সাক্ষাৎকার

  • শুভদীপ সরকার

(সংগীত পরিচালক, সুরকার)

[শুভদীপ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই সংগীতচর্চা করছেন। মূলত সুরকার হিসাবে সংগীত জগতে অধিক পরিচিত। ইতিমধ্যেই বাংলার প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীদের সাথে নানা প্রকল্পে কাজ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন পণ্যের জন্য তৈরি করেছেন নানা জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন জিঙ্গল। ২০১২ সালে রুহ মিউজিক থেকে প্রকাশ পেয়েছে সুরকার হিসাবে তাঁর নিজস্ব সংগীতের অ্যালবাম 'বাঙালীয়ানা' (Bangaliana)। অ্যালবামের গানগুলিতে কথা দিয়েছেন সুমন চ্যাটার্জি। অতি সম্প্রতি আড্ডা টাইমস্‌-এ মুক্তিপ্রাপ্ত 'নন্দিনী' ওয়েব সিরিজে সুরকার হিসাবে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। 'ডটপেন ডট ইন' ই-পত্রিকার সূচনা সংখ্যায় তাঁর মতো একজন নবীন ও প্রতিভাবান সুরকারের সাক্ষাৎকার পেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ।]


ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ আপনি সংগীত জগতের প্রতি আকৃষ্ট হলেন কিভাবে? আপনার বেড়ে ওঠাই কি সাংগীতিক আবহের মধ্য দিয়ে?

শুভদীপঃ আমার সংগীত জগতে আসা হচ্ছে মূলত আমার বাবা আর মা'র উৎসাহদানের মধ্য দিয়ে। আমার বাবা যেহেতু ডাক্তার... এখন এটা স্বাভাবিক ডাক্তারের ছেলে ডাক্তারই হবে এটা সব বাবা-মা-ই চায়। সেই জায়গা থেকে বাবাও ভেবেছিলেন আলাদা। আমার mother instrument পিয়ানো। আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি তখন থেকেই পিয়ানো বাজাতাম। তখন অবশ্য খেলাচ্ছলেই বাজাতাম। তারপর আস্তে আস্তে যখন বড় হলাম তখন আমার চারপাশের মিউজিকগুলো আমাকে আকৃষ্ট করতে লাগল। ক্লাস টুয়েলভ পাস করার পর ঠিক করলাম সেই জায়গা থেকেই মিউজিক্যালি কিছু একটা করা যাক। তখন বাড়ি থেকে সাপোর্টটা পেয়েছি। তারপর ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া সেখানে গ্রেড কমপ্লিট করা। তখনও ভাবছি মিউজিক নিয়ে কি করা যায়। কারণ এখনকার দিনে শুধুমাত্র আমি একটা ইন্সট্রুমেন্ট শিখলাম তাতে কিছু হয় না। তাতে কম্পোজার হওয়া যায় না। তখন আমি মিউজিক সংক্রান্ত যা কিছু আছে... যেমন মিউজিকের প্রাথমিক বিষয় হল শব্দ বা সাউন্ড। আমি সাউন্ড নিয়ে জানার জন্য সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করলাম। তারপর জানলাম শুধু পিয়ানো বাজালেই গানে সুর দেওয়া যায় না। আমি কম্পোজ ছাড়াও মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টও করি, প্রোগ্রামিংও করি, মানে গানের নেপথ্যের যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক... ফিল্ম মিউজিক। আমার বরাবরই ইচ্ছে ছিল আমি ফিল্ম মিউজিক ডিরেক্টর হবো। এবার তার জন্য আমাকে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনা করতে হলো। তারপর বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ওয়ার্কশপ attend করা... সে কলকাতা বা কলকাতার বাইরে চেন্নাই, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর যেখানেই কোনো ওয়ার্কশপ হতো আমি যেতাম।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ গানও কি শিখেছেন?

শুভদীপঃ না ঠিক সেভাবে নয়। তবে গান শেখা বিষয়টা হচ্ছে অনেকটা রেওয়াজ করতে করতেই সে জিনিসটা গলায় আস্তে আস্তে চলে আসে। কেউ সুরের মধ্যে থাকলে সে অটোমাটিক্যালি বুঝতে পারে যে আমি সুরে গাইছি না বেসুরে গাইছি। যাঁরা আজকে প্রতিষ্ঠিত সুরকার তাঁরা তো কেউই প্রতিষ্ঠিত গায়ক বা সিংগার নয়। তো কি হয় একটা নতুন গানে যখন সুর দিতে হয়, সুরটা তো আমাকে গেয়ে করতে হয়। ওই গাওয়াটা গাইতে গাইতে দীর্ঘদিনের অভ্যাসবশত ওটা গলায় চলে আসে। আমি নিজেকে কোনোদিনই গায়ক দাবি করবো না। এ. আর. রহমানকেও কেউ বলে না তিনি একজন গায়ক। কিন্তু ওঁনারও নিজের গলায় গাওয়া অনেক হিট গান আছে। ওটা ওই অভ্যাসেরই ফল। আর সত্যি কথা বলতে গলাটাও তো একটা ইনস্ট্রুমেন্ট একটা vocal instrument যাকে বলে স্বরযন্ত্র। এবার আমি যখন কোনোকিছু গাইছি মানে আমি যদি ধরে নিই যে গাইছি মানে আমি যদি কিছু গলার মাধ্যমে বাজাই... ব্যাপারটা সেখান থেকেই আসে। সেই জায়গা থেকেই মিউজিকটাকে আস্তে আস্তে ভালো লাগা। ধীরে ধীরে ছোট ছোট কাজ করতে করতে বিভিন্ন মানুষের কাজ দেখে শিখতে শিখতে আমি নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আরও ভালো ভালো নতুন কাজ করার।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ আপনার কাজের ব্যাপ্তিটা বাড়লো কবে থেকে? মুম্বাই থেকে কবে কিভাবে কাজের ডাক এলো?

