তুমি মানুষের হাত ধরো, সে কিছু বলতে চায়"।
আবার একটা ১০ অক্টোবর আসছে। poster, awarness ইত্যাদি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, মনে করুন যে আপনার সাথে হেসে সেদিন poster বানাচ্ছিল, ধীরে ধীরে তার মনে মেঘ জমছে,ক্রমশ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছে তার জীবন, তবে কী করবেন? মেঘলা দিনে মনখারাপের চাদর সরিয়ে ego, busy shedule দূরে রেখে তাকে 'সময়' উপহার দেবেন। কেউ যদি দেখেন ক্রমশ কাজে একদম মন দিতে পারছে না অথবা 'demotivate' হচ্ছে তবে গান শোনান, শুনতে বলুন, গল্প বলুন, কথা বলুন। গান শোনা বা গল্প বলা, পড়া এগুলো recreational therapy, এগুলো মনের জ্বরকে ধীরে ধীরে সারায়।আপনার কথা বলার জন্য কিন্তু একজন প্রাণে বেঁচে যেত পারে। জানেন আমি নিজে দেখেছি, আমি যখন demotivate হয়ে যাচ্ছি, কখনো মনে হয়েছিল জীবনের মানে নেই আমি হেরে গেছি, suicide একমাত্র দিক, তখন আমার therapist এবং আমার mental health subject-এর teacher আমায় বলেছেন " গান শোন,তুমি কেন পারবে না? আগে কেমন ছিলে ফিরে দেখ,সেদিনও পারলে আজও পারবে" ...আমিও যেমন ফিরে এসেছি, পারার চেষ্টায় একবার হলেও বেঁচে ফিরছি তবে আপনিও পারবেন। আসলে নিজেকে উপহার দিন 'সময়'। গুছিয়ে ফেলুন যা কিছু সারা সপ্তাহজুড়ে ফেলে রেখেছেন, দেখবেন ভালো লাগছে। সবাইকে উওর না দিয়ে, কি হবে না ভেবে ছোটো ছোটো মুহূর্তে বাঁচতে শিখুন আর শেখান তাহলে দেখবেন 'panick attack' মানে হঠাৎ শ্বাসরোধ হওয়া বা মনে হচ্ছে আমি মারা যাব – এগুলো কমছে। এখন "separation anxiety" বা "depression"-এ অনেক ছোটো বয়স থেকে বাচ্চারা ভুগছে। একদিন হসপিটালে ডিউটিতে শুনলাম একটি ১০ বছরের মেয়ে ডিপ্রেশনে ভুগছে। এই নিয়ে দু'বার poision intake করে সুইসাইড attempt করতে গিয়ে বেঁচে গেছে। ডাক্তার বাড়ির লোক মানে তার মাকে বোঝাতে শুরু করলেন এবং 'psychiatrist'- এর সাথে যোগাযোগ করতে বললেন। আমার খুব উৎসাহ হলো মেয়েটার মুখ থেকে আমি একটা লাইন হলেও কথা বলাবো, ও কথা বলে না কিন্তু পড়াশুনায় খুব ভালো। দুপুরে বাড়ির থেকে খাবার এনেছে,কিন্তু ও বিরক্ত খাবে না..., আমাকে বাড়ির লোক বলছে, "দিদি আপনি একবার বলুন না যদি খায়!" আমি দেখলাম এই সুযোগ, এগিয়ে গেলাম ওর কাছে বললাম, "জানো আমিও যখন তোমার মতোন ছোটো ছিলাম, মা অনেক ভালো খাবার করতো আর আমি না বলতাম, আর এখন হোস্টেলে থাকি আর মার রান্না মিস করি। না খেলে তুমি সুস্থ হবে না যে, পড়তে হবে... অনেকটা পড়তে হবে। ধরো খাবারটা নিজের হাতে খেলে খাবার আর তোমার জিভের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হবে"। এভাবে বলার পর আমার মনে পড়ে মেয়েটা হেসেছিল, নিজের হাতে থালাটা ধরে খেয়েও ছিল। এইটুকু মুহূর্ত দামি হয়ে রয়ে গেছে আমার কাছে। আবার কখনো আপনি ভাবছেন বাচ্চাটা চুপ করে যাচ্ছে তা ভালো, আর যখন নিজেকে শেষ করার চেষ্টায় আছে তখনও আপনি ভাবছেন এ আর কি? ওকে বকে দিলেই ঠিক থাকবে শাসনে। আসলে ব্যাপারটা হলো আপনার জীবনের জটিলতা ও বোঝে না, কিন্তু আপনাদের মাঝে ও বোঝা, ও ভুল – এটা বারবার ওকে দাগিয়ে দেবেন না। একটি খোলা আকাশ দিন না শুধুমাত্র ওর জন্য, তাহলে তো আর বারবার hospital-এ ভরতি হতে হয় না 'poision intake', 'depression', 'diagnosis' নিয়ে। কথা বলুন, একটু ভাবা প্র্যাকটিস করুন, আপনি না বুদ্ধিজীবী, mature বলে পরিচয় দেন সমাজে, না হয় সেখান থেকে চিন্তা করুন।

পরিচিতি: নার্সিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। অশোকনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ।
