সংস্কৃতি ও বিনোদন
-
২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস

ইউনেসকোর তত্ত্বাবধানে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট আহূত ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ, গণনাট্য সংঘ পশ্চিমবঙ্গ,ক্রান্তি শিল্পী সংঘ, ভারতীয় গণসংস্কৃতি সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ গণসংস্কৃতি পরিষদ,সংস্কৃতি সমন্বয়, পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ও লোকশিল্পী সংঘ, ভারতীয় লোক সংস্কৃতি সংসদ,জনবাদী লেখক সংঘ, গ্ৰুপ থিয়েটার পত্রিকা, পশ্চিমবঙ্গ ছোটোপত্রিকা সমন্বয় সমিতি এবং ভাষা ও চেতনা সমিতি সহ অন্যান্য নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে শিয়ালদহ জগৎ সিনেমা হলের সামনে থেকে রামমোহন লাইব্রেরি মঞ্চ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অসংখ্য মানুষ সমবেত হন।
আমেরিকার বিশিষ্ট নাট্যবেত্তা উইলেম জেমস ড্যাফো থিয়েটারের শক্তির উপর আস্থা রেখেছেন এবং থিয়েটার যে নিছক বিনোদন নয়, থিয়েটার প্রশ্ন করুক – এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে এবারে বিশ্ব নাট্য দিবসের বাণী রচনা করেন। তা পাঠ করেন ঊর্মিমালা বন্দ্যোপাধ্যায়।


অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিতব্যক্ত করে স্বাগত ভাষণ দেন রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক মেঘনাদ ভট্টাচার্য।তিনি বলেন, বামপন্থায় আস্থা রেখে নাট্যকর্মীদের নাটক করতে হবে, নির্ভয়ে নাটকে প্রশ্ন রাখতে হবে কেন-না নাটকই নাট্যকর্মীদের জীবন, বেঁচে থাকার প্রাণন।
প্রধান অতিথি অভিনেত্রী মানসী সিনহা বলেন, শিরদাঁড়া বিক্রি না-করে নির্ভয়ে নাট্যকর্মীদের থিয়েটার করতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট পরিচালক ও অভিনেতা অশোক মুখোপাধ্যায় বলেন, থিয়েটারের আন্তর্জাতিকতা রাজনৈতিক দর্শনের সাথে যুক্ত এবং থিয়েটার মানুষের মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার।




অনুষ্ঠানে নাট্যব্যক্তিত্ব বাদল সরকার-এর নাটকের গান পরিবেশন করেন অতনু মজুমদার। গড়িয়া সুচর্চা পরিবেশন করে 'আজও নিষাদ', উহিনী কলকাতা 'একটি মোরগের কাহিনী' নাটক অভিনয় করে, পুরোগনামা কলাসাহিত্য সঙ্গম উপস্থাপনা করে মালয়ালম ভাষায় সংগীত নৃত্যনাট্য, ক্রান্তি শিল্পী সংঘ পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথ-এর 'কর্ণকুন্তী সংবাদ'।
প্রতিবেদক: অমল কর
-
কলকাতায় ২১ মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবস

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কবি, বহু গ্ৰন্থপ্রণেতা, অধ্যাপক আশিস সান্যাল প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল বেঙ্গলি পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যাল (ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যাল নামে সমধিক খ্যাত) আয়োজিত ইউনেসকো ঘোষিত ২১ মার্চ বিশ্ব কবিতা দিবস পালিত হলো কলকাতার হেমন্ত ভবনের বিপ্লবী লীলা রায় সভাঘরে।
পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে বর্ণময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব কবিতা দিবস। সূচনা সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী সুচরিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব কবিতা দিবসের বাণী পাঠ করেন বিশিষ্ট কবি ও বাচিকশিল্পী রজত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাগত ভাষণ দেন সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি অমল কর। তিনি বলেন, বিস্ময়ের বিস্ময়, শুধুমাত্র কবিতার জন্য ইউনেসকো একটা দিন ঘোষণা করেছে। কবিতা লিখনেওয়ালা আমি তাই গর্বিত। তিনি আরও বলেন, এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ প্রয়াত কবি আশিস সান্যাল বিশ্ব কবিতা উৎসব সংগঠিত করেন সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী কবিদের সম্মিলনের জন্য । তিনি জানান, কবি আশিস সান্যাল চেয়েছিলেন বাংলা তথা ভারতীয় ভাষায় নির্মিত রচনা অনূদিত হয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক। পাশাপাশি, সারাবিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষীর লেখা বাংলা ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হোক। তিনি রাজ্যের প্রথম শ্রেণির বিভিন্নমঞ্চে একাদিক্রমে দশবছর,প্রতিবছর চারদিনব্যাপী কবিতা পাঠ, সেমিনার, সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশনের ব্যবস্থা করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভাষাভাষী কবিদের পাশাপাশি ভারতীয় কবিদের মহতী এই সম্মিলনে প্রায় ৪০০ জন কবি ও কবিতাপ্রেমী মানুষ প্রতিবছর অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবছর ইংরেজিতে একটি গুণমানে সমৃদ্ধ স্মরণিকা প্রকাশিত হতো, যেখানে অংশগ্ৰহণকারী কবিদের কবিতা প্রকাশিত হতো নান্দনিক প্রচ্ছদে। তিনি আরও জানান,এই রাজসূয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সাথে এতবছর কাজ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও অত্যন্ত শ্লাঘা বোধ করছি।
প্রয়াত কবি আশিস সান্যাল-এর স্মৃতিচারণ করেন কবি-তনয়া বিশিষ্ট লেখিকা শিক্ষিকা ও কলকাতা দূরদর্শনের সংবাদ পাঠিকা দূর্বা ভট্টাচার্য। তিনি কবির ব্যক্তিজীবন অধ্যাপনা আর সাহিত্য জগতের অনেক অজানা দিক তুলে ধরেন।



বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রীতি সান্যাল, কমল দে সিকদার, উৎপল ঝা ও রামআহ্লাদ চৌধুরি । প্রত্যেকে ইউনেসকোর ভূমিকা ও সাহিত্যে কবি আশিস সান্যাল-এর অবদান বিষয়ে আলোকপাত করে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন।
কবি রামআহ্লাদ চৌধুরী স্বরচিত একটি হিন্দি কবিতা পাঠ করেন।
আবৃত্তি পরিবেশন করেন তিন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী কৃষ্ণপদ দাস, সুস্মিতা দাস ও নন্দিনী লাহা।
সংগীত পরিবেশন করেন পাপিয়া গুহ ও গীতশ্রী অধিকারী। বাংলা হিন্দি ও অসমিয়া ভাষায় প্রায় একশোজন কবি কবিতা পাঠ করেন। উল্লেখযোগ্য কবিরা: অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, লক্ষ্মণ কর্মকার, উদয়ন ভট্টাচার্য, ফটিক চৌধুরী, রথীন কর, সন্দীপ দে, শৈলেন্দ্র শন্ত, পীযূষ বাগচি, সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, চয়ন ভট্টাচার্য, ভবানীশংকর চক্রবর্তী, সুভদ্রা ভট্টাচার্য, অর্চনা পাণ্ডে, অলোক বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিম মাজি, ইতি মণ্ডল, অমল কর, তাপস সাহা, সজল শ্যাম, কমল আইচ, তেজেশ অধিকারী, মৈথিলী মালা বন্দ্যোপাধ্যায়,খগেশ্বর দাস, নন্দিনী সরকার, লিপিকা চট্টোপাধ্যায়, কুশলমৈত্র, শম্পা গুপ্ত, লহরী বড়াল, চক্রবর্তী, মিঠু নাথ কর্মকার, লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য, নমিতা চৌধুরী, উপেক্ষিত শর্মা, রমেশ কর্মকার,দীপালিরায়, সীমা দাশগুপ্ত বিশ্বাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোমা লাহিড়ী মল্লিক সন্দীপ জানা, সত্যজিৎ মণ্ডল, তাপস সাহা, মহঃ শাহবুদ্দিন ফিরোজ, সৃজিতা ভট্টাচার্য, রাহুল চট্টোপাধ্যায়, অনিমেষ রায়, পিনাকী বসু, সোমা মুখোপাধ্যায়, স্মৃতি দাস, পান্না চক্রবর্তী, অনন্যা রায় মুখোপাধ্যায়, মুক্তি বন্দ্যোপাধ্যায়, শংকর সাহা, মধুছন্দা মিত্র ঘোষ প্রমুখ।
এদিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মৈথিলী ইলা দাস, লোপামুদ্রা ভট্টাচার্য, সোমা লাহিড়ী মল্লিক, লিপিকা চট্টোপাধ্যায়, শম্পা গুপ্ত, সৃজিতা ভট্টাচার্য।
প্রতিবেদক: অমল কর