শুভদীপঃ কাজের ব্যাপ্তি বলতে আমি বহু বছর বম্বেতে ছিলাম ওখানে শেখার জন্য। তারপর কাজের জন্য গিয়েছি এসেছি। ওখানে ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা একটু আলাদা রকমের কাজ করে তাঁদের মানুষ খোঁজে। ওখানেই বিভিন্ন মানুষের সাথে কাজের সূত্রে পরিচয় ঘটে।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ এটা কোন সাল থেকে?

শুভদীপঃ আমি মিউজিক ডিরেকশন মানে সুর করা শুরু করেছি ২০০৮ সাল থেকে। ২০০৮-এ আমি প্রথম আমার অ্যালবামের গান শুরু করি। কম্পোজ হিসাবে 'Masti ককটেল' আমার প্রথম অ্যালবাম যেটা রিলিজ হয়েছিল ২০০৯ সালে। আর 'বাঙালীয়ানা' দ্বিতীয় যেটা রিলিজ হয়েছিল ২০১১ সালে। 'বাঙালীয়ানা'-র ক্ষেত্রে আমার একটা নস্টালজিয়া কাজ করে... সেটা আমার একটা লাকও বলা যায়, সেটা হল আমার জীবনের প্রথম অ্যালবাম রেকর্ড হয়েছিল বম্বেতে। ওখানে যাঁরা যাঁরা ভোকালিস্ট তাঁরা কলকাতার কিন্তু আমার যেসব অ্যারেঞ্জমেন্টস, মিউজিশিয়ানস তার কিছুটা কলকাতার ছিল কিন্তু অধিকাংশটাই বম্বের। আমি প্রথম রেকর্ড করতে যাই, প্রথম গানের টেক নিই বম্বেতে। সেটা আমার কাছে একটা বড় পাওয়া। ওখানে স্টুডিও থেকেই কিছু context পেয়েছিলাম কাজ শুনে। কিছু ডিরেক্টর, প্রোডিউসারের সাথে আলাপ হয়। আর বম্বেতে এগুলো চলতে থাকে, মানে ভালো কাজ ওরা শুনলে রেফার করে। এভাবেই চলছিল। তার থেকেও বড় কথা ওখানে এমন ডিরেক্টর আছেন যাঁরা বিগত দশ বছর ধরে আমার সাথেই কাজ করছেন। ওঁরা হয়তো আমার কাজে অনেক flavour পান, একটু অন্যরকম ভাবনা চিন্তার খোরাক পান তাই আর অন্য কোথাও যান না। আমার কাছে সেটা একটা বড় পাওয়া। তবে শুধুমাত্র বম্বে না দিল্লিতেও আমার ক্লাসিক্যাল প্রচুর কাজ হয়। এছাড়াও চেন্নাই, হায়দ্রাবাদ, ব্যাঙ্গালোরে অনেক অ্যাড, শর্টফিল্মস, ডকুমেন্টরি ফিল্মস ইত্যাদির কাজও হয়। আমি যেহেতু পুরো কমপ্লিট মিউজিকটা করি... তার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট হচ্ছে অ্যানিমেশন মানে অ্যানিমেশন মিউজিক। প্রচুর জেনারেল আর করপোরেট অ্যাডের অ্যানিমেশন হয়। এগুলোর যে মিউজিক তা করা প্রচন্ড কঠিন। অ্যানিমেশন তৈরি করা যেমন কঠিন তার মিউজিক করাটাও অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। কারণ অ্যানিমেশনে সিনেমার মিউজিক চলে না, অ্যাডের মিউজিক চলে না, সেখানে ডকুমেন্টরি মিউজিক চলে না। সেটা পুরো আলাদা চিন্তা ভাবনার বিষয়। অনেকে ক্যারেক্টর মিউজিক তৈরি করতে বলেন। সেক্ষেত্রে দুটো ক্যারেক্টর যখন কথা বলছে তখন সেই দৃশ্যের ব্যাকগ্রাউন্ডে যে মিউজিক চলছে তার টাইমিং-এর একটা ব্যাপার থাকে। এরকম অসংখ্য ছোট ছোট বিষয় মাথায় রাখতে হয়। আমিও প্রথমদিকে যে সব ঠিক করতাম তা নয়। কাজ করে বারবার দেখতাম। একটা কাজ করে আমি দুদিন দেখতাম না। তিনদিনের দিন আবার দেখতাম তখন অনেক ভুল বেরোত। আমার নিজেরই পছন্দ হতো না। আর একটা ব্যাপার যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি নিজেকে দর্শক হিসাবে না দেখছি, ততক্ষণ আমি নিজের কাজকে বিচার করতে পারবো না। আর আমি চাই সবসময় নিজেকে চ্যালেঞ্জের সামনে ফেলতে। কারণ কষ্ট না করলে তো কিছু পাওয়া যায় না। যেমন আমি একটা গান করলাম, গানটা হিট হয়ে গেল। কিন্তু গানটার নেপথ্যে যে জার্নিটা সেটা যদি তৈরিই না হয়... যেমন আমার এই 'নন্দিনী-র কাজের ক্ষেত্রেই প্রায় দশ নম্বর টিউনটা আমার লক হয়েছে। গান কম্পোজ করছি করে পাঠাচ্ছি বা অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রেও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কম্পোজ করে পাঠাচ্ছি, ডিরেক্টর বা সেই কোম্পানি বললো এটা ঠিক ভালো লাগছে না। তো আবার কম্পোজ করে পাঠালাম, সেটাও পছন্দ হচ্ছে না। এইভাবে হতে হতে একটা কাঠামো (structure) তৈরি হবার পর finally বেশ কিছুটা লং জার্নির পর গিয়ে শেষে যেটা তৈরি হলো সেটা একটা satisfactory কাজ হলো। এইভাবেই আমার কাজ করা আস্তে আস্তে।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ বাংলা এবং বাংলার বাইরে সংগীত জগতে আপনাকে কে বা কারা বেশি অনুপ্রাণিত করেন?

শুভদীপঃ ওভাবে আলাদা করে কারোর নাম করা যায় না। এদেশ বিদেশ মিলিয়ে প্রায় সকলেই।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল সৃষ্টির কাজ কবে থেকে শুরু করলেন?

শুভদীপঃ বিজ্ঞাপনের কাজ করতে আমার বরাবরই পছন্দ। কারণ ছোটবেলায় আমি খুব অ্যাড দেখতাম ওই নিরমা, বাজাজ, ব্রিটানিয়া এইসব নব্বইয়ের দশকের যেসব অ্যাডগুলো খুব ভালো লাগতো। আর শুধু আমি কেন ওইসব অ্যাডগুলো এতটাই নস্টালজিক যে আজও সবার মনে গেঁথে আছে। জিঙ্গলের কাজের মূল চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে খুব কম সময়ের মধ্যে একটা ভালো মিউজিক তৈরি করতে হবে। প্রথমদিকে আমি কলকাতার অনেক খাদ্যসামগ্রী যেমন বিস্কুট, ঘি, মাখন, জ্যাম, জেলি বিক্রি করে এমন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মিউজিক দিয়েছি। আস্তে আস্তে জাতীয় স্তরে কাজ করতে করতে অনেককিছু শিখতে পেরেছি। তারপরে বেশ কিছু কাজ মানুষের চোখে পড়ে। পরবর্তীকালে তারা আমাকে অ্যাপ্রোচ করেন। ওইভাবেই আমি প্রথম যে বিজ্ঞাপনে মিউজিক দিই সেটা হচ্ছে Supra Pen - তাদের বিজ্ঞাপনগুলোতে আমি কাজ করি। এটা আমি বলছি ২০২০ সালের কথা। কোভিডের সময়। আমরা যখন ২০০৮-০৯ থেকে স্ট্রাগলটা শুরু করেছি সেই সময় আমার প্রথম অ্যালব্যাম... আমি প্রায় একমাস ধরে রোজ মিউজিক ওয়ার্ল্ডে গিয়ে মানুষকে বলতাম, এটা আমার অ্যালব্যাম আপনি কিনে শুনুন... এটা তখনকার সময়ে শুধু আমি কেন প্রত্যেকেই এটা করেছে। কারণ তখন তো সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। ফলে প্রায় প্রত্যেকেই মিউজিক ওয়ার্ল্ড, প্ল্যানেট এম বা সিম্ফনি এসব জায়গায় গিয়ে সিডি পাওয়া যাচ্ছে কিনা গিয়ে খোঁজখবর করতাম। শেষ হয়ে গেলে কোম্পানিতে ফোন করে বলতাম যে সিডি শেষ হয়ে গেছে, ওরা আবার পাঠিয়ে দিত। এগুলো চলতো। এমনকি এ নিয়ে শিয়ালদহ বা চাঁদনির মার্কেটে যেখানে খোলা বাজারে সিডি বিক্রি হয় সেখানেও নিজেকেই ছোটাছুটি করতে হয়েছে। তখন যারা যারা আজ প্রতিষ্ঠিত তারা প্রত্যেকেই নিজের লড়াইটা করেছে। তখন তো সিডির যুগ। ভাবলে অবাক লাগে আমি ঐ ট্রান্সফরমেশনটা দেখেছি ক্যাসেট সেখান থেকে সিডি আবার সেখান থেকে পুরোপুরি ডিজিটাল। ২০২০-র পর বিজ্ঞাপনের জগতে আমার বড় ব্রেক Lux Cozi-র অ্যাড। ওখানে সৌরভ গাঙ্গুলি ছিলেন। আমি যেহেতু Zee-তে আছি তাই 'দাদাগিরি'-র মিউজিক খানিকটা করেছি। ওঁনার সঙ্গে কাজের সূত্রে তাই অনেকদিন ধরেই আমার আলাপ। এটা আমার একটা বড় পাওয়া। আর সবথেকে বড় কথা সৌরভ গাঙ্গুলির সাথে আরও বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে আমি কাজ করেছি। উনিও কিন্তু কেন জানি না আমার টিউনগুলো পছন্দ করেন। পরে অন্যের মারফৎ জেনেছি উনি অনেক জায়গায় বলেওছেন সেকথা যে মিউজিক শুভদীপই করুক ইত্যাদি। খুব সম্প্রতি দাদার একটা এলইডি কোম্পানির সঙ্গে কাজ হলো। ওটারও মিউজিকটা আমি করেছি। রেকর্ডিংটা করলাম দাদার বাড়িতে গিয়ে। আরেকটা বড় অ্যাডের কাজ করলাম আমাদের অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ওই উদ্যোগটা endorse করেন সেটার নাম হচ্ছে টেম্পল টাচ (Temple Touch)। ওটা বয়স্ক মানুষদের বিশেষ করে যারা একলা থাকেন তাদের কাছে একটা খুব জনপ্রিয় ভারতের যে কোনো মন্দিরে পুজো দেবার অ্যাপ।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল তৈরির ক্ষেত্রে লিরিক্স নাকি সুর কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জিং?

শুভদীপঃ দুটোই চ্যালেঞ্জিং। আমি যদি ভালো লিরিক পেয়ে যাই খারাপ সুর করাটা তো সম্ভব না, অন্যদিকে যদি ভালো টিউন হয়ে যায়... এবার দুজনের ওপর চ্যালেঞ্জটা দু'রকম থাকে। আমি যখন সুরকার হিসাবে সুর করছি সেখানে সুর দেওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ অপরদিকে... গানের ক্ষেত্রে দু'রকম হয় সাধারণত কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের কাজে লিরিক আগে কনসেপচুয়ালি চলে আসে সেখান থেকে টিউন করা। কাজটা খুবই মজার। আগে সুর করলে আমার মনে হয় যে সুরটা আমি আমার মতো করে দিয়েছি লিরিসিস্ট তাতে সুন্দর করে লেখা বসাবে। ব্যাপারটা হচ্ছে আমি ছবিটা এঁকে দিলাম লিরিসিস্ট তাতে রঙ ভরল। আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে লিরিক আগে হয়ে থাকে পরে আমি তাতে সুর দিলাম। সেক্ষেত্রে অনেক সময় আমার মনে হয় কিছু কিছু কথার সাথে এই সুরটা যাচ্ছে না, তখন লিরিসিস্টকে বলি এই জায়গায় আমি একটু পরিবর্তন করছি তুমিও করে দাও। দুটোই খুব ইন্টারেস্টিং। আমি দুটোই করি। ধরা যাক লিরিসিস্ট একটা কথা লিখল, সেই কথাটা ওখানে খুব সুন্দর যাচ্ছে কিন্তু সুরের সাথে মিশছে না। তখন আমি কথার মতো করে ওই টিউনটাকে একটু ভেঙে দিই। এই ভাঙাগড়াটা চলতেই থাকে। শেষে গিয়ে ওটা একটা পরিপূর্ণতা পায়।

অনেকক্ষেত্রে এরকমও হয়েছে পুরো গান ফাইনাল হয়ে গেল, গানের রেকর্ডিং স্টুডিও বুকিং হয়ে গেল, সিঙ্গারকেও বলা হয়ে গেছে... হঠাৎ মনে হলো না লিরিকটা ভালো লাগছে না। তখন আবার লিরিসিস্ট-এর সাথে সময়ের মধ্যে বসে... কারণ আমাকে তো একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজেক্টটা শেষ করতে হবে। একটা উদাহরণ দিই জি বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশের থিম মিউজিক দিয়ে যেটা আমি ওদের পাঠিয়েছিলাম। তখন আলোচনা চলছে। আমি একটা প্রাথমিক সুর করেছিলাম। সেটা দিয়ে পুরো টিম শ্যুটিং করে এলো। পরে যখন শ্যুটিং ফুটেজগুলো আমার কাছে এলো, যখন আমি ভিডিওটা দেখলাম তখন দেখলাম দৃশ্যায়নের সাথে আমার করা গানটা যাচ্ছে না। তখন আমি পুরো ভিডিও দেখে টিউনটাকে বানালাম। অবশ্য আগের সুরটা ওদের ভালো লেগেছিল। ওরা ওটা লক করেছিল। আমি যখন চেঞ্জ করলাম তখন ওরা শুরুতে একটু আপত্তি করলেও পিকচারাইজেশনের সাথে পুরোটা দেখার পর সবাই প্রশংসা করল।

সিনেমার কাজ যখন করি তখন তার স্ক্রিপ্ট পড়া হয়। গানটা নিয়ে ডিরেক্টর, কোরিওগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান, প্রোডাকশন ডিজাইনার আমরা সবাই বসি। একে অন্যের ভাবনার আদানপ্রদান করি। এবার পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে যখন পরিষ্কার হয় তখন আমি ওর মধ্যে আমার ভাবনাটা তৈরি করি... কম্পোজিশনটা কেমন হবে ইত্যাদি। সেটা যেমন সুবিধা হয় অন্যদিকে ওই বাংলাদেশের কাজটায় একটা দেশকে যখন রিপ্রেজেন্ট করতে হয় সেটা একটা খুব বড় দায়িত্বের বিষয়। তখন আমরা শ্যুটিং করতে গিয়ে যেটা ভাবছি সেটা পেলাম কি পেলাম না এই ব্যাপারগুলো থাকে। অনেকক্ষেত্রে আবহাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেটা হবার পর যখন ফাইনাল ছবিটা আসে সুরটা অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে ওই শেষে যেটা তৈরি হয় সেই কাজটা মানের দিক থেকে খুবই ভালো হয়। কারণ শেষ অবধি আমাদের কাজটাই থেকে যাবে।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ ভালো লিরিক্স লেখা হলে কি সুর দেওয়াটা সহজ হয়ে যায়?

শুভদীপঃ ভালো লেখা পেলে ভালো সুর এমনিই এসে যায়। আমি তো সবসময় চাই ভালো লেখা হোক। যাঁরা লিখতে পারেন তাঁরা এগিয়ে আসুক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ই তাঁদের উৎসাহ দিই।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ বাংলায় থেকে বাংলার বাইরে কাজ করতে বেশি আগ্রহী নাকি সেরকম কাজের সুযোগ সুবিধা পেলে বাংলার বাইরে থেকে কাজ করতে আগ্রহী?

শুভদীপঃ এখন গানের জগতে বাংলার বাইরে কাজ মানেই বম্বে যেতে হবে - ওই ব্যাপারটা আর নেই। তবে এটা ঠিকই বাংলার বাইরে গেলে কমিউনিকেশনের মাধ্যম হিসেবে হিন্দি ভাষাটা ব্যবহার হয় বেশি। এখন আমার মতে সব ল্যাঙ্গুয়েজই ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ। আর কাজের ক্ষেত্রে আমি একটা রিজিওনাল টিউন বানাবো সেরকম তো হয় না। এখনকার বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন রাজ্যে প্রচারের কথা চিন্তা করে আলাদা আলাদা ভাষায় ডাবিং করা হয়। সেক্ষেত্রে মিউজিকটা তো আমাকে সেই লেভেলই বানাতে হবে যাতে তার অ্যাপিলটা সব জায়গায় সমান শোনায়। আর এখন অনলাইন হয়ে যেটুকু বাধা ছিল সেটাও ভেঙে গেছে। একজন বাঙালি হিসাবে আমি তো চাইবো আমার ভাষাটাকে প্রাধান্য দিতে। তবে আমি শুধুমাত্র যে বাংলায় বা হিন্দিতেই কাজ করেছি তা নয়। আমি ওড়িয়াতেও প্রচুর TVC-র কাজ করেছি। টিভি শো-র কাজ করেছি। খুব সম্প্রতি আমি Zee Odia-য় যেটার নাম Zee Sarthak ওখানে আমি Rajo Queen নামে একটা রিয়েলিটি শো, যেটা আমাদের এখানকার 'দিদি নাম্বার ওয়ান'-এর মতো, ওটার এ' বছরের মিউজিকটা আমি করেছি। গানের তো কোনো ভাষা নেই। সেক্ষেত্রে আমি আমার মতো গানটা করেছি। তারপর লিরিসিস্ট-এর সাথে বসে ওড়িয়ায় সেটাকে কনভার্ট করা এসব হয়েছে। আর ডালমিয়া সিমেন্টের সমস্ত কাজ আমি করি। ওদের বিজ্ঞাপনের কাজ বাংলা, হিন্দী, ওড়িয়া, অহমিয়া, তেলুগু এই পাঁচটা আঞ্চলিক ভাষায় আমি করেছি। সুতরাং সারা বছর ধরেই নানান আঞ্চলিক ভাষায় এখন কাজ হয়।

বাংলার বাইরে থেকে কাজ করা আর বাংলায় বসে বাইরের কাজ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য এখন আর নেই। আগে যেটা হতো কোনো অন্য রাজ্যের কাজ এলে আমাকে ওখানে গিয়ে উপস্থিত থেকে কাজটা করতে হতো। কিন্তু এখন তো অনলাইন হয়ে গেছে। সুতরাং আমি আমার কলকাতার স্টুডিওয় বসেই এখন প্রচুর বাইরের কাজ করি। আমাদের সোনি, জি বা স্টারের অনেক সিরিয়াল বা রিয়েলিটি শো-এর কাজ আমি করি, আমাকে সবসময় যেতে হয় না। এটাই আমার স্টুডিও এখানে বসেই ওরা আমাকে অনলাইনে পাঠিয়ে দেয় আমি আমার মতো কাজ করে ওদের অনলাইনেই পাঠিয়ে দিই। আর শুধুমাত্র আমি নই। এখনকার অনেক প্রোথিতযশা সংগীত পরিচালকরাও বম্বেতে বসে এভাবেই কাজ করছেন। আর কলকাতাটা একটা এমনই জায়গা... আমার শহর বলে বলছি না... এখানে ভালো মিউজিশিয়ানস আছে, ভালো প্রতিভা আছে। সুতরাং এখন চেন্নাই-এর কাজ কলকাতায় হচ্ছে। মুম্বই-এর কাজ তো বহুদিন ধরেই কলকাতায় হচ্ছে। এখন মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি তো বাঙালিতেই ভর্তি। আমি যখন বাইরে কোনো অনুষ্ঠান বা অ্যাওয়ার্ড সেরিমনিতে যাই তখন চারদিকে শুধু বাংলাই শুনি। মনেই হয় না আমি কলকাতার বাইরে কোথাও আছি। সম্প্রতি দুবাই-এর আবু ধাবিতে যে IIFA Award-এর অনুষ্ঠানটা হল সেখানে বেস্ট লিরিসিস্ট-এর পুরস্কার পেলেন অমিতাভ ভট্টাচার্য, বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর প্রীতম, বেস্ট মেল সিংগার হল অরিজিৎ সিং, বেস্ট ফিমেল সিংগার হল শ্রেয়া ঘোষাল... সবাই তো বাঙালি। সুতরাং বাঙালি সর্বত্রই রয়েছে। ওইভাবে আলাদা করা খুব মুশকিল।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ গানের সুরকার হিসাবে কিভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটলো?

শুভদীপঃ আমি বরাবরই চেয়েছিলাম নতুন কিছু করতে। আমি সাধারণত কভার মিউজিক করি না। আমার ইউটিউব চ্যানেলেও খুঁজলে খুব একটা কভার কেউ পাবে না। আমার অরিজিনাল গানই পাবে। আর আমি গান তৈরির ক্ষেত্রে একটু সময় নিয়ে ভালো করে ভাবনাচিন্তা করে করার চেষ্টা করি বলে দুটো গানের মধ্যে একটু গ্যাপ হয়ে যায় গান রিলিজ করার ক্ষেত্রে। আমি সবসময়ই লাইভ মিউজিকশিয়ান নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। গানের জগতে এখন তো প্রোগ্রামিং হয়, এই কি-বোর্ডেও বাঁশি, গিটার এসব বাজানো যায়। আমার এগুলো ভালো লাগে না। কোনো ফ্লুট প্লেয়ারকে যদি বলা হয় আপনি বাঁশিতে পিয়ানোটা একটু বাজাবেন! এটা কখনোই সম্ভব নয়। আর হাজার হোক কি-বোর্ড একটা যন্ত্র। যন্ত্র কখনওই লাইভ মিউজিকের জায়গা নিতে পারে না। সেক্ষেত্রে একটা সূক্ষ তফাৎ কানে ধরা পড়বেই। যতই আমরা ওটাকে শ্রুতিমধুর করার চেষ্টা করি না কেন। সেই ভাবটাই সুরের মধ্যে আসবে না। এই তফাৎটা বেশি বোঝা যায় আমাদের বাংলার ঢাকের আওয়াজে। সরাসরি ঢাকের আওয়াজ শোনা আর যন্ত্রে শোনা দুটোর মধ্যে কয়েক যোজন তফাৎ। সুর তো একটা অনুভূতির ব্যাপার, সেটা যদি কারোর হৃদয় স্পর্শই না করে তাহলে সেই সুর তৈরি করে লাভ নেই।

এই সূত্রে একটা ছোট ঘটনার কথা আমার মনে পড়ছে। বহু বছর আগে আমাদের একটা নাটকের গ্রুপ ছিল 'নির্মোঘ' বলে। তাদের একটা বাৎসরিক অনুষ্ঠানে আমার বাবা একটা কবিতা লিখে দিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন চেষ্টা কর এটাতে একটা সুর দেবার। সেই প্রথম আমি গানটা আমার একজন বন্ধুকে দিয়ে গাইয়েছিলাম আর আমি ছিলাম কি-বোর্ডে। ওই প্রথম আমার সুর করা। একসময় গানটা শেষ হবার পর যখন দেখলাম বেশ তালি পড়লো মনে একটা উৎসাহ পেলাম। তখন ভাবলাম হয়ত পারি। তারপর যত দিন যেতে লাগলো ধীরে ধীরে কম্পোজ করলাম। অনেক অভিজ্ঞতা হল। তখন আরেকটা জিনিস করতাম যখন বারবার ভাবনাটা মাথায় আসছে সুর করব কি করে... সুর করতে গেলে তো লেখা দরকার, তখন সেই সময়ের যেসব হিট গান তার লিরিকগুলোকে নিয়ে আমি আমার মতো করে সুর করতাম। তখন বাংলা হিট গানের লিরিকের ছোট চটি বই পাওয়া যেত। এখন বোধহয় আর পাওয়া যায় না। এখন তো ইন্টারনেটে সার্চ করলেই যে কোনো গানের লিরিক চলে আসে। তো ওইভাবে প্র্যাকটিস করতাম। ক্রিকেটে শ্যাডো প্র্যাকটিস-এর মতো। ওইভাবেই আমার আস্তে আস্তে সুরের জগতে আসা।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ ওটিটি প্লাটফর্মে কাজের সুযোগ ঘটল কিভাবে?

শুভদীপঃ ওটিটি প্লাটফর্মে SVF-এর Hoichoi-তে অনেক কাজ করেছি। ওখানে আমি ছিলাম মূলত সাউন্ড ডিজাইনার ও মিউজিক অ্যারেঞ্জার হিসাবে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে কাজ করতে আমি বরাবরই পছন্দ করি। আমি একসময় অনেক নাটকেরও আবহসংগীত করেছি। নাটকের মিউজিকটাও কিন্তু খুব চ্যালেঞ্জিং। ওখানেও একটা টাইমিং-এর ব্যাপার আছে। স্কুলে থাকতে ওগুলো অনেক করেছি। ওখানে কোনো নাটক হলেই আমার ডাক পড়ত। আমি আমার কি-বোর্ড নিয়ে ছুটতাম। তারপর আস্তে আস্তে নাটকে সরাসরি না বাজিয়ে মিউজিক রেকর্ড করা শুরু করলাম। কলকাতার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত নাটকের গ্রুপ আছে যাদের জন্য আমি এখনও নাটকের আবহসংগীত করি।

আমার ছোটবেলায় বাবা নাটক করতেন, দিদি নাটক করতো। আমি ক্লাস ফোরে যখন পড়ি তখন থেকেই পিয়ানো বাজানোর পাশাপাশি নিয়মিত নাটকেও অভিনয় করতাম। প্রায় সারাবছর ধরেই এই নাটকে অভিনয় করাটাই পরবর্তীকালে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করার ক্ষেত্রেও প্রভূত সাহায্য করেছে। যখন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করি তখন সিন ফাঁকা থাকে। সেখানে অভিনেতারা থাকে, সংলাপ থাকে কিন্তু মিউজিক থাকেনা। ফিল্ম মিউজিকে অভিনেতাদের অভিনয়টা বুঝে সেটার ইমোশনটা ফিল করে সেই অনুযায়ী মিউজিক দেওয়াটা খুবই কঠিন একটা কাজ। ওই অভিনয়গুলো দেখে আমি যদি অ্যাকটিংটা relate করতে না পারি তাহলে তো আমি মিউজিক কম্পোজ করতেই পারবো না।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ বর্তমানে শ্রোতাদের মধ্যে একটা ধারা (trend) লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে তাদের একটা অংশ বিশেষ করে ইয়ং জেনারেশন, তারা এখন জনপ্রিয় সিনেমার গানের থেকেও তার আবহসংগীত বা ধরুন থিম বেশি শুনছে? ইউটিউবে তো দক্ষিণী সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ভিউ অনেক বেশি। এটা কেন?

শুভদীপঃ মানুষ এখন ভালো মিউজিক শুনছে। সেটা শুধুমাত্র দক্ষিণী মিউজিক নয়। আমাদের দেশে এই ধারাটা শুরু করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। ফেলুদা মানেই তো আমরা ফেলুদার ওই থিম মিউজিকটা relate করি। ওটা একটা evergreen hit, সারাজীবন থাকবে। যেমন পন্ডিত রবিশঙ্কর-এর তৈরি করা পথের পাঁচালী-র থিম। ওটা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে থেকে গেছে। কিছু কিছু থিম মিউজিক তৈরি হয় যেগুলো মানুষের মনে থেকে যায়। সেগুলো গানের মতোই হিট করে যায়। 'শোলে'র যে সেই হারমোনিকার টিউন যেটা মিলন গুপ্ত বাজিয়েছিলেন। বা 'শোলে'র যে থিম... এখনও মিউজিশিয়ানরা অনেক অনুষ্ঠান শুরু করেন ওটা বাজিয়ে। ওই কাজগুলো থেকে গেছে। এটা আমাদের ক্ষেত্রেও হয়, আমরা যখন ভাবি কোনো মিউজিক তৈরি করবো যেটা শুনলে মানুষ যেন বুঝতে পারে হ্যাঁ এটা মানে কোনো একটা বিশেষ কিছু। যেমন ব্রিটানিয়া বা এয়ারটেল এগুলোর থিম শুনলেই মানুষ বুঝতে পারে এটা মানেই হচ্ছে এটাই। 'নন্দিনী'-র থিমটাও কিন্তু একদম ওইরকম। 'নন্দিনী' তো একজন মা আর তার অনাগত শিশুর গল্প নিয়ে তৈরি, ওটা সায়ন্তনী পূততুন্ডু-র একটা বেস্ট সেলিং উপন্যাস, ওখানে আমি চেষ্টা করেছি একটা হার্মিং মানে ঘুমপাড়ানি এফেক্ট দিতে অনেকটা লালাবাই টাইপের।

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ আপনি যখন যন্ত্রসংগীতে (instrumental) কোনো সুর দেন, সেই সুর দেবার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য সংগীতের প্রভাব কতটা?

শুভদীপঃ আমার ঘরানাটা হচ্ছে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল আর ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যালও আমি শিখেছি। আমি যদি একটা ফোক গান কম্পোজ করি বা একটা ভজন কম্পোজ করি ভজন মানেই যে খোল বা তবলা বাজতে হবে এটা তো কোথাও লেখা নেই। একটা ড্রামস বাজিয়েও ভজন করা যায়। কিন্তু সেটা কিভাবে আমি রিপ্রেজেন্ট করছি পুরো ব্যাপারটাকে যাতে গানটা শুনতে শ্রুতিমধুর হবে। এইসব এক্সপেরিমেন্টগুলো করতে করতেই একসময় একটা ভালো কিছু বেরিয়ে আসে। এখন শুধু টেকনোলজি পাল্টেছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে সাউন্ড পাল্টেছে। কিন্তু ওভারঅল মিউজিকটা তো একই। একটা পুরোনো গান আমি যদি নতুন করে গাই। সেক্ষেত্রে জিনিসটা একটু মডার্নই মনে হবে। এটা সত্যজিৎ রায়ের মধ্যেও ছিল। He was highly influenced by western classical music.

ডটপেন ডট ইন-এর প্রতিনিধিঃ ইদানিং দুর্গাপুজোর সময় ব্যাকগ্রাউন্ড থিম বা আবহসংগীত খুব জনপ্রিয় হয়েছে। সে বিষয়ে যদি কিছু বলেন?

শুভদীপঃ দুর্গাপুজোর সময়টা বিশেষ করে আমার ক্ষেত্রে বেশ লাকি। কারণ ওই সময়টায় মানুষের মধ্যে বেশ একটা এনার্জি থাকে - নতুন কিছু শুনবো দেখবো এসব নিয়ে। আর আমার বেশ কিছু কাজ পুজোর সময়ই বেরিয়েছে। লোকের ভালো লেগেছে প্রশংসা পেয়েছে। আর বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের জন্য আমার করা বেশ কিছু থিম মিউজিক সবার নজর কেড়েছে। পুজোর থিম মিউজিক তৈরি করার ক্ষেত্রে ভাবার বা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে। কোনো মানুষ যখন প্যান্ডেলে ঢুকবে কিছুক্ষণের জন্য তাকে পুরোপুরি একটা অন্য জগতে নিয়ে যাওয়া এ জিনিস শুধুমাত্র অনুভব করার। কোনো প্যান্ডেলে মানুষ আর কতক্ষন থাকে, কিন্তু ওই সময়টুকুতেই মানুষকে যদি একটা রিলিফ দেওয়া যায় সেটাই তাদের আনন্দটাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেনঃ প্রদীপ ধর
প্রযুক্তি সহায়তাঃ গৌরব মুখার্জি
চিত্রঋণঃ অন্তর্জাল ও শুভদীপ সরকার-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত।
______________________________
শুভদীপের সেরা কিছু সৃষ্টিসম্ভারের লিঙ্কঃ

Zee Bangladesh Theme Music
আমার বাংলা জি বাংলা - Promo
Temple Touch - Prarthana Dil Se
Self Love - Holi
Supra Pens


Tags:
#SubhadeepSarkar #MusicDirector #SubhadeepSarkarMusician #BackgroundMusicianSubhadeepSarkar #SupraPens #TempleTouch #PrarthanaDilSe #Rituporna Sengupta #OnlinePujaServices #LuxCozi #SouravGanguli #SouravGangopadhyay #Dada #Maharaj #PrienceOfKolkata #ZeeBangla #Dadagiri #AddaTimes #AddatimesOriginals #WebSeries #IndianWebSeries #Nandini #নন্দিনী #SayantaniPutatunda #NandiniWebSeries #BengaliWebSeries #RitabhariChakraborty #OriginalMusic #OriginalScore #ZeeBangladesh #Bangladesh #BengaliSong #ZeeOdia #ZeeSarthak #RajoQueen #DalmiaCement #Music #MusicComposer #MusicArranger #Lyrics #Lyricist #AdJingle #Advertisement Jingle #JingleArtist #BengaliMusicDirector #BengaliMusicComposer #MusicDirectorFromBengal